×
ঢাকা, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

জার্মানিতে জেন-জি আন্দোলন তীব্র, দোকানপাটে ভাঙচুর-লুটপাট

২০২৬ নভেম্বর ০১ ১২:১৫:২৩
জার্মানিতে জেন-জি আন্দোলন তীব্র, দোকানপাটে ভাঙচুর-লুটপাট

নিজস্ব প্রতিবেদক: শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার বিরোধিতাসহ নানা দাবিতে জার্মানিজুড়ে বিক্ষোভে নেমেছে জেন-জি প্রজন্মের তরুণেরা। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দেশটির বিভিন্ন শহরে আয়োজিত এ কর্মসূচি একপর্যায়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ফ্রাঙ্কফুর্টে সংঘর্ষ, দোকানপাটে লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

জার্মানির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক কেন্দ্র ফ্রাঙ্কফুর্টের কেন্দ্রস্থলে অন্তত দুটি দোকানে লুটপাট চালানো হয়। এ ছাড়া কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের খবর পাওয়া গেছে। বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশের দিকে ককটেল বা মোলোটভ ককটেল নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।

ফ্রাঙ্কফুর্ট পুলিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানায়, শহরের কেন্দ্রস্থলে সহিংস বিশৃঙ্খলা অব্যাহত রয়েছে। কয়েকটি দোকানের জানালা ভাঙচুর করা হয়েছে এবং জরুরি সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের লক্ষ্য করে মোলোটভ ককটেল নিক্ষেপ করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে পথচারীদের শহরের কেন্দ্রস্থল এড়িয়ে চলা অথবা ওই এলাকা ছেড়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয় পুলিশ।

আন্দোলনকারীদের পূর্বাভাসে প্রায় ১ লাখ ৮২ হাজার মানুষের অংশগ্রহণের কথা বলা হলেও পুলিশের হিসাবে ফ্রাঙ্কফুর্ট, মিউনিখ ও বার্লিনে সব মিলিয়ে প্রায় ১৮ হাজার বিক্ষোভকারী অংশ নেন। অন্যদিকে, আয়োজকদের ওয়েবসাইটে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ৩৬ হাজার বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

হ্যালোইন উৎসবের দিন আয়োজিত এসব কর্মসূচি শুধু বড় শহরগুলোতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। হামবুর্গের কয়েকটি স্থানে ব্যারিকেডে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

বার্লিনের সমাবেশে জেন-জি রেজেল্ট সংগঠনের মুখপাত্র লিনা ফ্রিডরিখ বলেন, যুদ্ধ ও বাধ্যবাধকতার পরিবর্তে শান্তি ও স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান জানাতেই তারা সমবেত হয়েছেন।

আন্দোলনের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাব্যবস্থায় আরও ভালো সহায়তা নিশ্চিত করা তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার বিরোধিতা এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক বোঝার ন্যায্য বণ্টনের দাবি জানান তিনি।

মিউনিখের সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী স্টিভ চ্যান্সেলরের। তিনি জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের সরকারের সমালোচনা করে বলেন, তরুণদের উদ্বেগের জবাবে সরকার ছাঁটাই ও বাড়তি বোঝা চাপানোর মতো পদক্ষেপ নিচ্ছে। তাদের দাবি উপেক্ষা করা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সমবেত হওয়ার অধিকার প্রয়োগ করে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।

শুধু সামরিক সেবা বা জীবনযাত্রার ব্যয় নয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত দুরবস্থা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

বার্লিন টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী শন বেকার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবন ও শ্রেণিকক্ষের জরাজীর্ণ অবস্থার কথা তুলে ধরেন। তার ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু কক্ষ ও ভবনের অবস্থা পরিত্যক্ত স্থাপনার মতো হলেও শিক্ষার্থীদের সেখানেই নিয়মিত পড়াশোনা করতে হচ্ছে।

জার্মানির হেসি রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোমান পসেক বিক্ষোভে সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি ফ্রান্সের অতীতের সহিংস বিক্ষোভ ও লুটপাটের ঘটনাগুলোর কথা উল্লেখ করেন। তার মতে, দোকানপাটে লুটপাট, পুলিশের গাড়িতে আগুন এবং কর্মকর্তাদের ওপর হামলার মতো ঘটনাকে কোনোভাবেই অনুসরণযোগ্য উদাহরণ হিসেবে দেখা উচিত নয়।

এদিকে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোর অনুপ্রবেশের আশঙ্কায় বার্লিনের অভিজাত কুর্ফুর্স্টেনডাম শপিং অ্যাভিনিউসহ বিভিন্ন শহরের কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়। কোথাও কোথাও দোকানের সামনের অংশ কাঠের তক্তা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়।

জার্মানির জাতীয় শিক্ষার্থী সংস্থা বিএসকে চলমান আন্দোলন থেকে নিজেদের দূরে রেখেছে। সংগঠনটি আগামী ২০ নভেম্বর পৃথক কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে সার্বিয়া ও ফ্রান্সে জেন-জি নেতৃত্বাধীন গণবিক্ষোভের পর ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জার্মানিতেও তরুণদের মধ্যে অসন্তোষ প্রকাশ্যে এসেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সামরিক সেবা নিয়ে তরুণদের উদ্বেগ দেশটির রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

জাহিদ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর

উ
প
রে