×
ঢাকা, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

নূরের বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগপত্র নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুললেন বার্গম্যান

২০২৬ নভেম্বর ০২ ১৭:৪৭:৫৯
নূরের বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগপত্র নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুললেন বার্গম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূরের ৮০তম জন্মদিন উপলক্ষে ইতিবাচক সংবাদ প্রকাশ করায় কয়েকটি গণমাধ্যমের সমালোচনা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির এই অবস্থানের সমালোচনা করে ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান প্রশ্ন তুলেছেন, জুলাই আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট হত্যা মামলায় নূরকে আটক রাখার পক্ষে কী ধরনের প্রমাণ রয়েছে।

এক ফেসবুক পোস্টে বার্গম্যানের দাবি, আসাদুজ্জামান নূরের বিরুদ্ধে গুলিবর্ষণ বা হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি। তার অভিযোগ, পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়াই ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে বিবেচনা করছে এনসিপি।

সম্প্রতি আসাদুজ্জামান নূরের জন্মদিন উপলক্ষে প্রতিবেদন প্রকাশ করায় মাছরাঙা টেলিভিশনসহ কয়েকটি গণমাধ্যমের নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দেয় এনসিপি। দলটির বক্তব্য, আওয়ামী লীগের সাবেক এই সংসদ সদস্য আন্দোলনকারীদের হত্যা ও দুর্নীতির অভিযোগে কারাগারে রয়েছেন। তাকে সাবেক সরকারের দীর্ঘদিনের ‘সাংস্কৃতিক স্তম্ভ’ হিসেবে উল্লেখ করে এনসিপি অভিযোগ করে, ইতিবাচকভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে গণমাধ্যমগুলো ফ্যাসিবাদকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে।

এনসিপির এই বক্তব্যের বিরোধিতা করে বার্গম্যান বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে দুই বছরের বেশি সময় ধরে আসাদুজ্জামান নূর আটক রয়েছেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে অপরাধের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি বলে দাবি করেন তিনি।

বার্গম্যানের ভাষ্য অনুযায়ী, নূরের বিরুদ্ধে অপরাধের কোনো ভিডিও ফুটেজ, আপত্তিকর ফোনালাপের রেকর্ড, স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য কিংবা কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) প্রকাশ করা হয়নি। বাড্ডা থানার একটি হত্যা মামলায় তার বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোগপত্রেও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য নেই বলে দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে প্রথম আলোতে প্রকাশিত নিজের সাম্প্রতিক একটি নিবন্ধের কথাও উল্লেখ করেন বার্গম্যান। ওই নিবন্ধে মামলাটির বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন বলে জানান তিনি।

বার্গম্যানের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়াই তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে এবং দীর্ঘদিন আটক রাখা হচ্ছে। তার মতে, পুলিশ ও নিম্ন আদালতের আটকসংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলো যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে না।

বার্গম্যান বলেন, এনসিপির বিবৃতি থেকে এমন ধারণা পাওয়া যায় যে, দলটি এমন একটি বিচারব্যবস্থার প্রতি সমর্থন জানাচ্ছে, যেখানে পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়াই কাউকে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করে কারাগারে আটকে রাখা সম্ভব।

তিনি আরও দাবি করেন, দুর্নীতির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আসাদুজ্জামান নূরের বিরুদ্ধে কোনো মামলা করেনি। ফলে তার বিরুদ্ধে ‘নজিরবিহীন দুর্নীতির’ অভিযোগের ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই সাংবাদিক।

আসাদুজ্জামান নূরকে ‘ফ্যাসিবাদের সাংস্কৃতিক স্তম্ভ’ হিসেবে এনসিপির বর্ণনারও সমালোচনা করেন বার্গম্যান। তার মতে, এ ধরনের বক্তব্যে ১৯৭২ সাল থেকে শুরু হওয়া নূরের দীর্ঘ অভিনয়জীবনের ইতিহাস উপেক্ষা করা হয়েছে। বিএনপির আগের শাসনামলেও তিনি টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেতা ছিলেন বলে উল্লেখ করেন বার্গম্যান।

এনসিপি তাদের বিবৃতিতে বলেছিল, জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত ব্যক্তিদের হত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা শহীদদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা এবং তাদের পরিবারের প্রতি অপমানের শামিল।

এই বক্তব্যেরও সমালোচনা করেছেন বার্গম্যান। তার অভিযোগ, যেসব দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ হাজির করা হয়নি, সেগুলো প্রতিষ্ঠা করতে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের শোককে ব্যবহার করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারও অতীতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হেয় করতে অভিযোগ এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রসঙ্গ ব্যবহার করত। এনসিপি যদি একই ধরনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে চায়, তবে তা দুঃখজনক হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বার্গম্যানের মতে, আসাদুজ্জামান নূরকে কারাগারে আটকে রাখার ক্ষেত্রে প্রধান দায় বিএনপি সরকারের। তবে নির্বিচারে আটকের যে নীতি সরকার অনুসরণ করছে, এনসিপি সেটিকে সমর্থন করছে বলে মনে হচ্ছে।

তিনি বলেন, জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কাউকে বিচারের মুখোমুখি করতে হলে হত্যা বা হত্যাচেষ্টার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ থাকতে হবে। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মুক্তি দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অন্যদিকে, সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অপরাধকে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা বন্ধ করতে গণমাধ্যমগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এনসিপি। একই সঙ্গে একটি গণমাধ্যম কমিশন গঠনের জন্য তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

তবে আসাদুজ্জামান নূরের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে আসা তথ্যের ভিত্তিতে বার্গম্যান এসব প্রশ্ন তুলেছেন। তদন্তকারীদের কাছে অপ্রকাশিত কোনো প্রমাণ রয়েছে কি না, তা এই বক্তব্য থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় না। ফলে অভিযোগ, প্রকাশ্য তথ্য এবং বিচারিকভাবে প্রমাণিত বিষয়—এই তিনটির পার্থক্য বিবেচনায় রেখেই বিষয়টি দেখা জরুরি।

জাহিদ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে