×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

ভারতে বসে শেখ হাসিনার নতুন চাল 

২০২৬ নভেম্বর ০৫ ১৬:১২:২৯
ভারতে বসে শেখ হাসিনার নতুন চাল 

নিজস্ব প্রতিবেদক: গত ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পরও বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে সক্রিয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। সম্প্রতি দলের নেতাকর্মীদের নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার খর্ব করার অভিযোগ তুলে জাতিসংঘের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। একই সময়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দলটির সমর্থক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর নির্বিচার শাস্তিমূলক ব্যবস্থার অভিযোগ তোলায় সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।

জাতিসংঘের বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ারদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মৌলিক ও রাজনৈতিক অধিকার হরণ করা হচ্ছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করতে গিয়ে দলটির নেতাকর্মীদের সভা-সমাবেশ ও নির্বাচনের পথ রুদ্ধ করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়। তিনি চিঠিতে দলের ওপর আরোপিত অনানুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলার বিচারপ্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড নিশ্চিত করার দাবি জানান।

গত ৩ নভেম্বর লন্ডন থেকে ‘Bangladesh: Academics Allegedly Targeted for Supporting Hasina’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। সংস্থাটির দাবি, জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর কোনো প্রকার নিরপেক্ষ তদন্ত ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই শুধুমাত্র রাজনৈতিক বিশ্বাসের কারণে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

প্রতিবেদনে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: অন্তত ৪৪ জন শিক্ষককে একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে ৬ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এছাড়া ১২৬ জন শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার এবং সনদ আটকে রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি): ১২ জন শিক্ষককে বরখাস্ত বা সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং আরও ৩৪ জনের একাডেমিক দায়িত্ব সীমিত করা হয়েছে।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়: ১২ জন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত, ১০ জনকে দায়িত্ব থেকে অপসারণ এবং ৮৫ জন শিক্ষকের পদোন্নতি আটকে দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য: ড. মশিউর রহমানকে টক্ শো-তে আন্দোলনের বিরোধিতা ও গণভবনের বৈঠকে উসকানির অভিযোগে পদচ্যুত করা হলেও এইচআরডব্লিউ জানিয়েছে, ভিডিও পর্যালোচনা করে তাঁর এমন বক্তব্যের কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ মেলেনি।

শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ-ভারত কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও গভীর হচ্ছে। ভৌগোলিক অবস্থান, সীমান্ত নিরাপত্তা, ট্রানজিট, বাণিজ্য এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে যোগাযোগের স্বার্থে দিল্লির কাছে ঢাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক ৩০ বছর মেয়াদী ‘গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি’র মেয়াদ চলতি ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হতে চলেছে। পানিবণ্টন চুক্তি নবায়ন, সীমান্ত হত্যা বন্ধ এবং শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর দাবির মতো স্পর্শকাতর ইস্যুগুলো এখন দুই দেশের সম্পর্কের বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শেখ হাসিনার এসব রাজনৈতিক তৎপরতা প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ উর রহমান মন্তব্য করেছেন, শেখ হাসিনা যতদিন বেঁচে থাকবেন, ততদিনই দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাবেন। তবে অন্তর্বর্তী সরকার যেকোনো মূল্যে এ ধরনের অপতৎপরতা প্রতিহত করতে প্রস্তুত রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের মূল চেতনা ছিল একটি ‘বৈষম্যহীন রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠা। তাই জুলাই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি যেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা পাইকারি হয়রানি না ঘটে, সে বিষয়ে সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে। অপরাধের বিচার হতে হবে আইন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে; অন্যথায় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তি ও মানবাধিকার পরিস্থিতি বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে