×
ঢাকা, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

৪৭ বছর পর পাইওনিয়ার ব্যাংকের জমি বুঝে পেলেন ১১ ক্রেতা

২০২৬ নভেম্বর ০২ ১০:১৩:৩৩
৪৭ বছর পর পাইওনিয়ার ব্যাংকের জমি বুঝে পেলেন ১১ ক্রেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক: অবলুপ্তির প্রায় ৭৭ বছর পরও সম্পদ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া চলমান থাকা পাইওনিয়ার ব্যাংকের জমির একটি অংশ বুঝে পেয়েছেন ১১ ক্রেতা। দীর্ঘ আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার খেওড়া মৌজায় অবস্থিত ২৬৮ শতাংশ জমির দলিল ক্রেতাদের হাতে তুলে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে মালিকানা নিয়ে মামলা থাকায় বাকি ১০৫ শতাংশ জমি এখনো হস্তান্তর করা সম্ভব হয়নি।

রোববার (১ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ক্রেতাদের কাছে জমির দলিল হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি গভর্নর-১ ড. মো. হাবিবুর রহমান এবং ডেপুটি গভর্নর-২ ড. মো. কবির আহমেদ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার খেওড়া মৌজায় অবস্থিত পাইওনিয়ার ব্যাংকের জমিগুলো গত ৩১ জানুয়ারি উন্মুক্ত নিলামে বিক্রি করা হয়। নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতারা জমিগুলো কেনেন। সুপ্রিম কোর্টের নিয়োগ করা একজন যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ নিলাম কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

তবে নিলামের পর কয়েকজন ব্যক্তি বিক্রি হওয়া জমির ১০৫ শতাংশের মালিকানা দাবি করে মামলা করেন। ফলে ওই অংশের জমির দলিল হস্তান্তর প্রক্রিয়া আটকে যায়।

অন্যদিকে, বাকি ২৬৮ শতাংশ জমি ক্রেতাদের নামে নিবন্ধনের অনুমতি চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট ওই জমি নিবন্ধনের নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে ১১ ক্রেতার কাছে জমির দলিল হস্তান্তর করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ১৯৭৭ সালের ২৬ জুলাই হাইকোর্টের আদেশে ১৭টি অবলুপ্ত ব্যাংকের অবসায়ক বা লিকুইডেটর হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৭৮ সালের ৪ আগস্ট আদালতের নির্দেশে এসব ব্যাংকের জমি বিক্রি, তহবিল ব্যবস্থাপনা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় অবসায়ককে।

সেই দায়িত্বের অংশ হিসেবেই অবলুপ্ত পাইওনিয়ার ব্যাংকের জমিগুলো নিলামে বিক্রি করা হয়। তবে জমির মালিকানা নিয়ে মামলা চলমান থাকায় ১০৫ শতাংশ জমি এখনো ক্রেতাদের কাছে হস্তান্তর করা যায়নি।

পাইওনিয়ার ব্যাংকের যাত্রা শুরু হয়েছিল ব্রিটিশ ভারত আমলে। কুমিল্লায় প্রধান কার্যালয় নিয়ে প্রতিষ্ঠিত ব্যাংকটির ১৯৪৬ সালে ৩১টি শাখা ছিল। পরে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয় কলকাতায় স্থানান্তর করা হয়।

কলকাতা হাইকোর্টের আদেশে ১৯৪৯ সালের জুলাই মাসে ব্যাংকটির অবসায়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরপর ব্যাংকটির পাওনা আদায় ও সম্পদ নিষ্পত্তির কার্যক্রম চলতে থাকে।

দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ব্যাংকটির কিছু সম্পদ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি। সর্বশেষ বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে ২৬৮ শতাংশ জমি ১১ ক্রেতার কাছে হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে সেই দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় আরেকটি ধাপ সম্পন্ন হলো। তবে বাকি ১০৫ শতাংশ জমির নিষ্পত্তি নির্ভর করছে চলমান মামলার ফলাফলের ওপর।

জাহিদ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর

উ
প
রে