×
ঢাকা, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

মার্জিন ঋণে নয়ছয়: ফেঁসে যাচ্ছে মার্চেন্টাইল ব্যাংক সিকিউরিটিজ!

২০২৬ নভেম্বর ০৪ ১৬:৩৬:০৫
মার্জিন ঋণে নয়ছয়: ফেঁসে যাচ্ছে মার্চেন্টাইল ব্যাংক সিকিউরিটিজ!

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে ব্রোকারেজ হাউসগুলোর অনিয়ম ও শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এবার শেয়ারবাজারের অন্যতম পরিচিত ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান মার্চেন্টাইল ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেড-এর বিশাল অঙ্কের নেগেটিভ ইকুইটি (বিনিয়োগসীমার চেয়ে পোর্টফোলিওর মূল্য কমে যাওয়া) এবং মার্জিন ঋণ সংক্রান্ত নানা অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্তে নেমেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

এই অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যে বিএসইসি তিন সদস্যের একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বিএসইসির 'মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট' থেকে জারি করা সাম্প্রতিক এক আদেশে এই কমিটিকে আগামী ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে বিস্তারিত তদন্ত শেষ করে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

তদন্ত কমিটির সদস্যগণ

কমিটিতে রয়েছেন বিএসইসির অতিরিক্ত পরিচালক ড. মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন এবং সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম ও অমিত অধিকারী।

তদন্তে যেসব স্পর্শকাতর বিষয় উঠে আসবে-

কমিটিকে প্রতিটি বিও (BO) অ্যাকাউন্টভিত্তিক নিখুঁত ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করার বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূলত যেসব মূল বিষয়ে ফোকাস করা হচ্ছে:

আসল সুবিধাভোগী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব শনাক্তকরণ: নেগেটিভ ইকুইটিতে চলে যাওয়া অ্যাকাউন্টগুলোর প্রকৃত সুবিধাভোগী (Beneficiary Owners) কারা এবং এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের পর্ষদ (Board of Directors) ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কী ভূমিকা ছিল, তা বের করা হবে।

স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগসাজশ: বিও অ্যাকাউন্টধারীদের সাথে মার্চেন্টাইল ব্যাংক সিকিউরিটিজের উদ্যোক্তা, পরিচালক, কর্মকর্তা বা অন্যান্য মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের কোনো গোপন সম্পর্ক বা সুবিধা লেনদেন হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।

বিএসইসির নির্দেশনা লঙ্ঘন ও লেনদেন: গত ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বরের পর নেগেটিভ ইকুইটি অ্যাকাউন্টের বিপরীতে কোনো শেয়ার কেনাবেচার আদেশ (Share Purchase Order) কার্যকর করা হয়েছিল কি না এবং এসব অ্যাকাউন্ট থেকে আত্মীয়-স্বজন বা মনোনীত ব্যক্তিদের অ্যাকাউন্টে অর্থ/শেয়ার স্থানান্তর করা হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা হবে।

পোর্টফোলিও পুনর্গঠনের প্রস্তাব ও অসঙ্গতি: গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর কোম্পানিটি পোর্টফোলিও পুনর্গঠনের যে প্রস্তাব দিয়েছিল, তা বিএসইসির আইনের পরিপন্থী ছিল কি না এবং নেগেটিভ ইকুইটি থাকা সত্ত্বেও কোনো পোর্টফোলিও ম্যানেজমেন্ট ফি আদায় করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হবে।

হিসাব ও তথ্যের ক্রস-চেক

তদন্ত কমিটি গ্রাহকদের বকেয়া ঋণের পরিমাণ, অ্যাকাউন্টে থাকা শেয়ারের বর্তমান বাজারমূল্য এবং এর বিপরীতে রক্ষিত প্রভিশনের (নিরাপত্তা সঞ্চিতি) হিসাব মেলাবে। প্রতিষ্ঠানটি বিএসইসির আইন মেনে প্রতি দুই মাস পর পর সঠিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল কি না—তা ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (DSE), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (CSE) এবং সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (CDBL)-এর ডেটার সাথে মিলিয়ে দেখা হবে।

এছাড়া গ্রাহকদের মার্জিন চুক্তিপত্র, কেওয়াইসি (KYC) নথি, ক্রেডিট লিমিট লঙ্ঘন, ফোর্সড সেল (বাধ্যতামূলক শেয়ার বিক্রি), পরিচালনা পর্ষদের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত এবং অভ্যন্তরীণ অডিট প্রতিবেদনগুলোও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করবে বিএসইসির তদন্ত দল।

মিজান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর

উ
প
রে