×
ঢাকা, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

আজ রাতেই আকাশে উল্কাবৃষ্টির সম্ভাবনা, বাংলাদেশ থেকে দেখবেন যেভাবে

২০২৬ অক্টোবর ২১ ২২:০৯:৩২
আজ রাতেই আকাশে উল্কাবৃষ্টির সম্ভাবনা, বাংলাদেশ থেকে দেখবেন যেভাবে

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাতের আকাশে উল্কার ঝলকানি দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। হ্যালির ধূমকেতুর রেখে যাওয়া ধূলিকণা ও ক্ষুদ্র পাথুরে কণার মধ্য দিয়ে পৃথিবীর অতিক্রমের ফলে সৃষ্টি হওয়া ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টির সক্রিয় সময় চলছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বুধবার (২১ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ভোর পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকেও এ মহাজাগতিক দৃশ্য উপভোগ করা যেতে পারে।

মহাকাশবিষয়ক তথ্য অনুযায়ী, আকাশ পরিষ্কার ও পরিবেশ অন্ধকার থাকলে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১০ থেকে ২০টি পর্যন্ত উল্কা দেখা যেতে পারে। তবে বাস্তবে কতটি উল্কা চোখে পড়বে, তা নির্ভর করবে আকাশের স্বচ্ছতা, চাঁদের আলো এবং আশপাশের কৃত্রিম আলোর ওপর। উজ্জ্বল চাঁদ ও শহরের আলোকদূষণের কারণে তুলনামূলক ক্ষীণ উল্কাগুলো দেখা কঠিন হতে পারে।

এ উল্কাবৃষ্টি দেখতে টেলিস্কোপ বা দূরবীনের প্রয়োজন নেই। খালি চোখেই দেখা সম্ভব। তবে উল্কার ঝলকানি ভালোভাবে উপভোগ করতে হলে শহরের উজ্জ্বল আলো থেকে দূরে খোলা জায়গা বেছে নেওয়া এবং কিছুটা সময় নিয়ে আকাশ পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।

ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টির উৎস হ্যালির ধূমকেতুর রেখে যাওয়া ধূলিকণা ও ক্ষুদ্র পাথুরে কণা। পৃথিবী প্রতিবছর সূর্যকে প্রদক্ষিণ করার সময় অক্টোবর মাসে এসব মহাজাগতিক কণার ছড়িয়ে থাকা পথ অতিক্রম করে। তখন কণাগুলো প্রচণ্ড গতিতে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে।

বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় কণাগুলোর চারপাশের গ্যাস উত্তপ্ত ও আয়নিত হয়ে আলো তৈরি করে। রাতের আকাশে তখন উজ্জ্বল আলোর রেখা দেখা যায়, যা সাধারণভাবে ‘খসে পড়া তারা’ নামে পরিচিত। তবে এগুলো প্রকৃতপক্ষে তারা নয়; বরং বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করা মহাজাগতিক কণার কারণে সৃষ্ট আলোর ঝলকানি।

ওরিওন নক্ষত্রমণ্ডলের দিক থেকে উল্কাগুলোকে ছুটে আসতে দেখা যায় বলে এ উল্কাবৃষ্টির নাম রাখা হয়েছে ওরিওনিড। হ্যালির ধূমকেতু প্রায় ৭৬ বছর পরপর সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। ধূমকেতুটিকে ২০৬১ সালে আবার পৃথিবী থেকে দেখার সম্ভাবনা রয়েছে।

বুধবার মধ্যরাতের পর থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টি দেখার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ভোরের আগের কয়েক ঘণ্টায় আকাশ পরিষ্কার ও অন্ধকার থাকলে উল্কা দেখার সম্ভাবনা বাড়তে পারে।

অনুকূল পরিস্থিতিতে প্রতি ঘণ্টায় ১০ থেকে ২০টি পর্যন্ত উল্কা দেখা যেতে পারে। তবে এটি সম্ভাব্য হার, নিশ্চিত সংখ্যা নয়। মেঘলা আকাশ, চাঁদের উজ্জ্বলতা কিংবা শহরের কৃত্রিম আলো বেশি থাকলে দৃশ্যমান উল্কার সংখ্যা কমে যেতে পারে।

বাংলাদেশ থেকে যেভাবে দেখবেন উল্কাবৃষ্টি

ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টি দেখতে বিশেষ কোনো যন্ত্রের প্রয়োজন নেই। কয়েকটি বিষয় মেনে চললে এ দৃশ্য দেখার সুযোগ বাড়তে পারে।

১. অন্ধকার জায়গা বেছে নিন: শহরের উজ্জ্বল বাতি, ভবন ও সড়কের আলো থেকে দূরে খোলা জায়গায় অবস্থান করুন।

২. আকাশ পরিষ্কার কি না দেখুন: মেঘমুক্ত আকাশে উল্কা দেখার সম্ভাবনা বেশি। তাই বাইরে যাওয়ার আগে স্থানীয় আবহাওয়ার অবস্থা জেনে নিন।

৩. চোখকে অন্ধকারে অভ্যস্ত হতে দিন: অন্ধকার পরিবেশে পৌঁছানোর পর অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট সময় দিন। এ সময় মোবাইল ফোনের উজ্জ্বল পর্দা ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।

৪. আকাশের বিস্তৃত অংশে নজর রাখুন: নির্দিষ্ট একটি বিন্দুতে তাকিয়ে না থেকে আকাশের যতটা সম্ভব বড় অংশ পর্যবেক্ষণ করুন। এতে উল্কার ঝলকানি চোখে পড়ার সম্ভাবনা বাড়বে।

৫. ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করুন: উল্কা নিয়মিত বিরতিতে দেখা যায় না। তাই একটানা কিছু সময় আকাশের দিকে নজর রাখুন।

ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কণাগুলো ঘণ্টায় প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার ৬০০ মাইল বেগে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করতে পারে। প্রচণ্ড গতির কারণে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় কণাগুলোর চারপাশের গ্যাস উত্তপ্ত ও আয়নিত হয়, ফলে উজ্জ্বল আলোর রেখা তৈরি হয়।

সব মিলিয়ে, বুধবার মধ্যরাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত বাংলাদেশের আকাশে ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টি দেখার সুযোগ থাকতে পারে। তবে পরিষ্কার আকাশ, কম আলোকদূষণ এবং চাঁদের আলোর অবস্থা এ দৃশ্য দেখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে