×
ঢাকা, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

রাজার গদি যখন যায় নড়ে, চামচা তখন প্রলাপ বকে!

২০২৬ অক্টোবর ১৪ ১০:৫৮:২২
রাজার গদি যখন যায় নড়ে, চামচা তখন প্রলাপ বকে!

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। কলকাতার সল্টলেকে অবস্থিত বিজেপির আঞ্চলিক সদর দপ্তরের আইটি সেল থেকে পাওয়া তথ্য ও দিল্লির জনতরমন্তরে তরুণ প্রজন্মের বিক্ষোভ—সবই এখন ভারতের শাসকগোষ্ঠীর জন্য চরম অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভারতের তরুণ প্রজন্ম, যারা বিজেপির আইটি সেলের বিভিন্ন প্রোপাগান্ডা ও তথ্যের বিভ্রান্তিতে এতদিন আচ্ছন্ন ছিল, তারা এখন স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমেছে। আন্দোলনকারীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ড ও প্রতিবাদী শ্লোগান থেকে স্পষ্ট যে, তারা আর বিজেপির তথাকথিত ‘হিন্দুত্ববাদী এজেন্ডা’ বা ‘সাউথ ব্লকের চাণক্যনীতি’র ওপর আস্থা রাখতে পারছে না। এই আন্দোলনের নেপথ্যে কারা আছে, তা নিয়ে বিজেপি নেতারা মরিয়া হয়ে বিভিন্ন মহলে দায় চাপাচ্ছেন। পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির নেতা দিলীপ ঘোষের মতে, বাংলাদেশের মন্ত্রী ও সংশ্লিষ্টদের ফেসবুক পোস্ট থেকেই এই আন্দোলনের রসদ আসছে, যা প্রকারান্তরে দিল্লির মসনদ কাঁপানোর দায় বহন করছে।

ভারতের শাসকরা এতদিন মনে করত, তারা তাদের নিয়ন্ত্রিত মিডিয়া ও বিশাল প্রোপাগান্ডা মেশিনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। কিন্তু বর্তমান ডিজিটাল যুগে এই প্রোপাগান্ডা এখন ‘বুমেরাং’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যালগরিদমের বদৌলতে সাধারণ মানুষের কাছে এখন সত্য তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ দিল্লির নীতিনির্ধারকদের রাতের ঘুম হারাম করে দিয়েছে। তাদের মনে এখন ‘মোসাদ সিনড্রোম’-এর মতো এক ধরনের অহেতুক ভীতি কাজ করছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মোদী সরকার আজ এক অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে। ভারতের মতো একটি বিশাল দেশে, যেখানে প্রযুক্তিগত সুবিধা ও শিক্ষার প্রসারের সাথে সাথে মানুষের সচেতনতা বাড়ছে, সেখানে শুধুমাত্র প্রোপাগান্ডা দিয়ে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা অসম্ভব। ভিডিওটির বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, মোদী সরকার এখন যে কোনো রাজনৈতিক ইস্যু মোকাবিলায় প্রথাগত দমন-পীড়নের ওপর নির্ভর করছে। কিন্তু তরুণদের এই মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন বা ‘সাইকোলজিক্যাল শিফট’ সরকারের পুলিশি বা প্রশাসনিক ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।

পরিশেষে বলা যায়, ৫ আগস্ট বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য একটি নতুন শিক্ষণীয় বিষয়। যারা এতদিন ছোট প্রতিবেশী দেশকে অবজ্ঞা বা তুচ্ছতাচ্ছিল্য করত, আজ তারাই সেই দেশের তরুণ প্রজন্মের প্রতিবাদের মুখে পড়ে নিজেদের অস্তিত্ব নিয়ে শংকিত। ভারতের শাসকরা কি এই জনরোষ ও নতুন প্রজন্মের ক্রমবর্ধমান সচেতনতার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারবে, নাকি পুরনো সেই চাণক্যনীতির আবর্তে আটকা পড়ে ক্ষমতার মসনদ হারাবে—তা এখন বড় প্রশ্ন।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর

উ
প
রে