ঢাকা, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

মিউচ্যুয়াল ফান্ডের টাকা নিয়ে নয়ছয়: দুদক ও এনবিআরে বিএসইসির জরুরি চিঠি

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৫ ১৪:০৩:৪১
মিউচ্যুয়াল ফান্ডের টাকা নিয়ে নয়ছয়: দুদক ও এনবিআরে বিএসইসির জরুরি চিঠি

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ছয়টি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের অর্থ নিয়মবহির্ভূতভাবে আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান রেস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট পিএলসি-র বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে গেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সংস্থাটির নিরীক্ষিত হিসাব পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে ভুয়া অগ্রিম আয়কর প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রায় ৯ কোটি ৬৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই গুরুতর অনিয়ম ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছে বিএসইসি।

রেস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের অধীনে থাকা ১২টি ফান্ডের মধ্যে ৬টিতে এই আর্থিক অসংগতি ধরা পড়েছে। ফান্ডগুলো হলো—আইএফআইসি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড, ফার্স্ট জনতা ব্যাংক মিউচ্যুয়াল ফান্ড, ফার্স্ট বাংলাদেশ ফিক্সড ইনকাম ফান্ড, ট্রাস্ট ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড, ইবিএল ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড এবং এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড। আয়কর আইন-২০২৩ অনুযায়ী মিউচ্যুয়াল ফান্ডের আয় সম্পূর্ণ করমুক্ত হওয়া সত্ত্বেও এই ফান্ডগুলোর ব্যালেন্স শিটে বিপুল অঙ্কের অর্থ অগ্রিম আয়কর হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা নিরীক্ষকের নজরেও এসেছে।

বিএসইসির অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০১১-২০১২ অর্থবছর থেকেই মিউচ্যুয়াল ফান্ডের আয় করমুক্ত ঘোষণা করেছে সরকার। এনবিআর-এর বিভিন্ন পরিপত্র ও এসআরও-তেও বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। কিন্তু রেস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট করমুক্ত এই আয়ের বিপরীতে ৯ কোটি ৬৮ লাখ টাকা অগ্রিম আয়কর পরিশোধের দাবি করলেও এর সপক্ষে কোনো ব্যাংক সার্টিফিকেট, স্টেটমেন্ট বা চালানের কপি জমা দিতে পারেনি। বরং মাত্র ২৮ লাখ ১৮ হাজার টাকা রিফান্ডের জন্য ব্যাংকে আবেদনের কিছু নথিপত্র জমা দিয়ে দায় সারার চেষ্টা করেছে তারা।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা মনে করছে, করমুক্ত আয়ের বিপরীতে কাল্পনিক অগ্রিম আয়কর প্রদর্শন করা কেবল বিনিয়োগকারীদের অধিকার হরণ নয়, বরং এর আড়ালে অর্থ পাচারের মতো দণ্ডনীয় অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। এই অর্থ কোথায় সরানো হয়েছে এবং এর পেছনে কারা জড়িত, তা বিস্তারিত তদন্তের জন্য দুদক ও এনবিআরের চেয়ারম্যানদের কাছে পাঠানো পত্রে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বিএসইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, শেয়ারবাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। যথাযথ প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় এবং আর্থিক প্রতিবেদনে অসংগতি থাকায় এই জালিয়াতির বিষয়টি এখন উচ্চতর তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। বাজারের শৃঙ্খলা ফেরাতে বিএসইসি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অটল থাকবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে