×
ঢাকা, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় আসামিদের জবানবন্দিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২০ ১৫:২৪:০৮
অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় আসামিদের জবানবন্দিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমিল্লার শিশু ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, দামি আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা থেকেই অপ্রতিমকে কৌশলে লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ফোনটি নেওয়ার চেষ্টা করলে অপ্রতিম বাধা দেয়। একপর্যায়ে তার সঙ্গে অভিযুক্তদের ধস্তাধস্তি হয় এবং পরে তার মৃত্যু ঘটে বলে আসামিদের জবানবন্দির বরাত দিয়ে জানিয়েছে পুলিশ।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হওয়ার পর তদন্ত শুরু করে পুলিশ। আশপাশের বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিনের চলাচলের তথ্য পাওয়া যায়।

পুলিশ জানায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টা থেকে সোয়া ২টার মধ্যে তুহিন অপ্রতিমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন বনাঞ্চলের দিকে যায়। অপ্রতিমের মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়ার আগেই প্রযুক্তিগত নজরদারির মাধ্যমে তুহিনকে শনাক্ত করে পুলিশ হেফাজতে নেয়।

পুলিশ সুপারের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন অপ্রতিমের আইফোন নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে ওই এলাকায় নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করে। এ ঘটনায় ফাহাদ ও কামরুলের সম্পৃক্ততার কথাও সে জানায়। পরে তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদ এবং ফাহাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কামরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দাবি, ঘটনার দিন বিকেলে সানন্দা এলাকার নির্জন স্থানে অপ্রতিমের ফোন নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। অপ্রতিম এতে বাধা দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে তার সংঘর্ষ হয় এবং অপ্রতিমের মৃত্যু ঘটে বলে জবানবন্দিতে উঠে এসেছে। এরপর অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে আইফোন নিয়ে চলে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তদন্তের একপর্যায়ে ফোন উদ্ধারের ক্ষেত্রেও তুহিন পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিল বলে দাবি করেছে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকটি স্থানে অভিযান চালানো হলেও প্রথমে ফোনটির সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তুহিনের নিজ বাড়ি থেকে অপ্রতিমের আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় তুহিন, ফাহাদ ও কামরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি সিয়াম নামে আরও একজনকে ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ বা আরও কেউ জড়িত ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত দ্রুত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে আলোচিত রামিসা হত্যা মামলার মতো অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের বিচারও দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আদালতে বিশেষ আবেদন জানানো হবে বলে জানান তিনি।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে