ঢাকা, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
Sharenews24

সংসদে বড় ভুল তথ্য; বিস্ফোরক চিঠি দিলেন সাবেক কমিশনাররা

২০২৬ এপ্রিল ১৩ ১৫:১১:৫৭
সংসদে বড় ভুল তথ্য; বিস্ফোরক চিঠি দিলেন সাবেক কমিশনাররা

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদ্যবিদায়ী পাঁচজন কমিশনার সংসদে উপস্থাপিত গুম প্রতিরোধ, মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা সংক্রান্ত কিছু বক্তব্যকে “ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে” উপস্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে একটি খোলা চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে তারা দাবি করেন, এসব আইন ও অধ্যাদেশ নিয়ে সংসদে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তব আইনি কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এতে জনমনে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে।

তাদের মতে, গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশে অপরাধের মাত্রাভেদে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদের শাস্তির বিধান রয়েছে। অথচ সংসদে এটিকে কম শাস্তি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। একই সঙ্গে তারা বলেন, এই আইনে তদন্তের সময়সীমা নির্ধারিত রয়েছে এবং জরিমানা নির্ধারণ ও আদায়ের সুস্পষ্ট বিধান আছে। এমনকি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দাখিল না করলে শাস্তির বিধানও যুক্ত করা হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন (ICT) মূলত মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য প্রযোজ্য, যা সাধারণ বা বিচ্ছিন্ন ধরনের গুমের ক্ষেত্রে কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা যায় না। ফলে গুম অধ্যাদেশ বাতিল বা দুর্বল করা হলে আইনি শূন্যতা তৈরি হতে পারে এবং ভুক্তভোগীরা যথাযথ প্রতিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বলে তারা সতর্ক করেন। তাদের ব্যাখ্যায়, “ব্যাপক বা পদ্ধতিগত গুম” আলাদা বিষয়, যা ICT আইনের আওতায় পড়লেও সাধারণ গুমের ক্ষেত্রে আলাদা ফৌজদারি কাঠামো প্রয়োজন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা অধ্যাদেশ প্রসঙ্গে কমিশনাররা বলেন, এই আইন অনুযায়ী কোন মৃত্যু রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ আর কোনটি অপরাধমূলক—তা নির্ধারণের দায়িত্ব মানবাধিকার কমিশনের তদন্তের ওপর নির্ভর করে। কিন্তু পূর্ববর্তী ২০০৯ সালের আইনে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের ক্ষমতা সীমিত থাকায় কমিশনের কার্যকারিতা কমে যাবে বলে তারা মনে করেন।

তারা আরও অভিযোগ করেন, নতুনভাবে পুনর্বহাল করা ২০০৯ সালের মানবাধিকার কমিশন আইন কমিশনের স্বাধীনতা সংকুচিত করেছে। বিশেষ করে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে পূর্বানুমতির শর্ত যুক্ত হওয়ায় কমিশনের স্বাধীন তদন্ত ক্ষমতা দুর্বল হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে নিয়োগ ও বাছাই কমিটিতে নির্বাহী বিভাগের প্রভাব বেশি থাকায় কমিশনের নিরপেক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

চিঠিতে আরও বলা হয়, কমিশন যদি কোনো অপরাধকে ফৌজদারি হিসেবে চিহ্নিত করে, তবে মামলা করার ক্ষমতা থাকা স্বাভাবিক। এতে স্বার্থের সংঘাত হয় না, কারণ কমিশন বিচারকের ভূমিকা পালন করে না। তারা উদাহরণ হিসেবে পুলিশকেও উল্লেখ করেন, যারা তদন্ত শেষে মামলা করতে পারে।

সবশেষে কমিশনাররা বলেন, গুম প্রতিরোধ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সনদে বাংলাদেশের অঙ্গীকার রয়েছে, তাই ভবিষ্যতে আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে যেন ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা দুর্বল না হয় এবং আইন যেন কার্যকর ও শক্তিশালী হয়—সে বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি। তারা সতর্ক করে বলেন, আইন দুর্বল হলে ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবেন এবং মানবাধিকার সুরক্ষা আরও সংকুচিত হবে।

ওমর আলী/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে