×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অনিয়মের পাহাড়ে থাকা ব্যাংকের পর্ষদ ভাঙছে বাংলাদেশ ব্যাংক

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৪ ১৮:৪২:২৬
অনিয়মের পাহাড়ে থাকা ব্যাংকের পর্ষদ ভাঙছে বাংলাদেশ ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের ইতিহাস প্রথমবারের মতো কোনো রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কমিটি একসঙ্গে ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। জনতা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে শুরু করে দেশ-বিদেশের শাখাগুলোতে ভয়াবহ দুর্নীতি, জালিয়াতি ও অব্যবস্থাপনার তথ্য বেরিয়ে আসায় ব্যাংক খাতের এ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি এমন চরম পদক্ষেপ গ্রহণ করতে যাচ্ছে। বর্তমানে ব্যাংকটির মোট ঋণের প্রায় ৭৫ শতাংশই খেলাপিতে পরিণত হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদনে ব্যাংকটির প্রধান প্রধান জালিয়াতির চিত্র সামনে এসেছে। এর মধ্যে রেমিট্যান্সের প্রণোদনা আত্মসাৎ, ভুয়া এলসি কমিশন, প্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার, অস্তিত্বহীন ল্যাপটপ কেনা, নস্ট্রো অ্যাকাউন্টে সমন্বয়হীনতার মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা লোপাট এবং হলমার্কসহ হাজারো গ্রাহকের অদাবিকৃত অর্থ কুক্ষিগত করার ঘটনা অন্যতম। সিবিএস সফটওয়্যারের ত্রুটি ও তদারকির অভাবে ২০০৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অদাবিকৃত বিপুল পরিমাণ আমানতের সঠিক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না, যা বড় ধরনের অর্থ পাচারের সুযোগ তৈরি করেছে।

অনিয়মের বড় একটি অংশ ঘটেছে আন্তর্জাতিক লেনদেনে। নির্ধারিত নিয়ম না মেনে নস্ট্রো অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে লেনদেন এবং সময়মতো ডিমান্ড লোন সৃষ্টি না করায় বেক্সিমকো, ওরিয়ন অয়েলসহ বিভিন্ন গ্রুপের কাছ থেকে প্রায় ৮,২৭০ কোটি টাকার সুদ আদায়ের সুযোগ হারিয়েছে ব্যাংকটি। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের শাখায় বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণ ও ভুয়া ল্যাপটপ কেনাকাটা এবং ইতালিতে দুটি আলাদা অফিস চালিয়ে অর্থ অপচয়ের প্রমাণ মিলেছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মপক্ষ সমর্থনের ব্যাখ্যা চায়। কিন্তু দফায় দফায় সময় দেওয়া সত্ত্বেও ব্যাংকটির পর্ষদ কোনো সন্তোষজনক ও যৌক্তিক জবাব দিতে ব্যর্থ হয়। এর প্রেক্ষিতেই পরিদর্শক দল পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কমিটি ভেঙে দেওয়ার সুপারিশ করে। যদিও জনতা ব্যাংকের বর্তমান এমডি মো. মজিবর রহমান বিষয়টিকে সিবিএসের কারিগরি ত্রুটি দাবি করে আবার ভালো করে জবাব দেওয়ার কথা বলছেন।

সার্বিক বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, গণঅভ্যুত্থান পূর্ববর্তী কিংবা পরবর্তী—যেকোনো সময়ের অনিয়মের বিরুদ্ধেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখবে। অপরাধী বা প্রতিষ্ঠানের পরিচয় বিবেচনা না করে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে