×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মুনাফা কমতেই ডিভিডেন্ডে কাটছাঁট তালিকাভুক্ত সিমেন্ট কোম্পানির

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৪ ১৮:২৬:১১
মুনাফা কমতেই ডিভিডেন্ডে কাটছাঁট তালিকাভুক্ত সিমেন্ট কোম্পানির

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত সিমেন্ট খাতের অধিকাংশ কোম্পানি বর্তমানে ব্যবসায়িক ও আর্থিক চাপে রয়েছে। নির্মাণ খাতে দীর্ঘস্থায়ী মন্দা, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট এবং তীব্র প্রতিযোগিতায় কোম্পানিগুলোর আয় ও মুনাফায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে অনেক প্রতিষ্ঠানের ইপিএস ও ডিভিডেন্ড দেওয়ার সক্ষমতাও কমেছে।

খাতসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে ৮ থেকে ১০ কোটি টন সিমেন্ট উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও প্রকৃত চাহিদা নেমে এসেছে ৩ দশমিক ১ থেকে ৩ দশমিক ৮ কোটি টনে। ফলে অধিকাংশ কারখানা সক্ষমতার ৩০ শতাংশেরও কম ব্যবহার করছে। অথচ বৈশ্বিকভাবে গ্রহণযোগ্য সক্ষমতা ব্যবহারের হার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ।

তবে সংকটের প্রভাব সব প্রতিষ্ঠানে সমান নয়। নিজস্ব কাঁচামালের উৎস ও পরিচালন দক্ষতার কারণে কিছু কোম্পানি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। মেঘালয়ের নিজস্ব চুনাপাথরের খনি থেকে ছাতক কারখানায় কনভেয়র বেল্টে কাঁচামাল আনার সুবিধায় লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ পিএলসি প্রতিযোগীদের তুলনায় ব্যয় সাশ্রয়ের সুবিধা পাচ্ছে। ২০২৩ সালে কোম্পানিটির নিট মুনাফা ছিল ৫৯৪ কোটি টাকা এবং ক্যাশ ডিভিডেন্ড ৫০ শতাংশ। ২০২৫ সালে মুনাফা ৩৪ শতাংশ বেড়ে ৫১১ কোটি টাকায় দাঁড়ায় এবং ১৮ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দেয়। তবে ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে নিট মুনাফা ১৯ শতাংশ কমে ১১২ কোটি টাকায় নেমেছে।

ক্রাউন সিমেন্ট পিএলসির নিট মুনাফা ২০২৪ অর্থবছরের ৭৪ দশমিক ২৩ কোটি টাকা থেকে ২০২৫ অর্থবছরে ৩৩ শতাংশ কমে ৬৭ দশমিক ১২ কোটি টাকায় নেমেছে। তবে কোম্পানিটি ২১ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড ধরে রেখেছে। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ইপিএস হয়েছে ৯১ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২ টাকা ৩ পয়সা।

হাইডেলবার্গ মেটেরিয়ালস বাংলাদেশ পিএলসির ২০২৩ ও ২০২৪ সালের ২৫ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড ২০২৫ অর্থবছরে কমে ১১ শতাংশ হয়েছে। ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে মুনাফা ৫০ শতাংশ এবং অর্ধবার্ষিকে ৪৭ শতাংশ কমেছে। গত ছয় মাসে শেয়ারদর প্রায় ১৯ শতাংশ কমে বর্তমানে ২০৬ টাকায় লেনদেন হচ্ছে।

প্রিমিয়ার সিমেন্ট মিলস পিএলসি ২০২২ ও ২০২৩ অর্থবছরের লোকসানের পর ২০২৪ অর্থবছরে ৭৪ দশমিক ২৩ কোটি টাকা নিট মুনাফা করে ২১ দশমিক ৫ শতাংশ ডিভিডেন্ড দেয়। তবে ২০২৫ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে মুনাফা ৭৫ শতাংশ কমে ১ দশমিক ৪৪ কোটি টাকায় নেমে যায়। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ইপিএস বেড়ে ১ টাকা ৮০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে, আগের বছর যা ছিল ৩১ পয়সা। গত এক বছরে শেয়ারদর প্রায় ১৩ শতাংশ কমে বর্তমানে ৪২ থেকে ৪৫ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। ব্যাংক ঋণের চাপ কমাতে ১৬১ কোটি টাকার প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যুর পরিকল্পনা রয়েছে।

কনফিডেন্স সিমেন্ট পিএলসির ২০২৫ সালে নিট মুনাফা বেড়ে ৯৬ কোটি ৮৪ লাখ টাকা হয়েছে এবং কোম্পানিটি ১০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। নরসিংদীতে নতুন কারখানার জন্য ৮১৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ এবং রাইট শেয়ার ইস্যুর উদ্যোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ডিভিডেন্ড পরিশোধে ব্যর্থতার ঘটনায় বিএসইসি প্রতিষ্ঠানটিকে তলব করেছিল। পরে আর্থিক দায় সামাল দিতে ঢাকা-ভিত্তিক সাবসিডিয়ারি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত এক বছরে শেয়ারদর প্রায় ৭ শতাংশ বেড়ে বর্তমানে ৬১ থেকে ৬৩ টাকায় লেনদেন হচ্ছে।

আরামিট সিমেন্ট পিএলসির কারখানায় উৎপাদন বন্ধ এবং দীর্ঘদিন ডিভিডেন্ড না দেওয়ার কারণে শেয়ারটি বর্তমানে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে। ডিএসইতে শেয়ারটির দর ১১ দশমিক ১০ থেকে ১১ দশমিক ২০ টাকা। প্রায় ৩৪ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানিটির পুঞ্জীভূত লোকসান ১০৬ কোটি টাকা।

মেঘনা সিমেন্ট মিলস পিএলসিও টানা দুই বছর ডিভিডেন্ড দিতে না পারায় ‘এ’ থেকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নেমেছে। বর্তমানে শেয়ারটি ২৮ দশমিক ৩০ থেকে ২৯ দশমিক ৪০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। গত এক বছরে এর সর্বোচ্চ দর ছিল ৫২ টাকা এবং সর্বনিম্ন ২৬ দশমিক ১০ টাকা। প্রায় ৩২ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানিটির পুঞ্জীভূত লোকসান ও রিজার্ভ ঋণাত্মক ৩৭ কোটি টাকা। ফলে বাজার মূলধন কমে প্রায় ৮৯ দশমিক ৭১ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা ও দুর্বল চাহিদার কারণে সিমেন্ট খাতে এখনো চাপ রয়েছে। তবে কোম্পানিগুলোর কাঁচামালের উৎস, উৎপাদন ব্যয়, ঋণের চাপ, মুনাফার ধারাবাহিকতা, ডিভিডেন্ড সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ পরিকল্পনায় পার্থক্য রয়েছে। তাই সামগ্রিক খাতের পাশাপাশি প্রতিটি কোম্পানির মৌলিক অবস্থাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে