×
ঢাকা, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্বামীকে নিয়ে বিতর্ক, মুখ খুললেন ‘বর্ষসেরা মা’ খ্যাত স্ত্রী

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৭ ১২:৩১:৩১
স্বামীকে নিয়ে বিতর্ক, মুখ খুললেন ‘বর্ষসেরা মা’ খ্যাত স্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো জায়ান্টসের একটি বেসবল ম্যাচে শিশুকে কোলে নিয়ে খাবারের প্যাকেট হাতে আসনে ফেরার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারী শিশুকে কোলে নিয়ে খাবার হাতে আসনে ফিরছেন, আর পাশে থাকা তার স্বামী খাবার খাওয়া শুরু করেছেন। বিষয়টি দেখে অনেকে স্বামীর আচরণ নিয়ে সমালোচনা করেন। ম্যাচের ধারাভাষ্যকাররাও ঘটনাটি নিয়ে রসিকতা করে ওই নারীকে ‘বর্ষসেরা মা’ বলে মন্তব্য করেন।

তবে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে পুরো ঘটনা দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন ওই নারী। নিজের নাম এরিকা পরিচয় দিয়ে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) এক লেখায় তিনি ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

এরিকা জানান, মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ম্যাচ চলাকালে তিনি তাদের মেয়েকে নিয়ে শৌচাগারে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফেরার সময় তিনি স্বামীর জন্য খাবার নিয়ে আসার প্রস্তাব দেন। তার স্বামী রামসেস তাকে কম ভিড়ের জায়গা থেকে খাবার নিয়ে আসতে বলেন।

খাবার নিয়ে আসার পর এরিকা স্বামীকে আগে খেতে চান কি না জানতে চান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ম্যাচের আগে তিনি নিজে খাবার খেয়েছিলেন। অন্যদিকে সেদিন তার স্বামী ঠিকমতো খেতে পারেননি। তাই তিনি স্বামীকেই আগে খেতে বলেন।

এরিকা আরও জানান, রামসেস তার কোলে থাকা খাবারের প্যাকেটগুলো সরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি নিজের খাবার ভাগ করে নেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। তবে এরিকা সে প্রস্তাব গ্রহণ করেননি।

ম্যাচের সময় ক্যামেরা তাদের দিকে তাক করলে ধারাভাষ্যকার মাইক ক্রুকো ও ডুয়েন কুইপার ঘটনাটি নিয়ে রসিকতা করেন। তারা এরিকাকে ‘বর্ষসেরা মা’ বলে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি রামসেস তাকে টমেটোর সস আনতে বলেছেন—এমন কথাও মজা করে বলেন তারা।

তবে এরিকা স্পষ্ট করে জানান, তাদের মধ্যে এমন কোনো কথোপকথন হয়নি। তার দাবি, টেলিভিশনের দর্শক কিংবা ধারাভাষ্যকাররা তাদের কথাবার্তা শুনতে না পেলেও তারা দুজন পরস্পরের কথা শুনতে পাচ্ছিলেন। ফলে বাইরে থেকে কয়েক মুহূর্তের দৃশ্য দেখে পুরো পরিস্থিতি বোঝা সম্ভব হয়নি।

এরিকা জানান, রামসেসের শৈশবের এক বন্ধু সম্প্রতি মারা গেছেন। ওই ব্যক্তি একজন প্রতিভাবান বেসবল খেলোয়াড় ছিলেন। বন্ধুটিকে স্মরণ করার সুযোগ হিসেবেই এরিকা স্বামীকে ম্যাচটি দেখতে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তাই সেদিন স্বামী যাতে খেলাটি উপভোগ করতে পারেন, সেটিও তিনি চেয়েছিলেন।

ভাইরাল ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর প্রথমে বিষয়টি নিয়ে তারা দুজন হাসাহাসি করেছিলেন বলে জানান এরিকা। কিন্তু পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরিচিত ব্যক্তিদের নানা মন্তব্যের কারণে পরিস্থিতি বদলে যায়। এমনকি কেউ কেউ তাদের ব্যক্তিগত তথ্য খুঁজে বের করে রামসেসকে আত্মহত্যা করতে বলেও বার্তা পাঠিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

এরিকা বলেন, ধারাভাষ্যকার কিংবা দলের পক্ষ থেকে কাউকে কষ্ট দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল বলে তিনি মনে করেন না। তবে তাদের করা রসিকতার কারণে তার স্বামী অনলাইনে উপহাসের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছেন বলে মনে করেন তিনি।

তার ভাষ্য, টেলিভিশনে প্রচারিত কয়েক মুহূর্তের একটি দৃশ্য তাদের পরিবারের জন্য কয়েক দিনের মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এরিকা আরও বলেন, তাকে ‘বর্ষসেরা মা’ বলা নিয়ে তার আপত্তি নেই এবং এতে তিনি খুশিও হয়েছেন। তবে তার জীবন বা পরিবারের পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা করার আগে তার নিজের বক্তব্যও শোনা উচিত। তিনি যা করেছেন, তার প্রশংসা করা যেতে পারে; কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে একজন মাকেই সবকিছু একা করতে হবে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর

উ
প
রে