×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বারিধারার ঘটনায় নতুন মোড়, চালকের পরিচয় নিয়ে বেরিয়ে এলো নতুন তথ্য

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৪ ০৯:৫৪:৪৩
বারিধারার ঘটনায় নতুন মোড়, চালকের পরিচয় নিয়ে বেরিয়ে এলো নতুন তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর বারিধারায় ফুটপাতে বসে থাকা নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মীম (২৪) গাড়িচাপায় নিহত হওয়ার ঘটনায় চালকের আসনে থাকা ১৭ বছর বয়সী কিশোর আজান আলী শরীফকে নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করলেও পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন ভিডিও সামনে আসার পর বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে বারিধারার ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি জোনের ১ নম্বর সড়কে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, মেহেদী সড়কের পাশের ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। এ সময় একটি প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার পর গাড়ির চালকের পাশের দরজা দিয়ে আজান আলী শরীফকে বেরিয়ে আসতে দেখা যায় বলে সিসিটিভি ফুটেজের বরাত দিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। গাড়ির অন্য পাশ থেকে বেরিয়ে আসেন আকাশ মারক নামে একজন ব্যক্তি। তিনি আজানের বাবা আব্বাস আলী শরীফের গাড়িচালক হিসেবে কাজ করতেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থানীয়রা আজানকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে পুলিশের কাছে তুলে দেন। তবে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তার চাচার জিম্মায় ছেড়ে দেয় বলে পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। পুলিশ তখন বলেছিল, ক্ষুব্ধ জনতার হাতে যাতে ওই কিশোর কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির শিকার না হয়, সে জন্য তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল।

এদিকে নিহত মেহেদীর ভাই মোক্তাদীর ইসলাম বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলা করেন। প্রাথমিক মামলায় আকাশ মারককে গাড়িটির চালক হিসেবে উল্লেখ করে আসামি করা হলেও আজান আলী শরীফের নাম ছিল না। পরে সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনার পর পুলিশ আজানকেই দুর্ঘটনার সময় চালকের আসনে থাকা ব্যক্তি হিসেবে শনাক্ত করে।

ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হলে পুলিশের প্রাথমিক ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। বিশেষ করে দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের হাতে আটক হওয়ার পর আজানকে কেন ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল এবং প্রথম মামলায় তার নাম কেন ছিল না—এসব বিষয় সামনে আসে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে পাওয়া তথ্য, ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আজান আলী শরীফ গুলশানের একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী। তার বাবা আব্বাস আলী শরীফ বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের একজন ক্যাপ্টেন। দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি তার মায়ের নামে নিবন্ধিত বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে মামলায় আসামি করা আকাশ মারক ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। দুর্ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা এবং মামলায় তার ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে।

গুলশান বিভাগের পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে চালকের আসনে আজান থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে পুনরায় হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি কে চালাচ্ছিল, কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং মামলায় শুরুতে অন্য ব্যক্তিকে চালক হিসেবে আসামি করার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

তবে ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে অর্থের বিনিময়ে মামলা থেকে আজানকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা বা পরিবারের পক্ষ থেকে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ ছড়িয়েছে, সেগুলো এখনো অভিযোগ ও সূত্রনির্ভর বক্তব্যের পর্যায়ে রয়েছে। এসব দাবির সত্যতা তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে