ঢাকা, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬
Sharenews24

পাত্র খুঁজতে গিয়ে কোটি টাকা খোয়ালেন নারী উপসচিব

২০২৬ মার্চ ১৮ ১৫:১৮:০৩
পাত্র খুঁজতে গিয়ে কোটি টাকা খোয়ালেন নারী উপসচিব

নিজস্ব প্রতিবেদক: পত্রিকায় প্রকাশিত ‘পাত্রী চাই’ বিজ্ঞাপনকে কেন্দ্র করে পরিচয়ের সূত্র ধরে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এক নারী উপসচিব প্রায় ৮২ লাখ টাকা হারিয়েছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুটি মামলা দায়েরের পর অভিযুক্ত মো. মনিরুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ এবং বর্তমানে তাকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২১ অক্টোবর একটি জাতীয় দৈনিকে ‘ডিভোর্সি বা বিধবা পাত্রী চাই’ শিরোনামে বিজ্ঞাপন দেন মনিরুজ্জামান। বিজ্ঞাপনের সূত্র ধরে ভুক্তভোগী ওই নারীর সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়। শুরুতে নিজেকে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের করপোরেট হেড ও মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে পরিচয় দেন তিনি।

পরবর্তীতে মোবাইল ফোনে নিয়মিত কথা বলা ও বিভিন্ন স্থানে দেখা-সাক্ষাতের মাধ্যমে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। একপর্যায়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই নারী কর্মকর্তার সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলেন অভিযুক্ত। পরে তাকে সিলেটসহ ঢাকার বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর পাশাপাশি কৌশলে ভুক্তভোগীকে সাভারে একটি আবাসিক প্লটে বাড়ি নির্মাণের বিষয়ে রাজি করানো হয়। বিয়ের আশ্বাসে বিশ্বাস করে তিনি বিভিন্ন সময়ে নিজের ব্যাংক হিসাব থেকে বড় অঙ্কের টাকা অভিযুক্তের কাছে পাঠান।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, জনতা ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকের দুটি হিসাব থেকে মোট ৭২ লাখ ৮৫ হাজার ৭০০ টাকা আইএফআইসি ব্যাংকের একটি হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। এছাড়া নগদসহ বিভিন্ন মাধ্যমে আরও প্রায় ১০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রতারণার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৮২ লাখ টাকা।

তবে বাড়ি নির্মাণে অসঙ্গতি ধরা পড়লে এবং বিয়ের বিষয়ে চাপ সৃষ্টি করলে মনিরুজ্জামান এড়িয়ে যেতে শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান এবং নেওয়া অর্থের হিসাব দিতেও অস্বীকার করেন। উল্টো চাপ প্রয়োগ করলে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি ও ১৮ ফেব্রুয়ারি একই ধরনের ‘পাত্রী চাই’ বিজ্ঞাপন দিয়ে তিনি আবারও প্রতারণার চেষ্টা চালান।

ভুক্তভোগী নারী গণমাধ্যমকে জানান, পুরো ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এবং শারীরিকভাবেও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

ভুক্তভোগীর আইনজীবী জিয়াউল হক সুমন বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রতারণার মাধ্যমে ভুক্তভোগীর সরলতার সুযোগ নিয়েছেন এবং সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা করা হয়েছে।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী কাজী মেহেদী হাসান দাবি করেছেন, তার মক্কেল নির্দোষ এবং অভিযোগ প্রমাণের দায়িত্ব তদন্তকারী সংস্থার। তিনি বলেন, ব্যাংকের মাধ্যমে দেওয়া অর্থ বাড়ি নির্মাণের কাজে ব্যবহারের জন্য নেওয়া হয়েছিল এবং কাজ আংশিকভাবে সম্পন্নও হয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, নগদ অর্থ প্রদানের বিষয়ে কোনো প্রমাণ না থাকায় এ বিষয়ে মন্তব্য করা কঠিন। এছাড়া বিয়ে না হওয়াকে কেন্দ্র করেই উভয়পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীনে দায়ের করা মামলায় বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ আনা হলেও এতে নির্দিষ্ট সময় বা ঘটনার বিস্তারিত উল্লেখ নেই বলেও জানান আসামিপক্ষের আইনজীবী।

বর্তমানে বিষয়টি বিচারাধীন রয়েছে এবং তদন্ত শেষে আদালতের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে পুরো ঘটনার চূড়ান্ত পরিণতি।

সিরাজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে