×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

৩ মাস পরপর মুনাফা পেতে চাইলে জেনে নিন এই সঞ্চয়পত্রের নিয়ম

২০২৬ অক্টোবর ২৯ ২০:০৩:৩৫
৩ মাস পরপর মুনাফা পেতে চাইলে জেনে নিন এই সঞ্চয়পত্রের নিয়ম

নিজস্ব প্রতিবেদক: নিরাপদ বিনিয়োগের পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময় পরপর মুনাফা পেতে চান অনেকেই। তাঁদের জন্য তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র হতে পারে একটি বিকল্প। তিন বছর মেয়াদি এ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করলে প্রতি তিন মাস অন্তর মুনাফা তোলার সুযোগ রয়েছে। বিনিয়োগের পরিমাণ ও মেয়াদের ওপর নির্ভর করে মুনাফার হারও ভিন্ন হয়।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে সাড়ে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে তিন বছর মেয়াদ পূর্ণ হলে মুনাফার হার ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ। আর সাড়ে সাত লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে এ হার ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এ হার বহাল রাখার সিদ্ধান্তের তথ্যও পাওয়া গেছে।

তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র এক লাখ, দুই লাখ, পাঁচ লাখ ও ১০ লাখ টাকা মূল্যমানের পাওয়া যায়। জেলা সঞ্চয় অফিস, জাতীয় সঞ্চয় বিশেষ ব্যুরো, বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখা, বাণিজ্যিক ব্যাংক ও ডাকঘর থেকে এটি কেনা এবং নগদায়ন করা যায়।

এ সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ তিন বছর। এর অন্যতম সুবিধা হলো, মেয়াদ শেষ হওয়ার অপেক্ষা না করেই নির্ধারিত সময় অন্তর মুনাফা তোলা যায়। তবে মেয়াদপূর্তির আগে সঞ্চয়পত্র নগদায়ন করলে পূর্ণ মেয়াদের মুনাফার হার পাওয়া যায় না।

মুনাফার হার বিনিয়োগের পরিমাণ এবং কত বছর পর সঞ্চয়পত্র নগদায়ন করা হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করে। জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের প্রকাশিত হার অনুযায়ী, মেয়াদপূর্তিতে মুনাফার হার নিচে দেওয়া হলো।

এখানে উল্লেখিত হার বার্ষিক মুনাফার হার। অর্থাৎ, ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ হারে এক লাখ টাকা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বছরে মোট মুনাফা হয় ১১ হাজার ৮২০ টাকা এবং তিন মাসের হিসাবে তা ২ হাজার ৯৫৫ টাকা। এটি কর কাটার আগের হিসাব। প্রকৃত প্রাপ্তি উৎসে কর ও প্রযোজ্য বিধির ওপর নির্ভর করবে।

মেয়াদপূর্তির আগে নগদায়নের ক্ষেত্রে প্রাপ্য মুনাফা পুনর্নির্ধারণ করা হয়। আগে বেশি মুনাফা দেওয়া হয়ে থাকলে অতিরিক্ত অর্থ মূল টাকা থেকে সমন্বয় করে অবশিষ্ট অর্থ ফেরত দেওয়া হতে পারে।

সব শ্রেণি ও পেশার বাংলাদেশি নাগরিক এ সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন। এ ছাড়া নির্দিষ্ট আইন ও বিধিমালার শর্ত পূরণ সাপেক্ষে স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিল, নির্দিষ্ট কৃষি ও খামারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং কিছু নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানও এতে বিনিয়োগ করতে পারে।

অটিস্টিক ব্যক্তিদের সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান, দুস্থ ও অনাথ শিশুদের নিবন্ধিত আশ্রয়কেন্দ্র এবং প্রবীণদের জন্য নিবন্ধিত আশ্রয়কেন্দ্রের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি একক নামে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা এবং যুগ্ম নামে সর্বোচ্চ ৬০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করতে পারবেন।

প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন নিবন্ধিত সংস্থার ক্ষেত্রে বিনিয়োগসীমা আলাদা। যেমন, নির্দিষ্ট শর্তে স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিলের ক্ষেত্রে মোট স্থিতির ৫০ শতাংশ পর্যন্ত, তবে সর্বোচ্চ ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। ফার্মের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বিনিয়োগসীমা দুই কোটি টাকা। নির্দিষ্ট সহায়তাকারী ও আশ্রয়কেন্দ্রের জন্য এ সীমা পাঁচ কোটি টাকা।

সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর প্রচলিত আয়কর আইন অনুযায়ী উৎসে কর কাটা হয়। করের হার বিনিয়োগের পরিমাণ, বিনিয়োগকারীর ধরন এবং প্রযোজ্য আইন ও বিধির ওপর নির্ভর করতে পারে। তাই বিনিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট সঞ্চয় অফিস বা ব্যাংক থেকে বর্তমান করের হার জেনে নেওয়া উচিত।

এ সঞ্চয়পত্র কেনার সময় নমিনি নিয়োগ করা যায়। সঞ্চয়পত্রের ক্রেতা মারা গেলে নমিনি প্রযোজ্য নিয়ম অনুসারে সঞ্চয়পত্র নগদায়ন করে টাকা তুলতে পারেন। চাইলে মেয়াদ পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত প্রতি তিন মাস অন্তর মুনাফাও তুলতে পারেন।

তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের আগে কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। প্রথমত, এটি তিন বছর মেয়াদি হওয়ায় বিনিয়োগের অর্থ কত দিন প্রয়োজন হবে না, তা ভেবে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। দ্বিতীয়ত, মেয়াদপূর্তির আগে নগদায়ন করলে মুনাফার পরিমাণ কমে যেতে পারে। তৃতীয়ত, উৎসে কর কাটার পর প্রকৃত মুনাফা হিসাব করতে হবে।

সবশেষে, বিনিয়োগের সময় জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের সর্বশেষ নির্দেশনা ও প্রযোজ্য বিধিমালা যাচাই করা জরুরি। এতে মুনাফার হার, কর এবং বিনিয়োগসীমা সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাওয়া যাবে।

সাদ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর

উ
প
রে