×
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

শেয়ারবাজারে আস্থার সংকট, বর্তমান কমিশন পরিবর্তনের দাবি

২০২৬ অক্টোবর ১৩ ১৪:৫১:২৮
শেয়ারবাজারে আস্থার সংকট, বর্তমান কমিশন পরিবর্তনের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের শাসনামলে দেশের শেয়ারবাজার ইতিহাসের ভয়াবহ ধসের মুখে পড়ে। সে সময় বাজারের উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে বাজারের স্থিতিশীলতা ফিরে আসেনি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর অন্যান্য খাতের মতো শেয়ারবাজারেও ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়। অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তলানি থেকে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে শেয়ারবাজার। তবে এ সময়েও বাজার পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়ে ওঠেনি। পরবর্তী সময়ে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাজারে ধারাবাহিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। এর ফলে সূচক ও লেনদেনে রেকর্ড সৃষ্টি হয়।

বর্তমান সরকার দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ শেয়ারবাজারকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেও সরকার আগের কমিশন ভেঙে নতুন কমিশন গঠন করে। সরকারের প্রত্যাশা ছিল, নতুন কমিশনের অধীনে বাজার আরও স্থিতিশীল ও বিনিয়োগবান্ধব হয়ে উঠবে। কিন্তু নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার কিছুদিন পর থেকেই বাজারে ধারাবাহিক দরপতন শুরু হয়। মাঝেমধ্যে সূচক বাড়লেও সেই উত্থান বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে না। ফলে শেয়ারবাজারের প্রতি আগ্রহ থাকলেও নিয়ন্ত্রক সংস্থার বর্তমান কমিশনের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।

তাঁদের মতে, শেয়ারবাজারের এমন করুণ পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার বর্তমান কমিশন বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতে পারছে না। বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় কমিশনের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বাজার সংস্কার ও উন্নয়নের কথা বলা হলেও চলমান ধারাবাহিক দরপতন ঠেকাতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। বর্তমান কমিশনের সদস্যরা শেয়ারবাজার সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান রাখেন কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করছেন বাজারসংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ।

তাঁদের বক্তব্য, সরকার যেখানে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আনতে পারে, সেখানে শেয়ারবাজারের উন্নয়ন এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় বর্তমান কমিশন ভেঙে নতুন কমিশন গঠন করা অসম্ভব কিছু নয়। বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি চলতে থাকলে বিনিয়োগকারীরা শুধু বাজার উন্নয়নের দাবিতেই সীমাবদ্ধ থাকবেন না; তাঁরা নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যানসহ বর্তমান কমিশনের পদত্যাগের দাবিও তুলতে পারেন।

এদিকে, আজ (১৩ অক্টোবর) দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচক সামান্য বাড়লেও অপর দুটি সূচক কমেছে। একই সঙ্গে টাকার অঙ্কে লেনদেনের পরিমাণ কমেছে এবং লেনদেনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদরেও পতন হয়েছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, মঙ্গলবার সপ্তাহের তৃতীয় কর্মদিবসে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪ দশমিক ০৩ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৪০৮ দশমিক ৯০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, ডিএসইর শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ০ দশমিক ৫৪ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৭০ দশমিক ১৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে। ডিএসই-৩০ সূচক ৫ দশমিক ১০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮৯ দশমিক ৪৪ পয়েন্টে।

এদিন ডিএসইতে মোট ৩৮৭টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৯৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বেড়েছে, ১৩৭টির কমেছে এবং ৫৫টির দর অপরিবর্তিত ছিল।

দিনটিতে ডিএসইতে প্রায় ৪১৬ কোটি ১০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪৫২ কোটি ৮১ লাখ টাকা। সেই হিসাবে এক দিনের ব্যবধানে ডিএসইতে লেনদেন কমেছে প্রায় ৩৬ কোটি ৭১ লাখ টাকা।

অন্যদিকে, দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) আজ ৭ কোটি ১৪ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে এ বাজারে শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনের পরিমাণ ছিল ২৯ কোটি ৪ লাখ টাকা।

সিএসইতে এদিন লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৭৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫৭টির শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে, ৯৫টির কমেছে এবং ২৪টির দর অপরিবর্তিত ছিল।

এদিন সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২৬ দশমিক ৫৯ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ৫২৪ দশমিক ৬৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এর আগের কার্যদিবসে সূচকটি ৮৪ দশমিক ০২ পয়েন্ট কমেছিল।

এসএ খান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর

উ
প
রে