×
ঢাকা, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সালমানের স্টুডিওতে হামলা, কলকাতার সাংবাদিক ময়ূখের মন্তব্যে নতুন বিতর্ক

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৭ ১৮:৪৮:১৭
সালমানের স্টুডিওতে হামলা, কলকাতার সাংবাদিক ময়ূখের মন্তব্যে নতুন বিতর্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকার ইসিবি চত্বর এলাকায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ’ স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় বাংলাদেশে আলোচনার পাশাপাশি ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় কলকাতার সাংবাদিক ও রিপাবলিক বাংলার সাবেক উপস্থাপক ময়ূখ রঞ্জন ঘোষের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

২৭ সেপ্টেম্বর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে ময়ূখ রঞ্জন সালমানের স্টুডিওর সেট ডিজাইনের প্রশংসা করেন। তিনি লেখেন, সেটটি তার পছন্দ হয়েছে এবং এটি ঢাকায় না হয়ে কলকাতায় হলে তিনি নিজেই সেটি ভাড়া নেওয়ার কথা ভাবতেন।

তবে একই পোস্টে তিনি স্টুডিওতে হামলার ঘটনাকে ‘মৌলবাদীদের’ কর্মকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সিরিয়া বা লিবিয়ার মতো দূরের কোনো জায়গায় নয়, কলকাতা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরের ঢাকায় এমন ঘটনা ঘটেছে। কলকাতায় এ ধরনের ‘মৌলবাদীদের’ সংখ্যা বাড়লে ভবিষ্যতে সেখানেও একই ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

পাশাপাশি সালমান মুক্তাদিরকে শক্ত থাকার পরামর্শ দেন ময়ূখ। বাংলাদেশের কনটেন্ট ক্রিয়েটরদেরও এ ঘটনায় কথা বলার আহ্বান জানান তিনি।

তবে স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনাটি কেন ঘটেছে, তা নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য সামনে এসেছে। সালমান মুক্তাদিরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর জেরে স্টুডিওতে হামলা করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিতও দিয়েছেন।

অন্যদিকে, পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের বরাতে বলা হয়েছে, স্টুডিওটি যে ভবনে অবস্থিত, সেই ভবনের মালিকের সঙ্গে এক প্রতিবেশীর জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটতে পারে। অর্থাৎ, পুলিশের প্রাথমিক তথ্যে ঘটনাটির সঙ্গে ধর্মীয় মৌলবাদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফলে হামলার প্রকৃত কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় নিয়ে তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই ঘটনাটিকে ‘মৌলবাদীদের’ কর্মকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করা কতটা যথাযথ—এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।

ময়ূখ রঞ্জনের বক্তব্যের সমালোচকদের মূল প্রশ্ন, স্টুডিও ভাঙচুরের সঙ্গে ধর্মীয় মৌলবাদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ প্রকাশ্যে আসার আগেই কেন ঘটনাটিকে ওইভাবে বর্ণনা করা হলো। তাদের মতে, অপরাধের প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার পরই এর পেছনে কোনো নির্দিষ্ট মতাদর্শ বা গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা নিয়ে মন্তব্য করা উচিত।

অন্যদিকে, ময়ূখের বক্তব্যকে সমর্থনকারীদের কেউ কেউ এটিকে বাংলাদেশে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ হিসেবে দেখছেন। ফলে ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশের রাজনৈতিক আন্দোলনের সময় সালমান মুক্তাদির আন্দোলনকারীদের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছিলেন। ওই সময় তার বিভিন্ন বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কর্মকাণ্ডও আলোচনায় আসে।

অন্যদিকে, ময়ূখ রঞ্জন ঘোষও ওই সময় বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেছিলেন। সেই সময়কার তার অবস্থান নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা রয়েছে।

তবে বর্তমান ভাঙচুরের ঘটনায় কারা জড়িত এবং কী কারণে হামলা হয়েছে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য তদন্তের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং তদন্তে পাওয়া প্রমাণের ভিত্তিতেই ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর

উ
প
রে