×
ঢাকা, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংকের শাস্তি ও নির্দেশনা নিয়ে নতুন করে আলোচনায় ঢাকা ব্যাংক

২০২৬ অক্টোবর ১২ ১০:৩৬:৩০
বাংলাদেশ ব্যাংকের শাস্তি ও নির্দেশনা নিয়ে নতুন করে আলোচনায় ঢাকা ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক নির্দেশনা ও জরিমানার পরও ঢাকা ব্যাংক পিএলসির পরিচালনা পর্ষদে খন্দকার মনির উদ্দিনের নাম রয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যাংকটির উদ্যোক্তা পরিচালক মনির উদ্দিন একই সঙ্গে শান্তা লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির পরিচালক ও চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইনের বিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে বাংলাদেশ ব্যাংক তাঁকে পরিচালনা পর্ষদ থেকে অপসারণের নির্দেশ দেয়।

গত সেপ্টেম্বরেও খন্দকার মনির উদ্দিনকে ঢাকা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ থেকে সরানোর নির্দেশ দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর আগেও কয়েক দফায় একই ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১১ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা ব্যাংকের ওয়েবসাইটে পরিচালনা পর্ষদের তালিকায় তাঁর নাম দেখা গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তথ্য গোপন ও প্রতারণার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগে খন্দকার মনির উদ্দিনকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি তাঁর বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার অভিযোগে ঢাকা ব্যাংককে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

পরে খন্দকার মনির উদ্দিন এবং ঢাকা ব্যাংকের পক্ষ থেকে শাস্তি ও জরিমানা মওকুফের আবেদন করা হয়েছিল। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খন্দকার মনির উদ্দিন ঢাকা ব্যাংকের পরিচালক থাকার পাশাপাশি শান্তা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পরিচালক ও চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শনে এ বিষয়ে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে তিনি শান্তা লাইফ ইন্স্যুরেন্স থেকে পদত্যাগ করেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

তবে বিমা প্রতিষ্ঠান থেকে পদত্যাগের পরও ঢাকা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ থেকে তাঁকে অপসারণের নির্দেশ কার্যকর হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশ ও জরিমানার বিরুদ্ধে করা আপিল খারিজ হওয়ার পরও তাঁকে অপসারণ করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংকের পরিচালক হওয়ার শর্ত ও তা লঙ্ঘনের শাস্তি ব্যাংক কোম্পানি আইনে নির্দিষ্ট করা আছে। এসব বিধান লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমের সুযোগ নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

শাস্তির বিরুদ্ধে করা আপিল প্রত্যাখ্যাত হলে তা কার্যকর করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে বলে জানান তিনি। ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রভাব বিবেচনা না করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই কর্মকর্তা।

খন্দকার মনির উদ্দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিসাববিজ্ঞানে বিকম (সম্মান) ও এমকম ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৮৫ সালে ব্যবসায়িক জীবন শুরু করা এই উদ্যোক্তা শান্তা হোল্ডিংস লিমিটেড ও শান্তা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া তিনি এসটিএস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবেও পরিচিত। ওই গ্রুপের অধীনে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতাল ও ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ঢাকা পরিচালিত হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা সত্ত্বেও ঢাকা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে মনির উদ্দিনের নাম থাকার বিষয়টি ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রক পরিপালন ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশ বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে সর্বশেষ অবস্থা নিশ্চিত করতে ঢাকা ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ বক্তব্য এবং পরিচালনা পর্ষদের বর্তমান তালিকা যাচাই করা প্রয়োজন।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর

উ
প
রে