×
ঢাকা, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পেনশন গ্রাহকদের জন্য বড় ঘোষণা, যুক্ত হচ্ছে যেসব সুবিধা

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৬ ১০:০৩:০৯
পেনশন গ্রাহকদের জন্য বড় ঘোষণা, যুক্ত হচ্ছে যেসব সুবিধা

নিজস্ব প্রতিবেদক: সর্বজনীন পেনশন স্কিমকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও আকর্ষণীয় ও কার্যকর করতে একাধিক নতুন সুবিধা যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত সুবিধাগুলোর মধ্যে রয়েছে পেনশনভোগীর মৃত্যুর পর তাঁর স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন দেওয়া, পেনশনারদের স্বাস্থ্যবিমার আওতায় আনা, বিশেষ প্রয়োজনে ঋণ নেওয়ার সুযোগ এবং নির্দিষ্ট শর্তে পেনশন ব্যবস্থা থেকে বের হয়ে জমা অর্থ তুলে নেওয়ার সুযোগ।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই সভায় এসব প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে। অর্থমন্ত্রী পদাধিকারবলে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সুরাতুজ্জামান জানিয়েছেন, জনসাধারণের আগ্রহ বাড়াতে বেশ কিছু সংস্কার প্রস্তাব পর্ষদের সভায় উপস্থাপন করা হবে। পর্ষদ অনুমোদন দিলে এবং প্রয়োজনীয় বিধিমালা সংশোধন করা সম্ভব হলে আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে নতুন সুবিধাগুলো চালু করা হতে পারে।

বয়স্ক জনগোষ্ঠীকে টেকসই সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণে নির্ভরশীলতার হার বাড়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ২০২৩ সালের আগস্টে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু করা হয়। তবে প্রায় তিন বছর পার হলেও এতে প্রত্যাশিত সাড়া পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ব্যাংকের আমানতের সুদের তুলনায় পেনশন ব্যবস্থার রিটার্ন কম এবং গ্রাহকদের জন্য তাৎক্ষণিক সুবিধা সীমিত হওয়ায় অনেকেই এতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এ পর্যন্ত চারটি স্কিমে মোট ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯২০ জন নিবন্ধন করেছেন। তাঁদের জমা অর্থের পরিমাণ ২৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

এর মধ্যে দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা মানুষের জন্য চালু করা ‘সমতা’ স্কিমে নিবন্ধন করেছেন ২ লাখ ৮৭ হাজার ২২৪ জন। এই স্কিমে জমা হয়েছে ৫৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। অন্যদিকে প্রবাসীদের জন্য চালু করা ‘প্রবাস’ স্কিমে সাড়া সবচেয়ে কম। এতে নিবন্ধিত হয়েছেন মাত্র ১ হাজার ১৭১ জন প্রবাসী। তাঁদের মধ্যে নারী ৯৭ জন এবং মোট জমার পরিমাণ ১১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, পেনশনভোগী ৬০ বছর বয়সে মাসিক পেনশন পাওয়া শুরু করেন। পেনশন পাওয়ার সময় তাঁর মৃত্যু হলে মনোনীত ব্যক্তি পেনশনারের ৭৫ বছর বয়স পর্যন্ত একই হারে মাসিক পেনশন পান।

নতুন প্রস্তাবে মনোনীত ব্যক্তির পরিবর্তে পেনশনারের স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। সরকারি চাকরিজীবীদের প্রচলিত পেনশন ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে পেনশন পাওয়ার বয়স ৬০ বছর থেকে কমিয়ে ৫৫ বছর করার প্রস্তাবও সভায় উঠতে পারে।

বিশেষ প্রয়োজনে পেনশন হিসাব থেকে ঋণ নেওয়ার সুযোগ আইনে থাকলেও এখনো তা চালু হয়নি। এবার এ সুবিধা চালুর পরিকল্পনা করছে কর্তৃপক্ষ। প্রস্তাব অনুযায়ী, নেওয়া ঋণের সুদও গ্রাহকের পেনশন হিসাবে জমা হওয়ার কথা রয়েছে।

এ ছাড়া কোনো ব্যক্তি পাঁচ বছর চাঁদা দেওয়ার পর শারীরিক ও আর্থিক অক্ষমতার কারণে পেনশন ব্যবস্থা থেকে বের হতে চাইলে বিশেষ বিবেচনায় তাঁর জমা অর্থ তুলে নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

পেনশনারদের স্বাস্থ্যবিমার আওতায় আনার পরিকল্পনাও রয়েছে। এ বিষয়ে একটি খসড়া পরিকল্পনা তৈরি করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, গ্রাহকদের কাছ থেকে মাসে ১০ থেকে ২০ টাকা প্রিমিয়াম নেওয়া হতে পারে।

এদিকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাকে আরও গ্রহণযোগ্য করতে শরিয়াহভিত্তিক পেনশন স্কিম চালুর বিষয়টিও বিবেচনা করছে সরকার। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পর্ষদ এসব প্রস্তাব অনুমোদন করলে প্রয়োজনীয় বিধিমালা সংশোধনের মাধ্যমে নতুন সুবিধাগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সালমান ফারসি/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে