ঢাকা, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

জনসংখ্যায় শীর্ষে, ফুটবলে পিছিয়ে—বিশ্বকাপ নিয়ে চমকপ্রদ বাস্তবতা

২০২৬ জুলাই ০৫ ১৭:২৯:১৬
জনসংখ্যায় শীর্ষে, ফুটবলে পিছিয়ে—বিশ্বকাপ নিয়ে চমকপ্রদ বাস্তবতা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ফুটবল বিশ্বকাপ এলেই বাংলাদেশ, ভারত, ইন্দোনেশিয়াসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে উচ্ছ্বাসের কমতি থাকে না। তবে এসব দেশের অধিকাংশই এখনো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে পারেনি। এই বৈপরীত্য নিয়েই বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল ১০ দেশের মধ্যে কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিল অংশ নিচ্ছে। চীন ও ইন্দোনেশিয়া অতীতে মাত্র একবার করে বিশ্বকাপে খেলেছে। অন্যদিকে ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান এখনো বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার স্বাদ পায়নি।

যদিও ভারত ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল, তবে টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই দলটি নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেয়।

ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ এবং Soccernomics গ্রন্থের সহলেখক স্টেফান শিমানস্কির মতে, শুধু জনসংখ্যা বেশি হলেই ফুটবলে সাফল্য আসে না। এর জন্য অন্তত তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—অর্থনৈতিক সক্ষমতা: উন্নত অবকাঠামো, প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ।ঐতিহ্য ও অভিজ্ঞতা: আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দীর্ঘদিন প্রতিযোগিতা করার অভিজ্ঞতা।নিয়মিত প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ: শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ধারাবাহিক খেলার সুযোগ।

তিনি বলেন, ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার মাথাপিছু আয় তুলনামূলক কম হলেও শত বছরের ফুটবল ঐতিহ্য তাদের সফল করেছে। একইভাবে মাত্র ৩৫ লাখ জনসংখ্যার উরুগুয়ে দুটি বিশ্বকাপ জিতেছে, যার পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মরক্কো ২০২২ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠে ইতিহাসের প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে নজির গড়ে। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়া ২০০২ বিশ্বকাপে শেষ চারে উঠে এশিয়ার ফুটবল ইতিহাসে অনন্য সাফল্য অর্জন করে।

বিবিসির বিশ্লেষণে বিভিন্ন দেশের ভিন্ন ভিন্ন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরা হয়েছে।

ভারত: আইপিএলের আর্থিক সাফল্যের কারণে অনেক পরিবার ফুটবলের বদলে ক্রিকেটকে অগ্রাধিকার দেয়।

বাংলাদেশ: দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও কার্যকর ফুটবল ব্যবস্থাপনার ঘাটতিকে প্রধান সমস্যা হিসেবে দেখছেন ফুটবল বিশ্লেষকেরা।

চীন: বিপুল বিনিয়োগের পরও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও নীতিগত দুর্বলতার কারণে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসেনি।

ইন্দোনেশিয়া: ইউরোপে বেড়ে ওঠা ইন্দোনেশীয় বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের ওপর নির্ভরতা বাড়লেও স্থানীয় প্রতিভা বিকাশের চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

পাকিস্তান: প্রশাসনিক সংকট ও ফুটবল ফেডারেশনের অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে কয়েক দফা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে দেশটি।

২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। ছয়টি করে ম্যাচ খেলেও কোনো দলই জয় পায়নি।

তবে বিশ্বকাপে নিজেদের দল না থাকলেও ফুটবলের প্রতি ভালোবাসায় ভাটা নেই দক্ষিণ এশিয়ার সমর্থকদের। ফুটবল বিশ্লেষক অদিতে করিমের ভাষায়, বর্তমান বাস্তবতায় বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে দেখা কঠিন হলেও বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল আসরের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হতে চান না এ অঞ্চলের কোটি কোটি সমর্থক।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

খেলাধুলা এর সর্বশেষ খবর

খেলাধুলা - এর সব খবর



রে