ঢাকা, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
Sharenews24

শেয়ারবাজারে চীন-বাংলাদেশ বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার

২০২৬ এপ্রিল ১০ ১৫:০১:৩২
শেয়ারবাজারে চীন-বাংলাদেশ বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার

নিজস্ব প্রতিবেদক: চীন ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও কার্যকর ও বিস্তৃত করতে নতুন উদ্যোগের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। এ বৈঠকে পুঁজিবাজার, বিনিয়োগ ও বাণিজ্য খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চাইনিজ এন্টারপ্রাইজেস অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশের (সিইএবি) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে নতুন বিনিয়োগ সুযোগ সৃষ্টির বিষয়েও আলোচনা হয়।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাজধানীর নিকুঞ্জে ডিএসই টাওয়ারে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সিইএবি’র ১৯ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। ডিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার এবং সিইএবি’র ভাইস প্রেসিডেন্ট মা বেন নিজ নিজ পক্ষের নেতৃত্ব দেন।

ডিএসই’র এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বৈঠকের শুরুতে নুজহাত আনোয়ার দেশের পুঁজিবাজারের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাজারকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে বিভিন্ন কৌশলগত পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে এবং চীনা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার মাধ্যমে যৌথ লক্ষ্যে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও জানান, নতুন বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে পুঁজিবাজারকে আরও বিনিয়োগবান্ধব করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের অবহিত করাও এই বৈঠকের অন্যতম উদ্দেশ্য।

নুজহাত আনোয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নিয়মিত সংলাপের মাধ্যমে দুই পক্ষের সহযোগিতা আরও জোরদার হবে এবং আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনায় চীন গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে ভূমিকা রাখবে। এছাড়া আগ্রহী চীনা কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্তি ও বিনিয়োগ প্রক্রিয়ায় ডিএসই সহায়তা দেবে।

অন্যদিকে, সিইএবি’র ভাইস প্রেসিডেন্ট মা বেন এ বৈঠককে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে এবং ভবিষ্যতে তা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।

তিনি জানান, বর্তমানে সিইএবি’র সদস্য সংখ্যা ২৫০-এর বেশি এবং এসব প্রতিষ্ঠান বাণিজ্য, অবকাঠামো, তথ্যপ্রযুক্তি, জ্বালানি ও লজিস্টিকসসহ বিভিন্ন খাতে কাজ করছে। বাংলাদেশে বিদ্যুৎ, সেতু, টানেল ও এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে চীনা কোম্পানিগুলোর উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে মা বেন বলেন, ২০২৬ সালেও সিইএবি বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে কাজ চালিয়ে যাবে এবং নতুন সহযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি করবে।

বৈঠকে সিইএবি’র অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন, যার মধ্যে রয়েছে চায়না বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন, হুয়াওয়ে, চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, মেংফেই’স সাপ্লাই চেইন, জিংসু কনস্ট্রাকশন, হুনান কনস্ট্রাকশন ইনভেস্টমেন্ট, চায়না রেলওয়ে ফার্স্ট ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যুরো, বাংলাদেশ সিনো-সোর্স কনস্ট্রাকশন, ডংজিং গ্রুপ, কোকো ফ্যাশন, ভিভোসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান।

ডিএসই’র পক্ষ থেকে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসাদুর রহমান, প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ড. মো. আসিফুর রহমান এবং প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মো. আদিব হোসেন খানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বৈঠক শেষে সিইএবি প্রতিনিধিদল ডিএসই টাওয়ারের মাল্টিপারপাস হল ও ট্রেনিং একাডেমি পরিদর্শন করেন।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে