ঢাকা, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

মধ্যবিত্তের চাপে নতুন শঙ্কা, সঞ্চয়পত্রের কর বাড়াল সরকার

২০২৬ জুন ১৩ ১৫:২৩:৫০
মধ্যবিত্তের চাপে নতুন শঙ্কা, সঞ্চয়পত্রের কর বাড়াল সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক: সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর অগ্রিম করের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফা উত্তোলনের সময় ১০ শতাংশ হারে অগ্রিম কর কেটে রাখা হবে। বর্তমানে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ হারে উৎসে কর প্রযোজ্য রয়েছে।

নতুন এ ব্যবস্থার ফলে সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগকারীরা আগের তুলনায় কম মুনাফা হাতে পাবেন। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত, অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং নির্দিষ্ট আয়ের পরিবারগুলোর ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ক্ষেত্রে বিদ্যমান চূড়ান্ত কর দায় ব্যবস্থা বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতদিন মুনাফার ওপর কাটা ৫ শতাংশ করই চূড়ান্ত কর হিসেবে গণ্য হতো। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে অগ্রিম করের হার ১০ শতাংশে উন্নীত হবে।

দেশের বিপুলসংখ্যক মধ্যবিত্ত পরিবার ও পেনশনভোগী তাদের সঞ্চয়ের নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করে থাকেন। অনেকের দৈনন্দিন ব্যয়ও এই মুনাফার অর্থের ওপর নির্ভরশীল। ফলে কর বৃদ্ধি তাদের প্রকৃত আয় কমিয়ে দেবে।

উদাহরণ হিসেবে, পরিবার সঞ্চয়পত্রে সাড়ে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে বর্তমানে বার্ষিক মুনাফার হার ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ। প্রতি এক লাখ টাকার বিপরীতে মাসিক মুনাফা পাওয়া যায় ৯৯৪ টাকা ১৭ পয়সা। ৫ শতাংশ কর কেটে নেওয়ার পর হাতে আসে প্রায় ৯৪৫ টাকা। নতুন হারে ১০ শতাংশ কর কাটা হলে প্রাপ্ত অর্থ ৯০০ টাকারও নিচে নেমে আসবে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর অগ্রিম কর দ্বিগুণ করায় মধ্যবিত্ত শ্রেণির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হবে। তাঁর মতে, অনেক পরিবার সংসার পরিচালনায় এই মুনাফার অর্থ ব্যবহার করে। তাই মধ্যবিত্তকে স্বস্তি দিতে বাড়তি কর আরোপের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা উচিত।

বর্তমানে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের অধীনে চার ধরনের সঞ্চয়পত্র চালু রয়েছে। এগুলো হলো পরিবার সঞ্চয়পত্র, পেনশনার সঞ্চয়পত্র, পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র এবং তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র। পরিবার সঞ্চয়পত্র ছাড়া অন্য সব সঞ্চয়পত্রে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান উভয়ই বিনিয়োগ করতে পারে। মেয়াদপূর্তির ভিত্তিতে এসব সঞ্চয়পত্রে সুদের হার ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত।

তবে এ বিষয়ে শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তনে বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জমান মজুমদার বলেন, ‘এবারের বাজেটে সঞ্চয়পত্র নিয়ে নতুন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।’

কুশল/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে