×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

কারসাজিমুক্ত বাজার ও পতন ঠেকানোর কার্যকর উদ্যোগ চান সংশ্লিষ্টরা

২০২৬ নভেম্বর ০৫ ১৫:০৭:১৬
কারসাজিমুক্ত বাজার ও পতন ঠেকানোর কার্যকর উদ্যোগ চান সংশ্লিষ্টরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: টানা চার কার্যদিবস দরপতনের পর দেশের শেয়ারবাজারে টানা দুই দিন সূচকের উত্থান হয়েছে। গতকালের তুলনায় আজ সূচক বৃদ্ধির পরিমাণও বেশি ছিল। পাশাপাশি টাকার অঙ্কে লেনদেন এবং অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বেড়েছে। তবে মাত্র দুই দিনের উত্থানকে শেয়ারবাজারের স্থিতিশীলতা বা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার লক্ষণ হিসেবে দেখতে রাজি নন বাজার সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা কতদিন অব্যাহত থাকে, তা পর্যবেক্ষণ না করে বাজারের প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই।

দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) হিসাব পুনরায় চালুর অনুমোদনের খবরে গত বুধবার দেশের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের উত্থান ঘটে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) এ সিদ্ধান্তে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে বলে কয়েকটি গণমাধ্যমে দাবি করা হয়। তবে কেবল এই একটি সিদ্ধান্তের কারণেই বাজারে উত্থান হয়েছে বলে মনে করছেন না বাজার সংশ্লিষ্টরা।

তাঁদের মতে, একটি মাত্র সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসে না। অতীতে বাজার উন্নয়নে একাধিক ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও সেগুলোর প্রভাব সূচক ও শেয়ারদরে প্রত্যাশিতভাবে দেখা যায়নি। সেখানে শুধু একটি সিদ্ধান্তের প্রভাবে বাজার স্থায়ীভাবে ঘুরে দাঁড়াবে, এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান কমিশন বাজার উন্নয়নে বেশ কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ ও সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে, যা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। কিন্তু এসব উদ্যোগের পাশাপাশি ধারাবাহিক দরপতন ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপের ঘাটতি রয়েছে। তাঁদের মতে, বাজারের প্রকৃত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে প্রথমে কারসাজি বন্ধ করতে হবে এবং দরপতন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

তাঁদের ভাষ্য, বাজারে অনিয়ম ও কারসাজি বন্ধ না করে শুধু নীতিগত সিদ্ধান্ত কিংবা সংস্কার কার্যক্রমের মাধ্যমে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। এ অবস্থায় মাঝেমধ্যে সূচক বাড়লেও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরবে না। তাই সিদ্ধান্ত গ্রহণের পাশাপাশি বাজার মনিটরিং জোরদার করে কারসাজিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ধারাবাহিক দরপতন ঠেকানো জরুরি।

ডিএসইতে সূচক ও লেনদেন দুটোই বেড়েছে

এদিকে আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের পাশাপাশি টাকার অঙ্কে লেনদেনও বেড়েছে। একই সঙ্গে লেনদেনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, দিন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৭১ দশমিক ৪০ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৪১৩ দশমিক ০৩৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইএস ১০ দশমিক ৮২ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৪৭ দশমিক ৭০ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর ডিএসই-৩০ সূচক ৩১ দশমিক ০১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৮ দশমিক ৬২ পয়েন্টে।

এদিন ডিএসইতে মোট ৩৮৫টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ২৫০টির শেয়ারদর বেড়েছে, ৮৪টির কমেছে এবং ৫১টির দর অপরিবর্তিত ছিল।

দিনটিতে ডিএসইতে মোট ৬৪৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৫২২ কোটি ২৮ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক দিনের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে ১২৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা।

সিএসইতেও সূচক ও লেনদেনের বড় উত্থান

অন্যদিকে, দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) আজ ১৯ কোটি ৫২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে সেখানে লেনদেন হয়েছিল ৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে সিএসইতে লেনদেন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে।

আজ সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৯২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১১৪টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৫৬টির দাম কমেছে এবং ২২টির দর অপরিবর্তিত ছিল।

এদিন সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৩৮ দশমিক ০৭ পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ৪৫৩ দশমিক ৪২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এর আগের কার্যদিবসে সূচকটি ১০০ দশমিক ৬৫ পয়েন্ট বেড়েছিল।

তবে দুই বাজারেই টানা দুই দিনের সূচক বৃদ্ধি, লেনদেনের সম্প্রসারণ এবং অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের দরবৃদ্ধি সত্ত্বেও বাজারের স্থিতিশীলতা নিয়ে এখনই নিশ্চিত হতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, এই ইতিবাচক ধারা কতদিন অব্যাহত থাকে, সেটিই হবে বাজারের প্রকৃত পরিস্থিতি বোঝার গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি।

এসএ খান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর

উ
প
রে