ঢাকা, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
Sharenews24

ইরান যুদ্ধের আড়ালে ট্রাম্পের ধর্মীয় কৌশল

২০২৬ এপ্রিল ০৬ ১১:২০:৫৪
ইরান যুদ্ধের আড়ালে ট্রাম্পের ধর্মীয় কৌশল

নিজস্ব প্রতিবেদক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার প্রশাসনের কর্মকর্তারা ইরান যুদ্ধকে ধর্মীয় রূপে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছেন। ট্রাম্প ইরান থেকে এক মার্কিন পাইলট উদ্ধারকে ‘ইস্টারের অলৌকিক ঘটনা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং অভিযানের সফলতা ধর্মীয় আঙ্গিকে উপস্থাপন করেছেন। একই সঙ্গে তিনি সামাজিক মাধ্যমে কঠোর মন্তব্য করে লিখেছেন, “তোমরা পাগল কুলাঙ্গাররা” এবং “নরকে বসাবাস করতে হবে,” এরপর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর নামে শেষ করেছেন।

হোয়াইট হাউসে খ্রিস্টান ধর্মগুরুদের দ্বারা ট্রাম্পের আশীর্বাদ গ্রহণ এবং ইরানকে বাইবেলীয় ‘আর্মাগেডন’ বা চূড়ান্ত যুদ্ধের সাথে তুলনা, তার সমর্থকদের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। ট্রাম্প নিজেকে রক্ষণশীল খ্রিস্টান (ইভানজেলিকাল) উপদেষ্টাদের ঘেরায় রেখেছেন, যারা তার নীতিগুলোকে ঈশ্বরের নির্দেশ হিসেবে প্রচার করেন। হোয়াইট হাউসের ফেইথ অফিসের প্রধান পলা হোয়াইট-কেইন বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে না বলা মানে স্বয়ং ঈশ্বরকে না বলা।”

ধর্মীয় প্রভাব এখন মার্কিন সামরিক বাহিনীর উপরও পড়তে শুরু করেছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বাহিনীতে খ্রিস্টান প্রতীক ও রীতিনীতির চর্চা তদারকি করছেন। তিনি শরীরে ধর্মযুদ্ধের প্রতীক ট্যাটু হিসেবে এঁকেছেন এবং পেন্টাগনের এক প্রার্থনায় ‘যারা কোনো দয়া পাওয়ার যোগ্য নয়, তাদের ওপর তীব্র ও বিধ্বংসী আক্রমণ’ চালানোর জন্য ঈশ্বরের সাহায্য চেয়েছেন।

একই সঙ্গে ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র, তেলের খনি এবং পানি পরিশোধনাগারে হামলার হুমকি দিয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রতিষ্ঠাতা প্রধান প্রসিকিউটর লুইস মোরেনো ওকাম্পো বলেন, ইরানের বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো কোনোভাবেই বৈধ নয়। তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তিনি ‘আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োজন নেই’ এবং তিনি তার নিজের নৈতিকতা অনুযায়ী কাজ করেন।

এই ধর্ম ও সামরিক শক্তির সংমিশ্রণ এখন মার্কিন সংসদে কড়া নজরদারির মধ্যে রয়েছে। আইনপ্রণেতারা সতর্ক করেছেন যে চরম ধর্মীয় বক্তব্য সামরিক কমান্ডের মধ্যে ঢুকে পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যখন ক্ষমতার সঙ্গে অন্ধ ধর্মীয় বিশ্বাস মিলে যায়, যুদ্ধ তখন অস্তিত্বের লড়াইয়ে রূপ নেয় এবং তা থামানো কঠিন হয়ে যায়। কোনো সৈনিককে এমন ধর্মের জন্য জীবন দিতে বলা উচিত নয় যা সে নিজে মানে না; এটি দেশের আত্মরক্ষা নয়, বরং ধর্মের নামে আদর্শিক জবরদস্তি।

ওমর আলী/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে