×
ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

ক্যাশিয়ার থেকে এসআই, একযোগে ক্লোজড ২৮ পুলিশ সদস্য!

২০২৬ অক্টোবর ৩০ ১৮:৪৮:৫১
ক্যাশিয়ার থেকে এসআই, একযোগে ক্লোজড ২৮ পুলিশ সদস্য!

নিজস্ব প্রতিবেদক: বেতন-ভাতার বাইরে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগে খুলনা রেঞ্জের বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত ২৮ পুলিশ সদস্যকে একযোগে ক্লোজড (প্রত্যাহার) করা হয়েছে। প্রত্যাহার হওয়া সদস্যদের মধ্যে পুলিশের বাবুর্চি থেকে শুরু করে উপপরিদর্শক (এসআই) পদমর্যাদার সদস্যও রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট থানা ও বিভিন্ন ইউনিটে ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত এসব সদস্যের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয় থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খুলনা রেঞ্জের আওতাধীন বিভিন্ন জেলা ও ইউনিটে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বেতন-ভাতার বাইরে অতিরিক্ত অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ পাওয়া যায়। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২৮ জনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

প্রত্যাহার হওয়া সদস্যদের তালিকায় খুলনা, বাগেরহাট, যশোর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা জেলার বিভিন্ন থানা, ট্রাফিক বিভাগ এবং গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত পুলিশ সদস্যরা রয়েছেন।

পুলিশের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও পেশাগত সততা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের অন্যতম দায়িত্ব। কিন্তু দায়িত্ব পালনের সময় কোনো সদস্য ব্যক্তিগত স্বার্থে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করলে তা পুরো বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে।

বিশেষ করে মামলা গ্রহণ, তদন্ত, অপরাধ দমন কিংবা অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে অর্থের বিনিময়ে পক্ষপাতের অভিযোগ উঠলে সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, পুলিশ সদস্যদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর অন্যতম উদ্দেশ্য তাদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করা। এরপরও কেউ অনৈতিকভাবে বাড়তি সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করলে তা বাহিনীর শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে।

তাদের মতে, এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে শুধু প্রত্যাহার বা বদলি যথেষ্ট নয়; অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়াও জরুরি।

এ বিষয়ে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল করিম বলেন, দুর্নীতি, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রথমে পুলিশ বাহিনীর ভেতরেই শুদ্ধি অভিযান চালানো হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের প্রবণতা আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং পুলিশের প্রতি জনআস্থা তৈরির ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে আইজিপিরও নির্দেশনা রয়েছে।

ডিআইজি জানান, আইজিপির নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় খুলনা বিভাগে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ধরে রাখতে বাহিনীর অভ্যন্তরীণ জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী আইনি পদক্ষেপ নেওয়াও জরুরি।

খুলনা রেঞ্জে একযোগে ২৮ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহারের এ সিদ্ধান্তকে বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও অনিয়ম প্রতিরোধে নেওয়া পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জাহিদ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে