ঢাকা, বুধবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলিতে বড় সুখবর!

২০২৬ জানুয়ারি ২৮ ১০:২৯:৪৩
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলিতে বড় সুখবর!

নিজস্ব প্রতিবেদক : এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ভোগান্তি কমানো এবং ঘরের কাছাকাছি কর্মস্থলে বদলির সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল ও কলেজ) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা–২০২৬’ প্রকাশ করেছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীনের স্বাক্ষরে সংশোধিত এ নীতিমালা জারি করা হয় এবং জারির দিন থেকেই তা কার্যকর হয়েছে।

নতুন নীতিমালার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো পুরো বদলি প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও প্রভাবমুক্ত করা। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এবার থেকে বদলি সম্পূর্ণভাবে স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। ফলে কোনো শিক্ষককে বদলির জন্য আর তদবির বা প্রভাবশালীদের দপ্তরে ঘুরতে হবে না। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে যোগ্যতা ও নিয়মের ভিত্তিতেই বদলি নিশ্চিত করা হবে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শূন্য পদের তালিকা অনলাইনে প্রকাশ করবে। এসব শূন্য পদের বিপরীতে অনলাইনের মাধ্যমেই বদলির আবেদন আহ্বান করা হবে। প্রতি বছর নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আবেদন গ্রহণ, বদলির আদেশ জারি এবং নতুন কর্মস্থলে যোগদান কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো শিক্ষক প্রথম যোগদানের পর চাকরির মেয়াদ দুই বছর পূর্ণ হলে বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন। একবার বদলি হওয়ার পর পরবর্তী বদলির আবেদনের ক্ষেত্রে নতুন কর্মস্থলে ন্যূনতম দুই বছর কর্মরত থাকতে হবে। একজন শিক্ষক তাঁর কর্মজীবনে সর্বোচ্চ তিনবার বদলির সুযোগ পাবেন। বদলির ক্ষেত্রে প্রথমে নিজ জেলার শূন্য পদে আবেদন করতে হবে। নিজ জেলায় পদ না থাকলে নিজ বিভাগের যে কোনো জেলায় আবেদন করা যাবে। বিশেষ পরিস্থিতিতে যে কোনো জেলা অথবা স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থলেও বদলির সুযোগ রাখা হয়েছে।

একটি পদের বিপরীতে একাধিক আবেদন জমা পড়লে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হবে নির্দিষ্ট কিছু মানদণ্ডের ভিত্তিতে। এসব ক্ষেত্রে নারী প্রার্থী, কর্মস্থলের দূরত্ব, স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থল এবং জ্যেষ্ঠতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। জ্যেষ্ঠতা গণনা করা হবে সর্বশেষ জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুসারে।

নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, দূরত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত মডেল অনুসরণ করা হবে। অসম্পূর্ণ বা ভুল তথ্যযুক্ত আবেদন কোনোভাবেই বিবেচনা করা হবে না। ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য প্রদান করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বছরে সর্বোচ্চ দুজন শিক্ষক বদলির সুযোগ পাবেন, তবে একই বিষয়ে একজনের বেশি বদলি করা যাবে না। শিক্ষকরা আবেদনের সময় সর্বোচ্চ তিনটি প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করতে পারবেন।

বদলি আবেদন নিষ্পত্তির দায়িত্ব থাকবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের ওপর এবং পুরো প্রক্রিয়া তদারকি করবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। বদলির পর শিক্ষকের এমপিও, আর্থিক সুবিধা ও জ্যেষ্ঠতার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। তবে বদলিকে কোনো অধিকার হিসেবে দাবি করা যাবে না এবং বদলিজনিত কারণে কোনো শিক্ষক টিএ বা ডিএ ভাতা পাবেন না।

নীতিমালায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বদলির আদেশ জারির ১০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানকে বদলিকৃত শিক্ষককে অবমুক্ত করতে হবে। অবমুক্ত হওয়ার পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে শিক্ষককে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। যোগদানের তথ্য অনলাইনের মাধ্যমে চেয়ারম্যান, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে জানাতে হবে। অবমুক্তি থেকে যোগদান পর্যন্ত সময় কর্মকাল হিসেবে গণ্য হবে।

তবে কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্টপ পেমেন্ট, সাময়িক বরখাস্ত বা ফৌজদারি মামলা চলমান থাকলে তিনি বদলির জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন না। একই সঙ্গে এ নীতিমালা জারির মাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর জারি করা আগের এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়েছে। প্রয়োজনে মন্ত্রণালয় এই নীতিমালায় পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা ব্যাখ্যা প্রদান করতে পারবে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে