ঢাকা, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

‘আসিফ নিয়েছেন ১৫ কোটি, হাসনাত ১০ কোটি টাকা’

২০২৬ মে ৩০ ২০:৩১:২৬
‘আসিফ নিয়েছেন ১৫ কোটি, হাসনাত ১০ কোটি টাকা’

নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমিল্লা জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে মোট ২৫ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপি নেতা মো. মোস্তাক মিয়া। শনিবার (৩০ মে) কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এক রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে দেওয়া তার এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ও মহানগর বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মোস্তাক মিয়া। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি অভিযোগ করেন, কুমিল্লার মুরাদনগরের সন্তান এবং বর্তমানে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়াঁ উপদেষ্টা থাকাকালে জেলা পরিষদের নিজস্ব রাজস্ব তহবিল থেকে ১৫ কোটি টাকা নিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও বর্তমান সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ আরও ১০ কোটি টাকা নিয়েছেন।

বক্তব্যে মোস্তাক মিয়া বলেন, “আমার জেলা পরিষদ থেকে মুরাদনগরের আসিফ মাহমুদ ১৫ কোটি টাকা নিয়ে গেছেন। এটি আমাদের নিজস্ব রাজস্বের অর্থ। আর হাসনাত আবদুল্লাহ নিয়ে গেছেন ১০ কোটি টাকা। যারা বৈষম্যবিরোধী রাজনীতির কথা বলেছিলেন, বাস্তবে তাদের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সেই বক্তব্যের মিল পাওয়া যায় না।”

তার এই অভিযোগের সময় সভাস্থলে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তবে অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনো লিখিত নথি, সরকারি আদেশ, আর্থিক হিসাব বা প্রকল্পসংক্রান্ত তথ্য উপস্থাপন করেননি। কোন খাতে, কী উদ্দেশ্যে বা কোন প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই অর্থ নেওয়া হয়েছে—সে বিষয়েও তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে মোস্তাক মিয়া দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার বর্তমানে দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে কাজ করছে। তার দাবি, অতীতে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং সেই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের দায়িত্ব এখন সরকারের ওপর বর্তেছে। তিনি সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমেরও প্রশংসা করেন।

অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিএনপির নেতাকর্মীরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু করলেও এনসিপির নেতাদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সংবাদ প্রকাশ পর্যন্ত আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়াঁ কিংবা হাসনাত আব্দুল্লাহ কেউই অভিযোগের বিষয়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেননি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি বা আধা-সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের তহবিল থেকে কোটি কোটি টাকা নেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উত্থাপিত হলে তার পক্ষে তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা প্রয়োজন। অন্যথায় এমন অভিযোগ রাজনৈতিক বিতর্কের অংশ হিসেবেই থেকে যায়। তারা মনে করেন, বিষয়টি নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি দূর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা কিংবা প্রয়োজন হলে তদন্ত হওয়া উচিত।

বিশ্লেষকদের আরও মত, কুমিল্লা জেলা পরিষদের মতো একটি প্রতিষ্ঠানের রাজস্ব তহবিল থেকে ২৫ কোটি টাকা স্থানান্তর বা ব্যয়ের ঘটনা ঘটলে তার প্রশাসনিক নথি, অনুমোদন ও আর্থিক রেকর্ড থাকার কথা। ফলে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সেসব তথ্য সামনে আনা জরুরি।

এদিকে রাজনৈতিক মহলের অনেকেই মনে করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন দল ও নেতাদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসায় জনসাধারণ এখন এসব বিষয়ে আরও সংবেদনশীল। তাই এমন অভিযোগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও তথ্যভিত্তিক ব্যাখ্যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমানে অভিযোগটি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে থাকলেও এর সত্যতা নিয়ে কোনো স্বাধীন তদন্ত বা সরকারি বক্তব্য এখনো প্রকাশিত হয়নি। ফলে অভিযোগের বাস্তবতা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত এটি একটি রাজনৈতিক বক্তব্য ও অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

ওমর আলী/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে