×
ঢাকা, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

শেয়ারবাজারে ১০ টেক্সটাইল বন্ধ, বিপাকে হাজারো ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী

২০২৬ অক্টোবর ২৪ ১৮:৫৪:৪৪
শেয়ারবাজারে ১০ টেক্সটাইল বন্ধ, বিপাকে হাজারো ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া একের পর এক পোশাক ও বস্ত্র (টেক্সটাইল) খাতের কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় কোম্পানিগুলোর আইপিও (প্রাথমিক গণপ্রস্তাব) অনুমোদনের সময়কার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও তদারকি নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ১৬টি টেক্সটাইল কোম্পানি শেয়ারবাজার থেকে তালিকাভুক্তির মাধ্যমে ২,২০১ কোটি টাকা মূলধন সংগ্রহ করেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে তার মধ্যে ১০টি নিবন্ধিত কোম্পানির উৎপাদনই পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

খাত সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, তালিকাভুক্তির অনুমোদনের আবেদন করার সময় অনেক টেক্সটাইল কোম্পানিই তাদের প্রকৃত আর্থিক অবস্থার তথ্য গোপন বা মিথ্যা চিত্র উপস্থাপন করেছিল। ফলে মূল আর্থিক সক্ষমতায় গলদ থাকা সত্ত্বেও বাজার থেকে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ পায় কোম্পানিগুলো।

ডিএসইর গত ১২ অক্টোবরের (২০২৬) হিসাব অনুযায়ী, শেয়ারবাজারে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়া মোট ৩৭টি তালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে ১৪টিই টেক্সটাইল খাতের প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে বাজারে তালিকাভুক্ত মোট ৫৮টি টেক্সটাইল কোম্পানির মধ্যে ১৪টি কারখানা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে এবং আরও ২৮টি কোম্পানি আর্থিক চরম সংকট ও অনিয়মের কারণে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অবনমিত অবস্থায় রয়েছে।

সাধারণত পর পর দুই বছর ডিভিডেন্ড প্রদানে ব্যর্থতা, নির্ধারিত সময়ে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) না করা, টানা ছয় মাসের বেশি সময় ধরে কারখানা বন্ধ রাখা কিংবা পরিশোধিত মূলধনের চেয়ে সঞ্চিত লোকসান বেশি হয়ে গেলে যেকোনো কোম্পানিকে ঝুঁকিপূর্ণ বা ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করা হয়।

বাজার বিশ্লেষকরা অভিযোগ করছেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে তালিকাভুক্ত হওয়া অধিকাংশ টেক্সটাইল কোম্পানিই বাজারে আসার সময় কাল্পনিক মুনাফা ও মিথ্যা আর্থিক বিবরণী দেখিয়েছিল। এমনকি কোনো কোনো কোম্পানির বাস্তবে কোনো স্থায়ী কারখানাই ছিল না বলে তিনি গুরুতর অভিযোগ তোলেন।

তারা আরও জানান, বর্তমানে তালিকাভুক্ত টেক্সটাইল কোম্পানিগুলো তীব্র চলতি মূলধন সংকটে ভুগছে, যা তাদের ব্যবসায়িক অবস্থাকে আরও সংকটময় করে তুলছে। সরকার বন্ধ ও নিষ্ক্রিয় কারখানার পুনর্বাসনে বিশেষ তহবিলের ঘোষণা দিলেও ব্যাংকগুলোর কঠোর শর্ত ও অনীহার কারণে বেশিরভাগ উদ্যোক্তাই সেই ঋণ সুবিধা পেতে ব্যর্থ হচ্ছেন।

ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ এই বিষয়ে সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মূলত শেয়ার বিক্রি করে বাজার থেকে টাকা তুলে নেওয়ার উদ্দেশ্যে অনেক দুর্বল টেক্সটাইল কোম্পানি বাজারে এসেছিল। তৎকালীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও কর্তৃপক্ষ কোনো প্রকার কঠোর বা সঠিক যাচাই-বাছাই ছাড়াই সেগুলোকে অনৈতিকভাবে অনুমোদন দিয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এদিকে, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মইনুল ইসলাম সংবাদ মাধ্যমকে জানান, বিগত সরকারের মেয়াদে ডিএসইর তীব্র আপত্তি ও দুর্বল আর্থিক বিবরণীর সতর্কবার্তা থাকা সত্ত্বেও তৎকালীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্তির অনুমতি দিয়েছিল। অনিয়ম করে আসা এসব কোম্পানির ধারাবাহিক বাজে পারফরম্যান্স সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা ভেঙে দিয়েছে এবং গোটা শেয়ারবাজারকে মারাত্মকভাবে দুর্বল করেছে। তবে বর্তমানে আইপিও অনুমোদন ও তালিকাভুক্তি নিয়মে বেশ কিছু সংস্কার এবং তদারকি বৃদ্ধি করায় আগামীতে পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।

অন্যদিকে, একের পর এক টেক্সটাইল কারখানা বন্ধ হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) এক কর্মকর্তা বলেন, কাঁচামালের আকাশচুম্বী দাম, ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ যন্ত্রাংশের উচ্চ মূল্য, চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট এবং সার্বিক অর্থনৈতিক মন্দার কারণেই অধিকাংশ কোম্পানি উৎপাদন স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছে।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর

উ
প
রে