ঢাকা, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
Sharenews24

রবির আর্থিক প্রতিবেদনে অনিয়ম: অনুসন্ধানে বিএসইসি

২০২৬ এপ্রিল ০৬ ০৯:২৬:৫২
রবির আর্থিক প্রতিবেদনে অনিয়ম: অনুসন্ধানে বিএসইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজার-এর টেলিকম খাতের বহুজাতিক জায়ান্ট রবি আজিয়াটা পিএলসির বিরুদ্ধে আর্থিক অসঙ্গতি, সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন এবং করপোরেট সুশাসনে বড় ধরনের ঘাটতির অভিযোগ উঠেছে। এসব গুরুতর অভিযোগের নেপথ্য সত্য উদঘাটনে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধানে নেমেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

তদন্ত প্রক্রিয়া গতিশীল করতে ইতিমধ্যে তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিএসইসি থেকে জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী, এই কমিটিকে আগামী ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের তদন্ত কার্যক্রম শেষ করে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

সম্প্রতি বিএসইসির মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত একটি বিশেষ আদেশ জারি করা হয়। এতে তদন্তের পরিধি এবং পালনীয় শর্তসমূহ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

অনুসন্ধান কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বিএসইসির উপ-পরিচালক মো. রফিকুন্নবী ও সহকারী পরিচালক তন্ময় কুমার ঘোষ এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপক গিয়াস উদ্দিন।

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, নির্দিষ্ট কিছু তথ্যের ভিত্তিতেই রবির বিরুদ্ধে এই কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। কোম্পানিটির বিগত কয়েক বছরের আর্থিক লেনদেন, তথ্য গোপনের চেষ্টা এবং বিদ্যমান আইন ও বিধির কোনো ব্যত্যয় ঘটেছে কি-না, তা নিবিড়ভাবে যাচাই করবে এই কমিটি।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই তদন্তের মাধ্যমে রবির আর্থিক স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা সম্পর্কে বিনিয়োগকারীরা একটি স্বচ্ছ ধারণা পাবেন। এটি বাজারের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম জানিয়েছেন, মূলত আর্থিক অনিয়ম এবং আইন ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতেই এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কোম্পানিটির অভ্যন্তরীণ সুশাসনের চিত্রটি বেরিয়ে আসবে।

তিনি আরও যোগ করেন, তদন্ত কর্মকর্তাদের দায়িত্ব হবে রবির আর্থিক বিবরণী, সিকিউরিটিজ আইনের পরিপালন এবং করপোরেট সুশাসন সংক্রান্ত নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা। অপরাধ প্রমাণিত হলে কমিশন আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

বিএসইসি মনে করছে, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে রবির ২০২১ ও ২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনগুলো পুনরায় খতিয়ে দেখা জরুরি। এ লক্ষ্যে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ, ১৯৬৯ এবং ১৯৯৩ সালের বিএসইসি আইনের বিশেষ ক্ষমতা বলে এই তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে।

তদন্তকারী দল মূলত ২০২১ ও ২০২২ অর্থবছর-এর আর্থিক বিবরণীতে কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা হয়েছে কি-না, তা যাচাই করবে। এছাড়া অ-পরিচালন আয়-ব্যয় এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের লেনদেনে স্বচ্ছতা ছিল কি-না, বিশেষ করে পরিচালন ব্যয়কে মূলধনী ব্যয় দেখিয়ে মুনাফা বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে কি-না, তা গুরুত্বসহকারে দেখা হবে।

পাশাপাশি কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তা যথা—সিইও, সিএফও এবং অডিট কমিটির ভূমিকাও তদন্তের আওতায় থাকবে। রবি ও ইডটকো বাংলাদেশের মধ্যে লিজ চুক্তি, অবকাঠামো ভাগাভাগি এবং শেয়ার হস্তান্তরের মতো স্পর্শকাতর লেনদেনগুলোর বিস্তারিত তথ্যও সংগ্রহ করা হবে।

২০২০ সালে শেয়ারবাজার-এ তালিকাভুক্ত হওয়া এই বহুজাতিক কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ৫ হাজার ২৩৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত তথ্যানুযায়ী, কোম্পানির ৯০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে। বাকি শেয়ারের মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৭.১৪ শতাংশ এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২.৮৬ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে