×
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশের চাইতেও ছোট হয়ে যাবে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য!

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৫ ১৪:৫৯:৪৪
বাংলাদেশের চাইতেও ছোট হয়ে যাবে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য!

নিজস্ব প্রতিবেদক: একসময় বিশ্বের বিশাল অংশজুড়ে শাসন করা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকার হিসেবে আজকের যুক্তরাজ্যও নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডে যুক্তরাজ্য থেকে আরও বেশি ক্ষমতা নেওয়া কিংবা স্বাধীন হওয়ার দাবিতে নতুন করে রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে প্রশ্ন উঠছে—ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্য কি বর্তমান কাঠামো ধরে রাখতে পারবে?

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক নেতারা বৈঠক করেন। বৈঠকে স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি (SNP), ওয়েলসের প্লেইড কামরি এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের সিন ফেইনের নেতারা যুক্তরাজ্যের সাংবিধানিক কাঠামো পরিবর্তনের পক্ষে যৌথ অবস্থান জানান। তারা বলেন, এসব অঞ্চলের জনগণের নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার রয়েছে।

বৈঠকে একটি সমঝোতা স্মারকেও স্বাক্ষর করা হয়। এতে ওয়েস্টমিনস্টার সরকারের প্রতি প্রয়োজন হলে সাংবিধানিক পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের মতামত নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। স্কটল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের নেতারা স্বাধীনতা নিয়ে গণভোট আয়োজনের বিষয়ে তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন। তবে ওয়েলসের পক্ষ থেকে এখনই কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি দেওয়া হয়নি।

যুক্তরাজ্য বর্তমানে চারটি দেশের সমন্বয়ে গঠিত—ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ড। এদের নিজস্ব পার্লামেন্ট বা অ্যাসেম্বলি ও বিভিন্ন মাত্রার স্বায়ত্তশাসন রয়েছে। তবে প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্রনীতি ও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে চূড়ান্ত ক্ষমতা ওয়েস্টমিনস্টারের হাতে।

স্কটল্যান্ডে স্বাধীনতার দাবি বহুদিনের। ২০১৪ সালে সেখানে স্বাধীনতা নিয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সে সময় সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটার যুক্তরাজ্যের সঙ্গে থাকার পক্ষে মত দেন। তবে পরবর্তী সময়ে ব্রেক্সিটসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে স্বাধীনতার প্রশ্নটি আবারও জোরালো হয়েছে।

ওয়েলসেও জাতীয়তাবাদী রাজনীতির প্রভাব রয়েছে। যদিও সেখানে স্বাধীনতার পক্ষে জনসমর্থন স্কটল্যান্ডের তুলনায় কম। সাম্প্রতিক বৈঠকে ওয়েলসের নেতারা স্বাধীনতার সম্ভাবনার পাশাপাশি আরও বেশি ক্ষমতা ওয়েলসের হাতে দেওয়ার দাবি তুলেছেন।

উত্তর আয়ারল্যান্ডের পরিস্থিতি আরও আলাদা। সেখানে যুক্তরাজ্যের অংশ হিসেবে থাকা এবং আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পক্ষে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিভাজন রয়েছে। সিন ফেইন নেতৃত্বাধীন রাজনীতিকরা ভবিষ্যতে আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে একীভূত হওয়ার বিষয়ে গণভোটের দাবি তুলছেন।

এখনই এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার সুযোগ নেই। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘোষণা মূলত স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক পরিবর্তনের দাবিকে আরও সংগঠিত করার একটি পদক্ষেপ। কোনো অঞ্চল যুক্তরাজ্য থেকে বেরিয়ে যেতে চাইলে দীর্ঘ রাজনৈতিক ও আইনগত প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হবে।

তবে একই সময়ে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের জাতীয়তাবাদী দলগুলো একসঙ্গে এমন অবস্থান নেওয়ায় বিষয়টি ব্রিটিশ রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তিন অঞ্চলের নেতারাই ওয়েস্টমিনস্টারের কাছ থেকে আরও ক্ষমতা এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে জনগণের অধিকারের কথা বলছেন।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার করা দরকার। ব্রিটিশ সাম্রাজ্য আর যুক্তরাজ্য (UK) এক জিনিস নয়। ব্রিটিশ সাম্রাজ্য বহু আগেই বিলুপ্ত হয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাজ্যের বাইরে ব্রিটিশ সার্বভৌমত্বের অধীনে থাকা ১৪টি Overseas Territory রয়েছে।

তাই স্কটল্যান্ড, ওয়েলস বা উত্তর আয়ারল্যান্ড স্বাধীন হয়ে গেলে ‘ব্রিটিশ সাম্রাজ্য বাংলাদেশের চেয়ে ছোট হয়ে যাবে’—এটি সরাসরি ভৌগোলিক হিসাবের বক্তব্য নয়। বরং এটি ঐতিহাসিক ব্রিটিশ সাম্রাজ্য থেকে বর্তমান যুক্তরাজ্যের সীমিত ভূখণ্ডে পরিণত হওয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিবর্তন বোঝাতে ব্যবহার করা হচ্ছে।

বর্তমান আলোচনার আসল বিষয় হলো যুক্তরাজ্য তার চার অংশের বর্তমান রাজনৈতিক কাঠামো ধরে রাখতে পারবে কি না। স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডে স্বাধীনতা বা আরও স্বায়ত্তশাসনের দাবি ভবিষ্যতে কতটা শক্তিশালী হয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

স্কটল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ডে স্বাধীনতা বা সাংবিধানিক পরিবর্তনের দাবিতে রাজনৈতিক চাপ বাড়তে পারে। ওয়েলসেও আরও ক্ষমতা পাওয়ার দাবি জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে গণভোট, আইনগত অনুমোদন এবং জনগণের সমর্থন—সবকিছুই ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।

সালমান ফারসি/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে