ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

ইসলামী ব্যাংক নিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি বন্ধের দাবি, কর্মসূচি ঘোষণা

২০২৬ জুন ১৩ ১৬:২৪:৩৬
ইসলামী ব্যাংক নিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি বন্ধের দাবি, কর্মসূচি ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক : ব্যাংক খাতে সংঘটিত কথিত লুটপাট ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে এনে ব্যাংকের দায়-দেনা পরিশোধের দাবি জানিয়েছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। একই সঙ্গে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির বর্তমান চেয়ারম্যানকে অপসারণ করে তাঁর স্থলে ব্যাংকিং খাতে দক্ষ, সৎ ও পেশাদার ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক নূরনবী মানিক।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংক সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে তথ্য উপস্থাপন করেছেন, তা অসত্য ও বিভ্রান্তিকর। তাঁর দাবি, এসব বক্তব্য এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক কয়েকটি পদক্ষেপের কারণে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, যার ফলে অনেকেই ব্যাংক থেকে আমানত তুলে নিচ্ছেন।

নূরনবী মানিক বলেন, ইসলামী ব্যাংক কেবল একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান নয়; এটি প্রায় তিন কোটি গ্রাহকের আস্থা ও দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রেমিট্যান্স প্রবাহ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন এবং সাধারণ মানুষের সঞ্চয়ের সঙ্গে ব্যাংকটির গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ব্যাংকটি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিল। গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধার হচ্ছিল, আমানত বাড়ছিল এবং আর্থিক স্থিতিশীলতার দিকে এগোচ্ছিল প্রতিষ্ঠানটি। তবে সম্প্রতি চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পরিবর্তন এবং নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের ঘটনায় গ্রাহকদের মধ্যে আবারও অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ২০১৭ সালে জোরপূর্বক মালিকানা পরিবর্তনের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অর্থ বের করে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের দাবি জানানো হয়।

সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে নূরনবী মানিক বলেন, ইসলামী ব্যাংকের রুরাল ডেভেলপমেন্ট স্কিম (আরডিএস) সম্পর্কে যে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, তা ব্যাংকের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে আরডিএসের বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ৭১২ কোটি টাকা, যা ২০২৫ সালে বেড়ে ৬ হাজার ৭৮৯ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। সে বিবেচনায় ২২ হাজার কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলে তিনি দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, আরডিএস প্রকল্পে খেলাপি ঋণের পরিমাণ মাত্র ২৩২ কোটি টাকা এবং ঋণ আদায়ের হার ৯৭ দশমিক ৫০ শতাংশ। দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ আদায় হার বজায় রেখে এই প্রকল্প দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে বলেও দাবি করেন ফোরামের নেতারা।

তারা বলেন, ইসলামী ব্যাংককে কেন্দ্র করে যদি আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, তাহলে শুধু একটি ব্যাংক নয়, পুরো ব্যাংকিং খাতই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে রেমিট্যান্স প্রবাহ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর।

সংবাদ সম্মেলন থেকে সাত দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—বর্তমান চেয়ারম্যানকে অপসারণ, ব্যাংকের প্রকৃত মালিকদের কাছে মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া, ব্যাংক লুটেরাদের বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, ইসলামী ব্যাংকগুলোকে ঘিরে আতঙ্ক সৃষ্টির অপচেষ্টা বন্ধ করা, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা, ব্যাংক লুটেরাদের পুনর্বাসনের সুযোগ বন্ধ করা এবং ইসলামী ব্যাংক বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার।

এসব দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে কর্মসূচি পালনেরও ঘোষণা দেয় সংগঠনটি। ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ১৪ জুন ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে অবস্থান কর্মসূচি এবং ১৬ জুন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি প্রদান।

সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের শতাধিক সদস্য ও গ্রাহক উপস্থিত ছিলেন।

এসএ খান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে