×
ঢাকা, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

‘ভোট চুরি’র পর মোদির বিরুদ্ধে রাহুলের নতুন চুরির বোমা!

২০২৬ নভেম্বর ০৭ ১৮:৩৬:১১
‘ভোট চুরি’র পর মোদির বিরুদ্ধে রাহুলের নতুন চুরির বোমা!

ডেস্ক রিপোর্ট: নির্বাচনী অনিয়ম ও ‘ভোট চুরি’র অভিযোগে টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে রাজনৈতিক ময়দানে সরব থাকার পর এবার ভারতের কেন্দ্রীয় মোদি সরকারের বিরুদ্ধে আমজনতার গাড়ি থেকে ‘পেট্রল চুরি’র সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী। ৭ নভেম্বর (শনিবার) জ্বালানিতে ইথানল মেশানোর ই২০ পলিসির তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, ই২০ পেট্রল দেওয়া নিয়ে সরকারের যে দাবি, বাস্তবে জনগণের সঙ্গে তার বড় প্রতারণা চলছে।

সামাজিক মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ভারতের এই বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, "ই২০ হয়ে গেছে ৪২০—জনগণের গাড়ি থেকেই আসলে পেট্রল চুরি করা হচ্ছে!" উল্লেখ্য, ভারতীয় সাবেক দণ্ডবিধির ৪২০ ধারাটি প্রতারণামূলক অপরাধ চিহ্নিত করতে ব্যবহৃত হতো। একই সঙ্গে ইথানল মিশ্রণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে প্রকাশ্য বিতর্কে বসার পুরনো চ্যালেঞ্জটি পুনরায় ছুঁড়ে দেন তিনি। এর আগে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) সংক্রান্ত অনিয়ম নিয়েও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুখোমুখি বিতর্কের আহ্বান জানিয়েছিলেন রাহুল।

ভারতে মোট ব্যবহৃত অপরিশোধিত তেলের ৮০ শতাংশেরও বেশি বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। সেই আমদানিনির্ভরতা কমাতে গত এক দশকে মোদি সরকার জৈব জ্বালানি কর্মসূচিতে জোর দেয়। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে যেখানে পেট্রলে ইথানল মেশানোর হার ছিল মাত্র দেড় শতাংশের নিচে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা শতক হাঁকিয়ে ২০ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে, যা ই২০ (২০% ইথানলযুক্ত পেট্রল) নামে পরিচিত। তবে সাধারণ গাড়িচালকদের মধ্যে শুরু থেকেই আশঙ্কা রয়েছে যে, সাধারণ ইঞ্জিনে ইথানলের মাত্রা বেশি থাকলে তা ইঞ্জিনের ক্ষতি করতে পারে এবং গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বাড়িয়ে দিতে পারে।

রাহুল গান্ধী তথ্য দিয়ে জানান, কর্ণাটক সরকারের সংগৃহীত নমুনা একটি সরকার-স্বীকৃত পরীক্ষাগারে পরীক্ষার পর অবিশ্বাস্য তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। মোট ১৪টি নমুনার মধ্যে ১১টিতেই ২০ শতাংশের চেয়ে অনেক বেশি ইথানল পাওয়া গেছে। ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনে (আইওসিএল) ইথানলের পরিমাণ মিলিয়াছে ৩১.২ শতাংশ এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়ামে (এইচপিসিএল) ৩০.৫ শতাংশ। আইওসিএল, এইচপিসিএল, বিপিসিএল, নায়ারা কিংবা শেলের মতো সরকারি-বেসরকারি সর্বস্তরের কোম্পানির জ্বালানিতেই নির্দিষ্ট সীমা লঙ্ঘনের প্রমাণ মিলেছে। এই অতিরিক্ত ইথানলের কারণে গাড়ির শক্তি হ্রাস, মাইলেজ কমে যাওয়া এবং ঘনঘন সার্ভিসিংয়ের খরচ বাড়তে পারে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এর মাত্র একদিন আগেই কর্ণাটক রাজ্য সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত বড় তেল কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি ইথানল মেশানোর অভিযোগ তোলে। বেঙ্গালুরু, কোলার, রামনগর ও মাঙ্গালুরুসহ ৭টি জেলা থেকে পেট্রল সংগ্রহ করে এনএবিএল এবং আইএসও সনদপ্রাপ্ত পরীক্ষাগার 'শ্রী রাম রিসার্চ ইনস্টিটিউট'-এ পরীক্ষা করানো হলে এই অতিরিক্ত ইথানল ধরা পড়ে। এর ওপর ভিত্তি করেই কংগ্রেস শাসিত রাজ্যটি অভিযুক্ত কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়।

অন্যদিকে তেল বিপণনকারী রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো (আইওসিএল, বিপিসিএল ও এইচপিসিএল) কর্ণাটক সরকারের এসব অভিযোগ যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে একবাক্যে উড়িয়ে দিয়েছে। তারা নমুনা সংগ্রহের নিয়ম ও ল্যাবরেটরির সনদপত্র পরীক্ষা করার পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে জানায়, তাদের বাজারজাতকৃত পেট্রল ব্যুরো অব ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডসের নিয়ম অর্থাৎ ১৯ থেকে ২১ শতাংশ ইথানল সীমার ভেতরেই বজায় রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে ইথানলের কারণে ইঞ্জিনের ক্ষতি হওয়ার কথা অস্বীকার করা হলেও, ই২০ ব্যবহারে গাড়ির দক্ষতা ৩ থেকে ৫ শতাংশ কমতে পারে বলে ইতিপূর্বে স্বীকার করা হয়েছিল।

পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, ২০১৪-১৫ সাল থেকে ইথানল কর্মসূচির কারণে ভারতে ১ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হয়েছে, ৩১৬ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেলের বিকল্প তৈরি হয়েছে এবং চাষিদের ১ লাখ ৬৬ হাজার কোটি টাকার বেশি পেমেন্ট করা সম্ভব হয়েছে। তবে সবকিছু ছাপিয়ে রাহুল গান্ধীর সোজা কথা— "দেশের মানুষ তাদের গাড়ির ট্যাংকে কী ঢালছে তার উত্তর দিন মোদিজি, আর অনিয়ম করা তেল কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন কবে?"

মিরাজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর

উ
প
রে