ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপ থেকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ—সবখানেই দেখা যায় এই দৃশ্য

২০২৬ জুন ১৬ ১৩:৩০:৩২
বিশ্বকাপ থেকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ—সবখানেই দেখা যায় এই দৃশ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: ফুটবল বা ক্রিকেট ম্যাচ শুরুর আগে একটি দৃশ্য প্রায় সবারই পরিচিত—তারকা খেলোয়াড়দের হাত ধরে ছোট ছোট শিশুরা মাঠে প্রবেশ করছে। বিশ্বকাপ, ইউরো, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ কিংবা বিভিন্ন ঘরোয়া টুর্নামেন্ট—সব জায়গাতেই এই দৃশ্য এখন নিয়মিত। কিন্তু কখনো কি ভেবেছেন, এই শিশুরা কারা এবং কেন তাদের খেলোয়াড়দের সঙ্গে মাঠে নামানো হয়?

এটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; এর পেছনে রয়েছে ইতিহাস, সামাজিক বার্তা এবং নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলার প্রতি উৎসাহিত করার একটি বৈশ্বিক উদ্যোগ।

এই প্রথার সুনির্দিষ্ট শুরুর তথ্য না থাকলেও ধারণা করা হয়, ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে ইউরোপীয় ফুটবলে এটি জনপ্রিয় হতে শুরু করে।

১৯৯৬ সালে ইংল্যান্ডের দুই ক্লাব লিভারপুল ও এভারটনের একটি ম্যাচে খেলোয়াড়দের সঙ্গে শিশুদের মাঠে প্রবেশ করতে দেখা যায়, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এরপর ২০০০ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে প্রতিটি খেলোয়াড়ের সঙ্গে শিশুদের মাঠে নামানো হলে বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি পায়।

তবে বিশ্বজুড়ে এই উদ্যোগ সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে ২০০২ বিশ্বকাপে। সে সময় ফিফা ও ইউনিসেফ যৌথভাবে “Say Yes for Children” বা “শিশুদের জন্য হ্যাঁ বলুন” প্রচারণা চালায়। শিশু অধিকার ও তাদের কল্যাণ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে প্রতিটি খেলোয়াড়ের সঙ্গে একজন শিশু মাঠে প্রবেশ করত।বর্তমানে এই প্রথার পেছনে একাধিক উদ্দেশ্য রয়েছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো খেলাধুলাকে পরিবারবান্ধব পরিবেশে উপস্থাপন করা এবং শিশুদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলা। প্রিয় তারকার হাত ধরে মাঠে নামার অভিজ্ঞতা শিশুদের মনে খেলাধুলার প্রতি গভীর ভালোবাসা তৈরি করে।

এছাড়া বড় বড় স্পন্সর প্রতিষ্ঠানও এই উদ্যোগে যুক্ত থাকে। উদাহরণস্বরূপ, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিজয়ী শিশুদের এই বিশেষ সুযোগ দেওয়া হয়।

অনেক ক্লাব ও সংগঠন সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে সুবিধাবঞ্চিত, অসুস্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদেরও আমন্ত্রণ জানায়। এতে তারা জীবনের একটি স্মরণীয় মুহূর্ত উপভোগ করার পাশাপাশি অনুপ্রেরণা লাভ করে।

সাধারণত ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের মাঠে নামার সুযোগ দেওয়া হয়। কারণ খুব ছোট শিশুরা বড় দর্শকসমাগমের চাপ সামলাতে পারে না, আবার ১৭ বছরের বেশি বয়সীদের শিশু হিসেবে বিবেচনা করা হয় না।

নির্বাচনের প্রক্রিয়াও ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। অনেক ক্লাব দীর্ঘদিনের সমর্থকদের সন্তানদের অগ্রাধিকার দেয়। কোথাও লটারি, প্রতিযোগিতা বা ফুটবল একাডেমির মাধ্যমে নির্বাচন করা হয়। আবার আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে স্পন্সরদের উদ্যোগেও শিশু নির্বাচন করা হয়ে থাকে।

ফুটবল অঙ্গনে এই শিশুদের সাধারণত দুটি নামে ডাকা হয়—“ম্যাসকট” এবং “প্লেয়ার এসকর্ট”।

যদি কোনো শিশু পুরো দলের প্রতিনিধিত্ব করে, তাকে ম্যাসকট বলা হয়। আর যদি সে নির্দিষ্ট একজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে মাঠে প্রবেশ করে, তাহলে তাকে প্লেয়ার এসকর্ট বলা হয়।

খেলোয়াড়দের সঙ্গে মাঠে প্রবেশ করা শিশুদের জন্য শুধু কয়েক মিনিটের অভিজ্ঞতা নয়; এটি অনেক সময় তাদের জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকে।

ফুটবল ইতিহাসে এমন উদাহরণও রয়েছে, যেখানে একসময় মাঠে ম্যাসকট হিসেবে প্রবেশ করা শিশু পরবর্তীতে নিজেই আন্তর্জাতিক তারকা হয়েছেন। ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি ফুটবলার ওয়েন রুনি ছোটবেলায় এমন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গিয়েছিলেন।

আজকের বিশ্ব ফুটবলে খেলোয়াড়দের সঙ্গে শিশুদের মাঠে প্রবেশের এই ঐতিহ্য কেবল একটি রীতি নয়, বরং এটি নতুন প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখানো, অনুপ্রাণিত করা এবং খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত করার এক সুন্দর মানবিক প্রতীক।

কুলসুম/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

খেলাধুলা এর সর্বশেষ খবর

খেলাধুলা - এর সব খবর



রে