ঢাকা, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

সংসদে যা বলা যাবে, যা বলা যাবে না—বিধিতে যা আছে

২০২৬ জুন ১৯ ১০:৩৫:৫৪
সংসদে যা বলা যাবে, যা বলা যাবে না—বিধিতে যা আছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন চলাকালে একাধিকবার কার্যপ্রণালী বিধি অনুসরণ না করে সংসদ সদস্যদের বক্তব্য ও আচরণ নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সংসদে কী বলা যায়, কীভাবে বলা যায় এবং কোন পরিস্থিতিতে কোন বিধি প্রযোজ্য হয়—তা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

কার্যপ্রণালী বিধির ৩০১ বিধি অনুযায়ী, পয়েন্ট অব অর্ডার বা বৈধতার প্রশ্ন শুধুমাত্র সংসদের চলমান কার্যসূচি, কার্যপ্রণালী বিধি বা সংবিধানের সংশ্লিষ্ট ব্যাখ্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে হবে। এটি কোনো সাধারণ বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নয়।

কোনো বিষয় পয়েন্ট অব অর্ডার হিসেবে গ্রহণযোগ্য কি না, তা নির্ধারণের ক্ষমতা স্পিকারের। স্পিকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত এবং এ বিষয়ে বিতর্কের সুযোগ নেই।

সম্প্রতি কয়েকজন সদস্য পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে সাধারণ বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করলে স্পিকার তাদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুসরণের আহ্বান জানান।

সংসদে কোনো বিষয় আলোচনা, প্রস্তাব বা সিদ্ধান্তের জন্য সাধারণত পূর্বনির্ধারিত লিখিত নোটিশ দিতে হয়। কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী নোটিশ ছাড়া হঠাৎ কোনো বিষয় উত্থাপন করা সংসদীয় রীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

স্পিকার একাধিকবার সদস্যদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, সংসদ ‘ফ্রি-স্টাইল’ বক্তব্য দেওয়ার স্থান নয়; নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই বক্তব্য দিতে হয়।

সংসদীয় কার্যক্রম চলাকালে সদস্যদের অপ্রয়োজনীয় চলাফেরা, মোবাইল ফোনে কথা বলা বা বক্তব্যদানকারী সদস্যের সামনে দিয়ে হেঁটে যাওয়া শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

এ ধরনের আচরণ সংসদের কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটায় বলে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার বিভিন্ন সময়ে সতর্ক করেছেন।

কার্যপ্রণালী বিধির ৩০০ বিধি অনুযায়ী, কোনো মন্ত্রী জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে স্পিকারের অনুমতি নিয়ে বিবৃতি দিতে পারেন। এ ধরনের বিবৃতির সময় প্রশ্ন বা বিতর্কের সুযোগ থাকে না।

সম্প্রতি একটি বিবৃতিকে কেন্দ্র করে সংসদে বিতর্ক সৃষ্টি হলে ডেপুটি স্পিকার স্মরণ করিয়ে দেন যে, ৩০০ বিধির অধীনে প্রদত্ত বক্তব্যের পর তাৎক্ষণিক প্রশ্নোত্তরের সুযোগ নেই।

কার্যপ্রণালী বিধির ৩০৭ বিধি অনুযায়ী, কোনো বক্তব্যে অশোভন, অশালীন, অবমাননাকর বা সংসদীয় রীতিবিরোধী শব্দ ব্যবহৃত হলে স্পিকার তা কার্যবিবরণী থেকে বাদ দিতে পারেন। এই প্রক্রিয়াকে ‘এক্সপাঞ্জ’ বলা হয়।

জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন কোনো বিষয়ে আলোচনা উত্থাপনের জন্য ৬৮ বিধিতে নোটিশ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে অন্তত দুই দিন আগে লিখিত নোটিশ দিতে হয় এবং আরও পাঁচজন সদস্যের সমর্থন থাকতে হয়।

জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে সংক্ষিপ্ত বিবৃতির সুযোগ দেয় ৭১ বিধি। স্পিকার প্রয়োজন মনে করলে সদস্যদের সীমিত সময়ের জন্য বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি দিতে পারেন।

কোনো বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে সংসদ অধিবেশন বর্জন করে বেরিয়ে যাওয়াকে সংসদীয় চর্চায় ‘ওয়াকআউট’ বলা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে বিরোধী দল ও জোট একাধিকবার ওয়াকআউট করেছে।

সংসদের বৈঠক বৈধভাবে পরিচালনার জন্য ন্যূনতম ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতি প্রয়োজন। এই ন্যূনতম উপস্থিতিকেই কোরাম বলা হয়। কোরাম পূর্ণ না হলে অধিবেশন পরিচালনা করা যায় না।

সরকারি দলের সদস্যদের জন্য নির্ধারিত আসনগুলো ট্রেজারি বেঞ্চ নামে পরিচিত। সাধারণত প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা স্পিকারের আসনের ডান পাশের সামনের সারিতে বসেন।

সংসদীয় গণতন্ত্রে কার্যপ্রণালী বিধি শুধু শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য নয়, বরং সব সদস্যের সমান অংশগ্রহণ ও সুশৃঙ্খল বিতর্ক নিশ্চিত করার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে