ঢাকা, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
Sharenews24

শেয়ারবাজারে জালিয়াতি ঠেকাতে মাঠে নামছে ‘রোবট’ ও ‘ব্লকচেইন’

২০২৬ এপ্রিল ১৫ ১৬:৩২:২০
শেয়ারবাজারে জালিয়াতি ঠেকাতে মাঠে নামছে ‘রোবট’ ও ‘ব্লকচেইন’

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের শেয়ারবাজার দীর্ঘদিন ধরেই আস্থার সংকটে ভুগছে। আইপিও জালিয়াতি ও বাজার কারসাজি নিয়ন্ত্রণে নানা সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। ফলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পথেও বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

অতীতের অভিজ্ঞতা বেশ তিক্ত। ১৯৯৬ এবং বিশেষ করে ২০১০-১১ সালের শেয়ারবাজার ধসে প্রায় ২৭ বিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্য উধাও হয়ে যায়, যা সে সময় দেশের জিডিপির প্রায় ২২ শতাংশের সমান ছিল। এতে লাখো বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং এর সামাজিক প্রভাব এখনো বিদ্যমান।

সাম্প্রতিক তথ্যও পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে। গত ১৮ মাসে বাজার কারসাজি ও অনিয়মের দায়ে প্রায় ১ হাজার ৪৮৮ কোটি টাকা জরিমানা করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তবে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার কারণে এর অল্প অংশই আদায় করা সম্ভব হয়েছে। এতে শাস্তির কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমস্যার মূল কারণ কাঠামোগত দুর্বলতা। ওমনিবাস অ্যাকাউন্টের অপব্যবহার, প্লেসমেন্ট শেয়ারের অনিয়ম, আইপিওর অর্থ ভিন্ন খাতে সরিয়ে নেওয়া এবং রিয়েল-টাইম নজরদারির অভাব—এসবই বাজারকে ঝুঁকির মধ্যে রাখছে। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে দেশের শেয়ারবাজারের বাজারমূল্য জিডিপির মাত্র ৬ শতাংশ, যা উন্নত বাজারগুলোর তুলনায় অনেক কম।

এ পরিস্থিতিতে আধুনিক প্রযুক্তি হতে পারে বড় সমাধান। বিশ্বজুড়ে ইতোমধ্যে ব্লকচেইন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বাজার নজরদারি জোরদার করা হচ্ছে। এনরন ও মাডফ কেলেঙ্কারির পর অনেক দেশ রিয়েল-টাইম নজরদারির জন্য এআই ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকেছে।

ব্লকচেইন প্রযুক্তি আইপিও প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে পারে। এই প্রযুক্তিতে প্রতিটি লেনদেন স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত থাকে এবং অনুমোদিত অংশগ্রহণকারীরা তা দেখতে পারেন। স্মার্ট কনট্রাক্টের মাধ্যমে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ না হলে অর্থ ছাড় করা যাবে না—ফলে অনিয়মের সুযোগ কমে যাবে।

অন্যদিকে এআই দ্রুতগতিতে লেনদেন বিশ্লেষণ করে অস্বাভাবিক কার্যক্রম শনাক্ত করতে পারে। এতে কারসাজি আগেভাগেই ধরা সম্ভব হবে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্লকচেইন ও এআই একসঙ্গে ব্যবহার করলে একটি শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরি হবে—যেখানে ব্লকচেইন নিশ্চিত করবে তথ্যের স্বচ্ছতা এবং এআই দেবে দ্রুত সতর্কবার্তা।

বাংলাদেশেও ধাপে ধাপে এই প্রযুক্তি বাস্তবায়ন সম্ভব। পরীক্ষামূলকভাবে ব্লকচেইনভিত্তিক আইপিও চালু করা এবং সেকেন্ডারি মার্কেটে এআই নজরদারি শুরু করা যেতে পারে। এজন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা, ব্যাংক, এক্সচেঞ্জ এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয় জরুরি।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, এখনই সিদ্ধান্ত না নিলে বাজারে আস্থাহীনতা আরও বাড়বে, বিদেশি বিনিয়োগ কমে যাবে এবং সঞ্চয় অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে চলে যেতে পারে। বিপরীতে প্রযুক্তিনির্ভর সংস্কার বাস্তবায়ন হলে বাজারে স্বচ্ছতা বাড়বে, ঝুঁকি কমবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে।

তাদের মতে, জালিয়াতি কোনো অনিবার্য বাস্তবতা নয়—এটি সুশাসনের ঘাটতির ফল। ব্লকচেইন ও এআইকে কাজে লাগিয়ে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া গেলে বাংলাদেশ শেয়ারবাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি আর্থিক উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারবে।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে