×
ঢাকা, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

‘প্রটোকলের ফাঁকে সেল্ফ প্রটোকল’-এর ব্যাখ্যা দিলেন এসিল্যান্ড

২০২৬ নভেম্বর ০৭ ১৯:৪৩:৫১
‘প্রটোকলের ফাঁকে সেল্ফ প্রটোকল’-এর ব্যাখ্যা দিলেন এসিল্যান্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক: হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মৈত্রী রায়ের চা বাগানে তোলা ছবি ও ‘প্রটোকলের ফাঁকে সেল্ফ প্রটোকল’ ক্যাপশন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এবার নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন তিনি। মৈত্রী রায় জানিয়েছেন, গত ৪ নভেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ মাধবপুর উপজেলার দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন। তবে প্রতিমন্ত্রী কোনো চা বাগান পরিদর্শনে যাননি এবং সেখানে তাকে কোনো ধরনের প্রটোকলও দেওয়া হয়নি।

শনিবার (৭ নভেম্বর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব কথা জানান মৈত্রী রায়। সেখানে তিনি ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে লেখেন, ‘ওকে লেট মি ক্লিয়ার...’। তার দাবি, প্রতিমন্ত্রীর কর্মসূচি শেষ করে কার্যালয়ে ফেরার পথে চা বাগানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে সেখানে দাঁড়িয়ে কয়েকটি ছবি তোলেন তিনি। পরে ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ছবিগুলো প্রকাশ করেন।

ফেসবুক পোস্টে মৈত্রী রায় জানান, গত ৪ নভেম্বর প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের মাধবপুর উপজেলার দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের কর্মসূচি ছিল। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে তিনি ওই সফরে প্রটোকলের দায়িত্ব পালন করেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিমন্ত্রী দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন এবং দুপুরের খাবার গ্রহণের পর সেখান থেকেই বিদায় নেন। ওই কর্মসূচিতে কোনো চা বাগান পরিদর্শনের বিষয় ছিল না। ফলে চা বাগানে প্রতিমন্ত্রীকে প্রটোকল দেওয়ার কোনো ঘটনাও ঘটেনি।

ছবি তোলার কারণ ব্যাখ্যা করে মৈত্রী রায় বলেন, প্রতিমন্ত্রীকে বিদায় জানিয়ে অফিসে ফেরার পথে চা বাগানের সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য তার নজরে আসে। জায়গাটি ভালো লাগায় সেখানে দাঁড়িয়ে কয়েকটি ছবি তোলার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

ছবির ক্যাপশন প্রসঙ্গে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রটোকলের ফাঁকে সেল্ফ প্রটোকল’ কথাটি তিনি ব্যক্তিগতভাবে এবং কিছুটা কাল্পনিক অর্থে ব্যবহার করেছিলেন। সরকারি দায়িত্ব পালনের ব্যস্ততার মধ্যে ব্যক্তিগত সময় খুব বেশি পাওয়া যায় না। তাই কাজের ফাঁকে দুই-চার মিনিট নিজের জন্য বের করে নেওয়ার বিষয়টি বোঝাতেই এমন ক্যাপশন দিয়েছিলেন।

নিজের ছবি তোলা কিংবা ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের বিষয়ে মৈত্রী রায় বলেন, সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় নিজের ছবি তোলা বা ব্যক্তিগত আইডিতে প্রকাশ করা যাবে না—এমন কোনো আইন তার জানা নেই।

এ ছাড়া নিজের কর্মস্থলের এলাকার সৌন্দর্য মানুষের সামনে তুলে ধরাও একজন সরকারি কর্মচারী হিসেবে ইতিবাচক দায়িত্ব বলে মনে করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে মৈত্রী রায় বলেন, হবিগঞ্জের মাধবপুর, চুনারুঘাট ও বাহুবলের মতো এলাকার বিভিন্ন সুন্দর জায়গার ছবি প্রকাশ করা হলে অনেকেই সেগুলোকে শ্রীমঙ্গলের দৃশ্য বলে মনে করেন। অথচ এসব জায়গা যে হবিগঞ্জে অবস্থিত, তা অনেকের জানা নেই। তাই স্থানীয় পর্যটন ও দর্শনীয় স্থানগুলোকে পরিচিত করতেও তিনি ছবি প্রকাশ করেন বলে জানান।

নিজের ছবি ও ক্যাপশন নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের পাশাপাশি গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেছেন মৈত্রী রায়। তার অভিযোগ, একটি প্রথম সারির গণমাধ্যম তার অনুমতি ছাড়াই ব্যক্তিগত ছবি প্রকাশ করেছে এবং এমন একটি ক্যাপশন ব্যবহার করেছে, যা বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।

তিনি মনে করেন, কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে তার অনুমতি নেওয়া এবং ঘটনার প্রকৃত প্রেক্ষাপট তুলে ধরা গণমাধ্যমের দায়িত্ব।

সব মিলিয়ে, চা বাগানে তোলা ছবি ও ক্যাপশনকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া আলোচনা-সমালোচনার জবাবে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন মাধবপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মৈত্রী রায়। তার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিমন্ত্রীর সফরের সঙ্গে চা বাগানে ছবি তোলার কোনো সম্পর্ক ছিল না। বরং অফিসে ফেরার পথে নিজের ভালো লাগা থেকেই সেখানে ছবি তুলেছিলেন তিনি।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে