ঢাকা, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

অর্থ লোপাটকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা চায় বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস

২০২৬ জুন ১৪ ২৩:৩৬:২২
অর্থ লোপাটকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা চায় বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস

নিজস্ব প্রতিবেদক :ব্যাংকিং খাত থেকে আত্মসাৎ বা লুট হওয়া অর্থ দ্রুত শনাক্ত করে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুনরুদ্ধার এবং তা আমানতকারীদের স্বার্থে ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)। একই সঙ্গে সংগঠনটি বলেছে, কেবলমাত্র দুর্বল ব্যাংকগুলোর পুনঃমূলধনীকরণের মাধ্যমে দেশের আর্থিক খাতকে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল করা সম্ভব হবে না; অতীতে সংঘটিত অনিয়ম ও অর্থ লোপাটের কার্যকর সমাধানও নিশ্চিত করতে হবে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে জাতীয় বাজেট উপস্থাপনের পর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বেসরকারি ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিএবি এসব মন্তব্য করে।

বিবৃতিতে বলা হয়, দুর্বল ব্যাংকগুলোর আর্থিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধারে সরকার প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এই পদক্ষেপ ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তবে এ উদ্যোগের পূর্ণ সুফল পেতে হলে একই সঙ্গে অতীতে আত্মসাৎ হওয়া সম্পদ ও অর্থ দ্রুত পুনরুদ্ধারের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

সংগঠনটির মতে, জনগণের অর্থ ব্যয় করে ব্যাংক পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ তখনই অর্থবহ হবে, যখন অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ লোপাটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা সম্ভব হবে।

বিএবি আরও বলেছে, আমানতকারীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান, কার্যকর ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্তকারীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ আরও জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি এসব ব্যক্তি যাতে ভবিষ্যতে পুনরায় ব্যাংকিং খাতে প্রবেশ করতে না পারেন, সে ব্যবস্থাও নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

তাদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ শুধু আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে না, ভবিষ্যতে অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

ব্যাংকিং খাতের সংস্কারের অংশ হিসেবে একটি কার্যকর অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি (এএমসি) গঠনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেছে বিএবি। সংগঠনটির মতে, এ ধরনের প্রতিষ্ঠান দুর্বল ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ কমাতে এবং তাদের আর্থিক ভিত্তি বা ব্যালেন্স শিটকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

একই সঙ্গে অনিয়মের মাধ্যমে অর্জিত শেয়ার ও অন্যান্য সম্পদের বিষয়ে একটি স্বচ্ছ নীতিমালা প্রণয়ন এবং তার কার্যকর বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে সংগঠনটি।

বিএবি সতর্ক করে বলেছে, লুট হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ যথাযথভাবে বাস্তবায়িত না হলে সরকারি অর্থে ব্যাংক পুনঃমূলধনীকরণ সাময়িক স্বস্তি দিতে পারলেও দীর্ঘমেয়াদে কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করা সম্ভব হবে না। এজন্য পুনঃমূলধনীকরণের পাশাপাশি সংস্কার কার্যক্রম, অর্থ পুনরুদ্ধার এবং জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ—এই তিনটি বিষয়কে সমান গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একটি শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যাংকিং ব্যবস্থা ছাড়া টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নয়। তাই আর্থিক খাতের চলমান সংস্কার কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বিএবি বলেছে, প্রস্তাবিত সংস্কারমূলক পদক্ষেপগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট দেশের ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের জন্য একটি নতুন মোড় পরিবর্তনের সূচনা করতে সক্ষম হবে।

এসএ খান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে