×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

পুরুষরা পোশাক পরার সময় যে ভুলটি প্রায়ই করেন

২০২৬ অক্টোবর ০১ ১৮:৪৫:২৪
পুরুষরা পোশাক পরার সময় যে ভুলটি প্রায়ই করেন

নিজস্ব প্রতিবেদক: পোশাক মানুষের শালীনতা, লজ্জাশীলতা ও আত্মমর্যাদার অন্যতম প্রকাশ। ইসলামে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই শরীরের নির্দিষ্ট অংশ ঢেকে রাখা বাধ্যতামূলক। পুরুষের ক্ষেত্রেও শরিয়তে সতরের একটি নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফিকহের আলোচনায় এ বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত বিধান রয়েছে।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘হে আদমসন্তান! আমি তোমাদের জন্য পোশাকের ব্যবস্থা করেছি, যা তোমাদের দেহের যে অংশ প্রকাশ করা দোষণীয় তা আবৃত করে এবং তা শোভাস্বরূপ।’ (সুরা আল-আ‘রাফ, আয়াত: ২৬)। আয়াতটিতে পোশাকের মাধ্যমে শরীর আবৃত রাখা এবং শালীনতার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।

ইসলামে সতর বলতে শরীরের সেই অংশকে বোঝানো হয়, যা শরিয়তের বিধান অনুযায়ী অন্যের সামনে আবৃত রাখা আবশ্যক। প্রচলিত ধারণার বিপরীতে শুধু লজ্জাস্থান ঢেকে রাখাই পুরুষের জন্য যথেষ্ট নয়। ফিকহে হানাফির প্রচলিত মত অনুযায়ী, একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের সতরের সীমা নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত। এ অংশ ঢেকে রাখা আবশ্যক বলে উল্লেখ করেছেন হানাফি ফকিহরা।

হাদিসেও পুরুষের ঊরু ঢেকে রাখার বিষয়ে নির্দেশনা পাওয়া যায়। আবু দাউদে বর্ণিত একটি হাদিসে জারহাদ (রা.)-এর সূত্রে এসেছে, একবার তার ঊরু অনাবৃত অবস্থায় থাকলে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে সতর্ক করেন এবং ঊরুকে সতরের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে উল্লেখ করেন। এ কারণে মুসলিম পুরুষের জন্য ঊরুসহ সতরের নির্ধারিত অংশ আবৃত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

পুরুষের সতরের সীমা সম্পর্কে ফিকহের গ্রন্থগুলোতেও আলোচনা রয়েছে। হানাফি মাজহাবের মতে, নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত অংশ ঢেকে রাখা জরুরি। ফলে এমন পোশাক পরা উচিত, যাতে বসা, হাঁটা, দৌড়ানো বা দৈনন্দিন কাজের সময়ও এই অংশ অনাবৃত হওয়ার আশঙ্কা না থাকে।

কোরআনে শুধু নারীদের নয়, পুরুষদেরও দৃষ্টি সংযত রাখা ও লজ্জাস্থান হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সুরা আন-নূরের ৩০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘মুমিন পুরুষদের বল, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে।’ এর মাধ্যমে পুরুষের শালীনতা ও আত্মসংযমের গুরুত্বও স্পষ্ট করা হয়েছে।

অনেক সময় খেলাধুলা, শরীরচর্চা, সাঁতার বা দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে পুরুষের শরীরের সতরের অংশ অনাবৃত হয়ে যেতে পারে। ইসলামী বিধান অনুযায়ী, এসব ক্ষেত্রেও সতরের সীমা সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রয়োজন। এমন পোশাক বেছে নেওয়া উচিত, যা শরীরের আবশ্যকীয় অংশ যথাযথভাবে ঢেকে রাখে।

সতর আবৃত রাখাকে ইসলামী শরিয়তে শুধু সামাজিক শালীনতার বিষয় হিসেবে দেখা হয় না; বরং এটি ধর্মীয় বিধানের অংশ। তাই মুসলিম পুরুষদের পোশাক নির্বাচনের সময় ফ্যাশন বা আরামের পাশাপাশি শরিয়তের নির্ধারিত সীমার কথাও বিবেচনায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।

তবে বিভিন্ন মাজহাব ও ফিকহি মতের মধ্যে সতরের সুনির্দিষ্ট সীমা নিয়ে কিছু পার্থক্য রয়েছে। ওপরের আলোচনা মূলত হানাফি ফিকহের প্রচলিত মতের ভিত্তিতে করা হয়েছে। ব্যক্তিগত কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে আমল করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আলেম বা মুফতির পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

ধর্ম ও জীবন এর সর্বশেষ খবর

ধর্ম ও জীবন - এর সব খবর

উ
প
রে