×
ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

মেসেজে সালামের জবাব না দিলে কি গুনাহ হবে? জানুন বিস্তারিত

২০২৬ অক্টোবর ১৬ ০৯:৩৮:১৪
মেসেজে সালামের জবাব না দিলে কি গুনাহ হবে? জানুন বিস্তারিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ কিংবা ইমোর মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ সালাম দিলে তার উত্তর দেওয়া কি ওয়াজিব? সরাসরি সালাম দেওয়ার মতো মেসেজের সালামের জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রেও কি একই বিধান প্রযোজ্য? ইসলামী শরিয়তের আলোকে বিষয়টি নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন রয়েছে।

সালাম ইসলামের অন্যতম সুন্দর অভিবাদন। এর মাধ্যমে একজন মুসলমান অন্যজনের জন্য শান্তি, কল্যাণ ও আল্লাহর রহমত কামনা করেন। পারস্পরিক ভালোবাসা, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ব গড়ে তুলতেও সালামের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ইসলামে সালাম দেওয়া সুন্নত, আর সালামের উত্তর দেওয়া ওয়াজিব বলে সাধারণভাবে ফিকহের আলোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমাদেরকে যখন অভিবাদন করা হয়, তখন তোমরা তার চেয়ে উত্তম প্রত্যাভিবাদন করবে অথবা তার অনুরূপ করবে।’ (সুরা আন-নিসা, আয়াত ৮৬)। এই আয়াতে অভিবাদনের জবাব দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

ইসলামী আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ এ বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, ইসলামী শরিয়তের বিধান অনুযায়ী কেউ সরাসরি সালাম দিলে যেমন তার উত্তর দেওয়া ওয়াজিব, তেমনি মেসেজের মাধ্যমে সালাম দিলেও এর উত্তর দেওয়ার বিধান প্রযোজ্য। তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কোরআনের আয়াতে সালামের কোনো নির্দিষ্ট মাধ্যম বেঁধে দেওয়া হয়নি। তাই মেসেঞ্জার, ইমো, হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন মেসেজিং অ্যাপে সালাম পাঠানো হলে তার জবাব দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

লিখিতভাবে সালাম পাওয়ার পর মুখে উত্তর দিলেও জবাব আদায় হতে পারে বলে ইসলামী ফিকহের আলোচনায় উল্লেখ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে পরিস্থিতি ও ফিকহি ব্যাখ্যাভেদে বিস্তারিত আলোচনা থাকতে পারে। তাই লিখিত সালামের উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো পরিস্থিতির বিধান জানতে যোগ্য আলেমের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

মেসেজে সালাম পাওয়ার পর লিখিতভাবে উত্তর দেওয়া সৌজন্য ও পারস্পরিক যোগাযোগের দিক থেকেও ভালো। এতে সালামদাতা বুঝতে পারেন যে তাঁর অভিবাদন উপেক্ষা করা হয়নি। তবে লিখিত জবাব পাঠানোই সব পরিস্থিতিতে একমাত্র গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট ফিকহি ব্যাখ্যা বিবেচনা করা প্রয়োজন।

কেউ ‘আসসালামু আলাইকুম’ লিখে সালাম দিলে উত্তরে ‘ওয়ালাইকুমুস সালাম’ বলা যায়। আর সালামের সঙ্গে ‘ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু’ যুক্ত থাকলে উত্তরে অনুরূপভাবে বা আরও উত্তমভাবে জবাব দেওয়া যায়।

সালামের উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে কোরআনের নির্দেশ হলো, অভিবাদনের চেয়ে উত্তমভাবে অথবা অনুরূপভাবে জবাব দেওয়া। তাই সালামকে অবহেলা না করে যথাযথভাবে উত্তর দেওয়ার বিষয়ে মুসলমানদের সচেতন থাকা উচিত।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পারস্পরিক সালাম বিনিময়ের মাধ্যমে ভালোবাসা ছড়িয়ে দেওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। সহিহ মুসলিমের একটি হাদিসে এসেছে, ‘তোমরা পরস্পরের মধ্যে সালাম প্রচার কর।’ (সহিহ মুসলিম: ৫৪)

সুতরাং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ সালাম পাঠালে তার জবাব দেওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। লিখিতভাবে উত্তর দিলে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভালোবাসা বজায় রাখতে সহায়তা করে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

ধর্ম ও জীবন এর সর্বশেষ খবর

ধর্ম ও জীবন - এর সব খবর

উ
প
রে