ঢাকা, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬
Sharenews24

ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি

২০২৬ মার্চ ২২ ০৬:৪০:৫২
ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের তৃতীয় সপ্তাহ পার হলেও পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে, আর এতে বড় চাপের মুখে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধের শুরুতে স্বল্পমেয়াদি অভিযানের প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন তিনি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছেন বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে, মিত্রদের সমর্থন কমছে এবং নতুন করে সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।

হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ইস্যুতে ন্যাটো সদস্যদের অনীহা ট্রাম্পকে আরও চাপে ফেলেছে। এ অবস্থায় তিনি মিত্র দেশগুলোর সমালোচনা করে তাদের ‘কাপুরুষ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। যদিও গত শুক্রবার তিনি দাবি করেন, সামরিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই জয় নিশ্চিত করেছে।

তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইরান আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং পারস্য উপসাগরে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত করছে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলছে।

ক্ষমতায় আসার সময় বিদেশি যুদ্ধে জড়ানো থেকে দূরে থাকার প্রতিশ্রুতি দিলেও ট্রাম্প এখন সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। যুদ্ধের সুস্পষ্ট কোনো ‘এক্সিট স্ট্র্যাটেজি’ না থাকায় তার রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার লড়াইয়ে এই যুদ্ধ বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সাবেক আলোচক অ্যারন ডেভিড মিলারের মতে, ট্রাম্প নিজেই এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করেছেন, যেখান থেকে বের হওয়ার পথ তার কাছে পরিষ্কার নয়। এই অচলাবস্থাই তার হতাশা বাড়াচ্ছে।

অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা এই সংকটের কথা অস্বীকার করে বলেছেন, লক্ষ্যভিত্তিক হামলায় ইরানের অনেক শীর্ষ নেতাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার ভাষায়, এটি একটি বড় সামরিক সাফল্য।

গত এক সপ্তাহে ট্রাম্পের কূটনৈতিক ও সামরিক সীমাবদ্ধতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। হরমুজ প্রণালিতে মিত্রদের অংশগ্রহণ না পাওয়া তাকে অপ্রস্তুত করে তুলেছে বলে জানা গেছে।

এ অবস্থায় কিছু উপদেষ্টা দ্রুত যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার কৌশল নির্ধারণের পরামর্শ দিলেও ট্রাম্প সেই পথে হাঁটবেন কিনা, তা এখনো অনিশ্চিত।

বিশ্লেষকদের মতে, মিত্রদের অনীহার পেছনে কেবল যুদ্ধের ভয় নয়; বরং ট্রাম্পের আগের নীতিগত অবস্থানও দায়ী। এমনকি ইসরায়েল-এর সঙ্গেও কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এখন এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। ট্রাম্প চাইলে সামরিক অভিযান আরও বাড়াতে পারেন, যেমন ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেলকেন্দ্র খারগ দ্বীপে হামলা বা উপকূলে সেনা নামানো। তবে এতে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

অন্যদিকে দ্রুত বিজয় ঘোষণা করে সরে যাওয়ার পথও খোলা আছে, কিন্তু এতে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্ররা অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে এবং প্রতিশোধপরায়ণ ইরানের ঝুঁকি বাড়বে।

রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, যদিও সরাসরি ইরানে স্থলবাহিনী পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়নি।

এই যুদ্ধ ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ আন্দোলনের ওপরও প্রভাব ফেলছে। তার সমর্থকদের একটি অংশ এখন যুদ্ধবিরোধী অবস্থান নিয়েছে এবং তেলের দাম বাড়লে জনসমর্থন আরও কমতে পারে।

রিপাবলিকান কৌশলবিদ ডেভ উইলসন মনে করেন, অর্থনৈতিক চাপ বাড়লে সাধারণ মানুষ সরাসরি এর কারণ জানতে চাইবে এবং সরকারের ওপর চাপ বাড়বে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ শুরুর আগে এর সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে যথেষ্ট প্রস্তুতি ছিল না। ট্রাম্প প্রশাসনের সবচেয়ে বড় ভুল ছিল ইরানের পাল্টা আঘাতের সক্ষমতাকে অবমূল্যায়ন করা।

বর্তমানে ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন শক্তি ব্যবহার করে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে এবং হরমুজ প্রণালির কার্যক্রম ব্যাহত করছে, যা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে বড় প্রভাব ফেলছে।

সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত জন বাস বলেন, পরিস্থিতি পরিকল্পনা অনুযায়ী না এগোলে বিকল্প কৌশল কী হবে—সেটি আগে থেকে নির্ধারণ করা হয়নি।

যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় ট্রাম্পের হতাশা বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি গণমাধ্যমের সমালোচনা করে যুদ্ধ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে ‘দেশদ্রোহিতা’র অভিযোগ তুলেছেন।

ওবামা প্রশাসনের সাবেক উপদেষ্টা ব্রেট ব্রুয়েন বলেন, ট্রাম্প এখন এই যুদ্ধের উদ্দেশ্য ও পরিণতি স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে পারছেন না, যা তার নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

মিরাজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে