×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মরিয়মের মৃত্যু নিয়ে রিমান্ডে যা বললেন গাজী নজরুল

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৪ ১৭:৩৯:১৭
মরিয়মের মৃত্যু নিয়ে রিমান্ডে যা বললেন গাজী নজরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে সরকারি ফ্ল্যাটে দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে আবারও রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে মরিয়মের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিজের বক্তব্য জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গাজী নজরুলকে আবারও রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে পুলিশ। ওই আবেদনে পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে এমপি বলেছেন, তার ১৯ বছর বয়সী স্ত্রী মরিয়ম ছিলেন আবেগপ্রবণ। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অভিমান থেকেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করেছেন গাজী নজরুল।

তবে মামলার বাদীপক্ষের অভিযোগ ভিন্ন। তাদের দাবি, মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছিল এবং আসামিদের প্ররোচনায় তিনি আত্মহত্যা করেছেন। এসব অভিযোগের তদন্ত চলছে এবং আদালতে মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়াও চলমান।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন গাজী নজরুলকে আরও সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, এটি একটি চাঞ্চল্যকর মামলা এবং ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য আসামিকে আরও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেনের আদালত গাজী নজরুলের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ৫ নম্বর ন্যাম ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর সরকারি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ওই ফ্ল্যাটেই স্বামী গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে বসবাস করতেন মরিয়ম। গত জুনে তাদের বিয়ে হয় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০ সেপ্টেম্বর বিকেলে গাজী নজরুল মরিয়মের বাবাকে মোবাইল ফোনে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। পরে সেখানে গিয়ে মরিয়মকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তার বাবা—এমন তথ্য মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।

মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এবং তাদের প্ররোচনায় মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন।

তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। পুলিশ মামলাটি তদন্ত করছে।মামলায় গ্রেপ্তারের পর গত ২১ সেপ্টেম্বর গাজী নজরুল ইসলামের চার দিনের এবং মাকসুদা ইসলামের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন আদালত।

রিমান্ড শেষে ২২ সেপ্টেম্বর মাকসুদাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর ২৩ সেপ্টেম্বর মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকেও আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মরিয়মের মৃত্যুর কারণ, পারিবারিক পরিস্থিতি এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে তদন্ত চলছে। রিমান্ডে গাজী নজরুলের দেওয়া বক্তব্যও তদন্তের অংশ হিসেবে যাচাই করা হবে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে