×
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

বিএসইসির নতুন মাস্টারপ্ল্যানে মিউচুয়াল ফান্ডে নতুন দিন বদলের সুর

২০২৬ অক্টোবর ১৩ ১৮:১০:৩৮
বিএসইসির নতুন মাস্টারপ্ল্যানে মিউচুয়াল ফান্ডে নতুন দিন বদলের সুর

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের শেয়ারবাজারকে আরও গভীর, টেকসই ও নিরাপদ বিনিয়োগবান্ধব করতে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে এক যুগান্তকারী উদ্যোগ নিচ্ছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। অপ্রমাণিত তথ্য বা গুজবে কান দিয়ে সরাসরি ইউনিট ফান্ড কিনে বিনিয়োগকারীদের পুঁজি হারানোর ঝুঁকি কমাতে এবার প্রতিবেশী দেশ ভারতে শতভাগ সফল হওয়া 'লাইসেন্সধারী এজেন্ট' মডেল বাংলাদেশে চালু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) ‘বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ-২০২৬’ উপলক্ষে রাজধানীর ডিএসই টাওয়ারে আয়োজিত ‘ডিজিটাল প্রতারণা ও জালিয়াতি সম্পর্কে সতর্কতা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করে।

ভারতের 'মিউচুয়াল ফান্ড সহি হ্যায়' মডেল ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট

প্রতিবেশী ভারতে বিমা ব্রোকারদের আদলে সার্টিফাইড ও দক্ষ মিউচুয়াল ফান্ড এজেন্টরা এই শিল্পকে সাধারণ মানুষের ঘরের দরজায় পৌঁছে দিয়েছেন। বিশেষ করে অ্যাসোসিয়েশন অব মিউচুয়াল ফান্ডস ইন ইন্ডিয়া (AMFI)-র ‘Mutual Funds Sahi Hai’ মেগা প্রচারণার মাধ্যমে ভারতের ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারীরা ঘরে বসেই পদ্ধতিগত বিনিয়োগ বা 'এসআইপি' (Systematic Investment Plan)-র মাধ্যমে প্রতি মাসে ছোট অঙ্কের টাকা বিনিয়োগের সুযোগ পেয়েছেন। এর ফলে ভারতের সাধারণ আমজনতা আজ তাদের শেয়ারবাজারের মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে।

সেমিনারে ভারতের এই অবিশ্বাস্য সাফল্যের দৃষ্টান্ত তুলে ধরে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, "ভারতে নিবন্ধিত ও দক্ষ এজেন্টদের নিরলস ভূমিকায় মিউচুয়াল ফান্ড ইন্ডাস্ট্রি অভূতপূর্ব উচ্চতায় পৌঁছেছে। আমাদের দেশেও বাজারের সার্বিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে মেয়াদি (Closed-end) ফান্ডের চেয়ে বেমেয়াদি বা খোলা (Open-ended) ফান্ডের প্রসার ঘটানো এখন সময়ের দাবি।"

বিআইসিএম দেবে সনদ, এরপর মিলবে অফিশিয়াল লাইসেন্স

মিউচুয়াল ফান্ড শিল্পের প্রচার ও প্রসারকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে বিএসইসি একটি শক্তিশালী কাঠামো দাঁড় করাচ্ছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেটের (বিআইসিএম) অধীনে পরিচালিত হবে বিশেষ প্রশিক্ষণ কোর্স।

বিআইসিএম থেকে কোর্স সম্পন্ন করে যোগ্যতার সনদ অর্জনের পর প্রার্থীরা বিএসইসির বিহিত নিয়ম অনুযায়ী এজেন্ট লাইসেন্স পাবেন।

এই লাইসেন্সধারী পেশাদার এজেন্টরা দেশের শহর থেকে গ্রামপর্যায়ে ছড়িয়ে পড়বেন। তারা সাধারণ মানুষকে মিউচুয়াল ফান্ডের উপকারিতা বুঝিয়ে নিরাপদ বিনিয়োগে উদ্বুদ্ধ করবেন।

ঝুঁকি এড়াতে বিকল্প ‘নিরাপদ’ বিনিয়োগ মাধ্যম

বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর অভাব দীর্ঘদিন ধরেই দৃশ্যমান। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আর্থিক বিশ্লেষণ না বুঝে কেবল আবেগ বা গুজবের বশে শেয়ার কেনাবেচা করতে গিয়ে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েন।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ দেখিয়ে বিএসইসি চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন, সরাসরি শেয়ার কেনার চেয়ে পেশাদার ফান্ড ম্যানেজারদের পরিচালিত মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করা শতভাগ নিরাপদ ও বুদ্ধিমানের কাজ। পেশাদার ফান্ড ম্যানেজাররা গবেষণা করে ভালো মৌলভিত্তিসম্পন্ন শেয়ারে পোর্টফোলিও তৈরি করেন, যা বাজারের অনাকাঙ্ক্ষিত উঠানামা ও বড় লোকসানের ধাক্কা থেকে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষিত রাখে।

বাজার মূলধন ও সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান

বিএসইসি প্রধান স্পষ্ট ভাষায় জানান, দেশের শেয়ারবাজারের গভীরতা এবং বাজার মূলধন বাড়ানো কেবল এককভাবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষে সম্ভব নয়। এজন্য মার্চেন্ট ব্যাংক, ব্রোকারেজ হাউজ, ফান্ড ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি, মিডিয়া এবং বিনিয়োগকারীসহ প্রতিটি পক্ষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ও সচেতন ভূমিকা রাখতে হবে।

তিনি আশ্বস্ত করেন, বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনা করে বিএসইসি দ্রুত পলিসি ও নিয়মকানুন সহজীকরণের কাজ করছে, যাতে মিউচুয়াল ফান্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি বাংলাদেশে দ্রুত গতিতে বিস্তার লাভ করতে পারে।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর

উ
প
রে