×
ঢাকা, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

‘অনেক বাচ্চাকে চুমু দিয়েছি, আমাকে মারার সাহস আছে?’

২০২৬ অক্টোবর ২৪ ১৬:৪৩:৪৮
‘অনেক বাচ্চাকে চুমু দিয়েছি, আমাকে মারার সাহস আছে?’

নিজস্ব প্রতিবেদক: গাজীপুরের টঙ্গীতে ছয় বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গ্রেপ্তার শিক্ষকের পক্ষে বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় এসেছেন হাফেজ ক্বারী জুবায়ের আহমাদ তাশরীফ। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের তুলনায় শাস্তি বেশি হওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। এ সময় নিজের প্রসঙ্গ টেনে শিশুদের চুমু দেওয়ার কথা উল্লেখ করে একটি মন্তব্যও করেন তাশরীফ, যা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে মাদরাসা ভাঙচুরের সমালোচনা করে তাশরীফ বলেন, ‘মাদরাসা ভাঙচুর করবে কেন? তার বাপের প্রতিষ্ঠান নাকি এটা?’ তাঁর দাবি, অভিযুক্ত শিক্ষক শিক্ষার্থীকে চুমু দেননি; বরং ভালো ফল করলে চুমু দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।

বক্তব্যের একপর্যায়ে নিজের প্রসঙ্গ টেনে ক্বারী তাশরীফ বলেন, ‘এখন আমি যদি এই কথা বলি যে আমাদের অনেক বাচ্চাদেরকে আমি চুমা দিছি, তাইলে আমারে মারার সাহস আছে?’

তিনি আরও দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর দুটি ফেসবুক আইডি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে তাঁকে দমিয়ে রাখা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে তাশরীফ বলেন, অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী শাস্তি হওয়া উচিত। তিনি বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক ধর্ষণ করেছেন বা এ ধরনের অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর শাস্তির বিষয়টি ভিন্নভাবে বিবেচনা করা যেত। তবে তাঁর বক্তব্যে অভিযোগের গুরুত্ব ও অভিযুক্ত শিক্ষকের আচরণ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘যতটুকু অপরাধ, শাস্তি ততটুকু হতে পারে।’ শিক্ষকের পক্ষ নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, তিনি কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের হয়ে কথা বলতে চান না।

এ সময় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বক্তব্য ছড়িয়ে পড়বে বলেও মন্তব্য করেন। শাহজালাল রুমির উদ্দেশে সরাসরি আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়ে নিজের বক্তব্য ব্যাখ্যা করার কথাও বলেন তিনি।

প্রসঙ্গত, গাজীপুরের টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার করিউল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসায় ছয় বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে প্রতিষ্ঠানের ভাইস প্রিন্সিপাল মুসলেউদ্দিনের বিরুদ্ধে। গত বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে চড় মারার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। শিশুর নিরাপত্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের দায়িত্ব এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনানুগ বিচারের বিষয়গুলোও আলোচনায় আসে।

শিশুর প্রতি অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের অভিযোগের ক্ষেত্রে ঘটনার প্রকৃত সত্য নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে শিশুর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করাও জরুরি।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

ধর্ম ও জীবন এর সর্বশেষ খবর

ধর্ম ও জীবন - এর সব খবর

উ
প
রে