×
ঢাকা, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সরকারি চাকরির নিয়োগে নতুন নিয়ম নিয়ে পাটওয়ারীর যে প্রশ্ন

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৬ ২০:৩৭:০৬
সরকারি চাকরির নিয়োগে নতুন নিয়ম নিয়ে পাটওয়ারীর যে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা ও যোগ্যতার পরিবর্তে রাজনৈতিক পরিচয়, সুপারিশ কিংবা প্রভাবশালী নেতার ফোনের ওপর নির্ভরতার সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক পোস্টে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে ভেরিফিকেশনের কারণে প্রার্থী বাদ পড়া এবং ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিতে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বরের ভারসাম্য পরিবর্তনের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি এ মন্তব্য করেন।

পাটওয়ারী লিখেছেন, একজন তরুণ বছরের পর বছর পড়াশোনা করে পরীক্ষা দেন, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপরও যদি চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে তাকে পরিবারের রাজনৈতিক পরিচয়, স্থানীয়ভাবে কে তার পক্ষে কথা বলবেন কিংবা কোন নেতার কাছে অ্যাডমিট কার্ড নিয়ে যেতে হবে—এসব বিষয় ভাবতে হয়, তাহলে তার মতে সমস্যাটি শুধু একজন চাকরিপ্রার্থীর নয়; বরং পুরো নিয়োগব্যবস্থার।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের প্রসঙ্গ তুলে পাটওয়ারী দাবি করেন, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার ধাপ পেরিয়ে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও ভেরিফিকেশনের কারণে বিভিন্ন জেলার বহু প্রার্থী বাদ পড়েছেন। তার দাবি, বাদ পড়া প্রার্থীর সংখ্যা অন্তত এক হাজার।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, নিয়োগের শুরুতে নির্বাচিত প্রার্থীদের পুলিশ ভেরিফিকেশনের শর্তে নাশকতা, সন্ত্রাসী, জঙ্গি বা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণকে অনুপযুক্ততার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।

এদিকে ২০২৫ সালের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র ও পদায়ন আদেশ জারির জন্য ২৩ সেপ্টেম্বর প্রশাসনিক অনুমোদনের তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে।

১১ থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিতে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন পাটওয়ারী। তার ভাষ্য, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভাইভার নম্বর ১০ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করার প্রস্তাব রয়েছে। এতে রাজনৈতিক প্রভাব, লবিং ও স্বজনপ্রীতির সুযোগ বাড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য বলা হয়েছে, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বরের কাঠামো পরিবর্তনের উদ্দেশ্য দক্ষ ও যোগ্য জনবল নির্বাচন নিশ্চিত করা এবং প্রক্সি পরীক্ষা বা জালিয়াতি ঠেকানো। সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের বিভিন্ন স্তরে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর নতুনভাবে নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।

পাটওয়ারী তার বক্তব্যে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের সাম্প্রতিক একটি বক্তব্যেরও উল্লেখ করেন। তার দাবি, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীদের উদ্দেশে ওই সংসদ সদস্য অ্যাডমিট কার্ড নিয়ে গেলে প্রয়োজনীয় জায়গায় ফোন করে দেওয়ার কথা বলেছেন। এই বক্তব্যের মাধ্যমে রাজনৈতিক সুপারিশের সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাবশালী ব্যক্তির সুপারিশের পরিবর্তে একজন প্রার্থীর মেধা ও যোগ্যতাকেই চাকরি পাওয়ার প্রধান ভিত্তি হওয়া উচিত।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন একটি ব্যবস্থা গড়ার ক্ষেত্রে নিয়োগব্যবস্থার সংস্কার গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। একজন চাকরিপ্রার্থী যেন নিজের যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি পাওয়ার নিশ্চয়তা অনুভব করেন—এমন একটি নিয়োগব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

তবে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাব এখনো নিয়ে সরকারি পর্যায়ে আলোচনা ও বিধিমালা প্রণয়নের প্রক্রিয়া রয়েছে; এ বিষয়ে সরকারের ব্যাখ্যা এবং পাটওয়ারীর রাজনৈতিক সমালোচনা—দুই দিকই আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে