×
ঢাকা, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

এইচএসসিতে ফেল করা শিক্ষার্থীদের জন্য দুঃসংবাদ

২০২৬ নভেম্বর ০২ ১৬:৫৯:৩৫
এইচএসসিতে ফেল করা শিক্ষার্থীদের জন্য দুঃসংবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় তিন বা তার বেশি বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য দুঃসংবাদ। তারা পাস করার লক্ষ্যে বিশেষ সম্পূরক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না। আপাতত শুধু এক বা দুই বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের জন্য এ পরীক্ষার আয়োজনের পরিকল্পনা করছে শিক্ষা বোর্ডগুলো।

আগামী ২ ডিসেম্বর থেকে সম্পূরক পরীক্ষা শুরু করে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ফল প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের বিশেষ সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হলেও তিন বা তার বেশি বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখা হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হলেও অন্য বিষয়গুলোতে ভালো ফল করেছেন। কিন্তু একাধিক বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের যোগ্যতার বিষয়টি আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হচ্ছে। তাই আপাতত তাদের সম্পূরক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।

এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে এক বা দুই বিষয়ে ফেল করেছেন ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন।

এর মধ্যে এক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন ২ লাখ ৯৮ হাজার ৪০ জন এবং দুই বিষয়ে ফেল করেছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৫ জন। এই শিক্ষার্থীরাই সম্পূরক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেতে যাচ্ছেন।

তবে তিন থেকে পাঁচ বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরাও সম্পূরক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ বিভিন্ন কারণে পরীক্ষার প্রস্তুতি ব্যাহত হওয়ায় ফল খারাপ হয়েছে। সম্পূরক পরীক্ষার সুযোগ পেলে তাঁদের একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমবে।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২ ডিসেম্বর থেকে সম্পূরক পরীক্ষা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরীক্ষা গ্রহণ, উত্তরপত্র মূল্যায়ন এবং ফল প্রকাশসহ সব কার্যক্রম ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ জন্য পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে শিক্ষা বোর্ডগুলোর হাতে সময় থাকবে এক মাসেরও কম। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরীক্ষা আয়োজন ও ফল প্রকাশ করতে বোর্ডগুলোকে দ্রুত প্রস্তুতি নিতে হবে।

গত ৩১ অক্টোবর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূরক পরীক্ষা আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানান। শিক্ষার্থীদের একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হওয়া ঠেকাতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এ বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় এ হার প্রায় ৭ শতাংশ কম। গত ২১ বছরের মধ্যে এবারই পাসের হার সর্বনিম্ন। এর আগে ২০০৪ সালে পাসের হার ছিল ৪৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

এবার জিপিএ-৫ পেয়েছেন প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থী, যা গত বছরের তুলনায় অন্তত ২৯ হাজার কম। সার্বিক হিসাবে প্রতি ১০০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ৪৮ জন উত্তীর্ণ হতে পারেননি।

সব মিলিয়ে এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূরক পরীক্ষার উদ্যোগ কিছুটা স্বস্তির সুযোগ তৈরি করলেও তিন বা তার বেশি বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীরা আপাতত সেই সুযোগের বাইরে থাকছেন।

জাহিদ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে