×
ঢাকা, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশের আকাশসীমায় ভারতের চাঞ্চল্যকর নজরদারি প্রকাশ

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৬ ১৯:২৩:৪৭
বাংলাদেশের আকাশসীমায় ভারতের চাঞ্চল্যকর নজরদারি প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: সম্প্রতি বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহার করে ভারতের একটি বিশেষ গোয়েন্দা বিমানের উড্ডয়ন নিয়ে জনমনে ব্যাপক কৌতুহল ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। গত ২৫ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদো থেকে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির উদ্দেশ্যে উড়ে যাওয়া বিমানটির যাত্রাপথ বাংলাদেশের আকাশসীমার ওপর দিয়ে নির্ধারণ করায় বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গোয়েন্দা কাজে ব্যবহৃত বিমানটি বোম্বার্ডিয়ার গ্লোবাল ৫০০ (Bombardier Global 5000) মডেলের। সাধারণ মানুষের চোখে এটি একটি বিলাসবহুল প্রাইভেট জেট মনে হলেও, প্রকৃতপক্ষে এটি একটি অত্যাধুনিক 'সিগন্যাল ইন্টেলিজেন্স' (SIGINT) প্ল্যাটফর্ম। এর কাজ হলো অন্য কোনো দেশের গোপন সামরিক তরঙ্গ বা সিগন্যাল সংগ্রহ করা। এভিএশন রিসার্চ সেন্টারের (ARC) অধীনে পরিচালিত এই বিমানটি মূলত ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা 'র' (RAW)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম হিসেবে পরিচিত।

আন্তর্জাতিক আইন বা শিকাগো কনভেনশনের (১৯৪৪) ৩ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যেকোনো রাষ্ট্রীয় বিমান (সামরিক, কাস্টমস বা পুলিশ) অন্য কোনো দেশের আকাশসীমা ব্যবহার করতে চাইলে সেটির জন্য আগাম কূটনৈতিক অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। ভারতের এই গোয়েন্দা বিমানটি বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহারের ক্ষেত্রে যথাযথ অনুমতি নিয়েছে কি না, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আকাশসীমার নিরাপত্তা কেবল মানচিত্রের সীমানা নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমিকতার অবিচ্ছেদ্য অংশ। একটি গোয়েন্দা বিমান যখন ৪৫ হাজার ফুট উচ্চতায় ক্রুজ করে, তখন এর সেন্সরগুলো একটি বিশাল জালের মতো নিচে থাকা ভূখণ্ডের ডিজিটাল তরঙ্গ এবং রাডার স্পন্দন শোষণ করতে সক্ষম। এর মাধ্যমে সামরিক বা বেসামরিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ডিজিটাল ম্যাপ তৈরি করা সম্ভব, যা রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হতে পারে।

বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহার করে গোয়েন্দা বিমানের এই ধরনের অনুপ্রবেশের ঘটনায় সাধারণ মানুষ ও সচেতন নাগরিকরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি:

১. বিমানটির যাত্রার অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না এবং নেওয়া হয়ে থাকলে কোন শর্তে দেওয়া হয়েছিল, তা জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।

২. গোয়েন্দা বিমানের পেট বা ডানার খাঁজে কোনো স্পর্শকাতর যন্ত্রপাতি বা সরঞ্জামের অস্তিত্ব ছিল কি না, সে বিষয়ে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দিতে হবে।

৩. ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে একটি সুস্পষ্ট ও কঠোর কূটনৈতিক নোটের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানাতে হবে।

একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের আকাশসীমা কোনো বিদেশি গোয়েন্দা প্ল্যাটফর্মের অভয়ারণ্য হতে পারে না। দেশের প্রতিটি ইঞ্চি আকাশ জনগণের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। তাই এই স্পর্শকাতর বিষয়টি এড়িয়ে না গিয়ে, বরং এর পেছনের রহস্য উন্মোচন করা বর্তমান সময়ের বড় দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের নাগরিকরা এই ঘটনার পেছনে থাকা নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সতর্কতা ও স্বচ্ছতা প্রত্যাশা করছেন।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর

উ
প
রে