×
ঢাকা, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

মুনাফায় পতন শেয়ারবাজারের ১০ বহুজাতিক কোম্পানির

২০২৬ নভেম্বর ০২ ১৬:৫৬:৩৪
মুনাফায় পতন শেয়ারবাজারের ১০ বহুজাতিক কোম্পানির

নিজস্ব প্রতিবেদক: জ্বালানি সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও দুর্বল ভোক্তা চাহিদার প্রভাবে চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত অধিকাংশ বহুজাতিক কোম্পানির মুনাফায় ধস নেমেছে। জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) তালিকাভুক্ত ১৩টি বহুজাতিক কোম্পানির মধ্যে ছয়টির মুনাফা কমেছে এবং চারটি কোম্পানি লোকসানে রয়েছে। অর্থাৎ মুনাফা হ্রাস ও লোকসান মিলিয়ে মোট ১০টি কোম্পানি নেতিবাচক পরিস্থিতির মুখে পড়েছে।

মুনাফা করা কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন হয়েছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ (বিএটিবিসি) লিমিটেডের। কোম্পানিটির মুনাফা আগের বছরের একই প্রান্তিকের ৩০৫ কোটি ৪ লাখ টাকা থেকে ৬৭ শতাংশ কমে ৯৯ কোটি ৮৩ লাখ টাকায় নেমেছে। বিক্রির পরিমাণ কমে যাওয়াকে এ পতনের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। অন্যদিকে, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের মুনাফা ৪৭ শতাংশ কমে ৬৩ কোটি ৯ লাখ টাকা এবং ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ারের মুনাফা ৩৩ শতাংশ কমে ১৬ কোটি ৪২ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

এ ছাড়া লিন্ডে বাংলাদেশের মুনাফা ১৯ শতাংশ কমে ৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকায় নেমেছে। জ্বালানি ও বিদ্যুতের উচ্চ ব্যয় এবং পণ্য বিতরণ খরচ বৃদ্ধিকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে কোম্পানিটি। মুনাফা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও আগের বছরের তুলনায় সামান্য কমেছে মারিকো ও গ্রামীণফোনের। মারিকোর মুনাফা ১৫৩ কোটি ৪২ লাখ টাকা এবং গ্রামীণফোনের ৭৫০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা হয়েছে। তবে চারটি কোম্পানির লোকসানের কারণে সামগ্রিক চিত্র আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

লোকসান করা কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি লোকসান হয়েছে সিঙ্গার বাংলাদেশের। জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে কোম্পানিটির লোকসান ৬১ শতাংশের বেশি বেড়ে ৭৭ কোটি ১৬ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে লোকসান ছিল ৪৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। আয় ৭ শতাংশ বাড়লেও উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ভোক্তা ইলেকট্রনিকস পণ্যের বাজারে স্থবিরতা এবং ৭৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার নিট অর্থায়ন ব্যয় প্রতিষ্ঠানটির ওপর চাপ তৈরি করেছে। হাইডেলবার্গ ম্যাটেরিয়ালস বাংলাদেশ ৯২ লাখ টাকা মুনাফা থেকে ২০ কোটি ৪১ লাখ টাকা লোকসানে চলে গেছে। অন্যদিকে, আরএকে সিরামিকসের লোকসান হয়েছে ৫ কোটি ৯ লাখ টাকা, যদিও আগের বছরের তুলনায় তাদের লোকসান কমেছে। বাটা শুর লোকসানও ১৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা থেকে কমে ৫ কোটি টাকায় নেমেছে।

বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, তৃতীয় প্রান্তিকে জ্বালানি সংকট বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর মুনাফায় বড় আঘাত হেনেছে। জুলাইয়ের শেষ দিকে মহেশখালীর কাছে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হয়। এতে গ্যাস সংকট তীব্র হয়ে ওঠে এবং লোডশেডিং একপর্যায়ে ৩ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। পাশাপাশি বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, ডিজেল জেনারেটরের ওপর নির্ভরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতজনিত জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধিতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালন ব্যয় বেড়ে যায়। ফলে বিক্রি ও আয় ধরে রাখলেও অনেক কোম্পানি মুনাফা ধরে রাখতে পারেনি।

এসউদ্দিন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর

উ
প
রে