ঢাকা, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

ফ্লোর প্রাইস উঠতেই বেক্সিমকোর ৫,৬৭০ কোটি টাকা উধাও

২০২৬ জুন ১৭ ২১:১৯:৪৩
ফ্লোর প্রাইস উঠতেই বেক্সিমকোর ৫,৬৭০ কোটি টাকা উধাও

নিজস্ব প্রতিবেদক: ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের পর মাত্র সাত কর্মদিবসে প্রায় ৫ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা বাজারমূলধন হারিয়েছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বেক্সিমকো লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ারদর ধারাবাহিকভাবে পতনের মুখে পড়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

বেক্সিমকো গ্রুপের প্রধান এই কোম্পানির শেয়ারদর বুধবার ৫২ টাকা ৮০ পয়সায় নেমে আসে, যা দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে বহাল থাকা ১১০ টাকা ১০ পয়সার ফ্লোর প্রাইস থেকে প্রায় ৪৭ শতাংশ কম।

গত ৯ জুন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) বাজারভিত্তিক দর নির্ধারণ ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বেক্সিমকো ও ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েকটি বড় কোম্পানির শেয়ারের ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার করে। এরপর থেকেই বেক্সিমকোর শেয়ারে টানা দরপতন শুরু হয়।

একই সময়ে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও বেক্সিমকোর ক্ষেত্রে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। প্রায় প্রতিদিনই শেয়ারটি সর্বনিম্ন দরসীমা বা লোয়ার সার্কিট ব্রেকারে অবস্থান করছে, অথচ বাজারে উল্লেখযোগ্য কোনো ক্রেতা দেখা যাচ্ছে না।

বাজার তথ্য অনুযায়ী, গত সাত কর্মদিবসে আতঙ্কিত বিনিয়োগকারীরা কোটি কোটি শেয়ার বিক্রির জন্য অর্ডার দিলেও লেনদেন হয়েছে এক লাখের কিছু বেশি। ফলে শেয়ারটিতে তারল্য সংকটও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান কারাবন্দি হওয়ার পর থেকেই গ্রুপটির ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড গভীর সংকটে পড়ে। এতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, গ্রুপটির অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ ঋণখেলাপির কারণে বিভিন্ন ব্যাংক আইনি পদক্ষেপও শুরু করেছে।

এর পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক ও আইনি জটিলতাও কোম্পানিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। ২০২৪ সালের শেষ দিকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের নির্দেশনায় বিএসইসি বেক্সিমকো লিমিটেড, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস এবং শাইনপুকুর সিরামিকসে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেয়। তবে এ সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে মামলা করা হয়েছে, যা এখনও বিচারাধীন।

স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের পর থেকে বেক্সিমকো কোনো আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন বা প্রকাশ করতে পারেনি। সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদনে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথমার্ধে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান (ইপিএস) ছিল ৩ টাকা ৭৮ পয়সা।

অন্যদিকে, বেক্সিমকো গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সম্পদ রিসিভারের অধীনে নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দায়ের করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট বাংলাদেশ ব্যাংককে রিসিভার নিয়োগ এবং গ্রুপটির সম্পদ জব্দের নির্দেশ দেয়। পরে আপিল বিভাগও মূলত ওই আদেশ বহাল রাখে, যদিও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসকে এর বাইরে রাখা হয়।

২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত কোম্পানিটির ৬৬ শতাংশের বেশি শেয়ার সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে কোনো আর্থিক হালনাগাদ তথ্য না থাকা, উল্লেখযোগ্য ডিভিডেন্ড না পাওয়া এবং শেয়ারদরের ধারাবাহিক পতনের কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, গ্রুপটির পরিচালনাগত স্থবিরতা, ঋণসংক্রান্ত জটিলতা এবং চলমান আইনি বিরোধের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত বেক্সিমকোর ওপর চাপ অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে কোম্পানিটির দরপতন সামগ্রিক বাজার মূলধনের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে