×
ঢাকা, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে যা বললেন প্রতিমন্ত্রী

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৩ ১৫:৫৫:০২
প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে যা বললেন প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। একই সঙ্গে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা ও অযোগ্যতার বিষয়টি নির্বাচন কমিশন নির্ধারণ করবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলির সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে বিভ্রান্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই।তার বক্তব্য অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই।

এ কারণে নির্বাচন সামনে রেখে প্রার্থীদের মধ্যে শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে যে ধরনের প্রশ্ন বা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, তা দূর করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।ব্রিফিংয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টিও উঠে আসে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন কি না, সেটি নির্বাচন কমিশন নির্ধারণ করবে।এ ক্ষেত্রে আইন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনা করা হবে। সবকিছু বিবেচনা করে নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থিতা নিয়ে কোনো আইনগত প্রশ্ন বা ব্যাখ্যার প্রয়োজন হলে নির্বাচন কমিশন বিষয়টি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠাতে পারে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

সেক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা বা অবস্থান পরিষ্কার করবে।অর্থাৎ এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নটি শুধু রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয় নয়; সংশ্লিষ্ট আইন, বিধিমালা ও নীতিমালাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, নির্বাচনে কোনো ব্যক্তি প্রার্থী হতে পারবেন কি না, অর্থাৎ তার যোগ্যতা বা অযোগ্যতার বিষয়টি নির্ধারণের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের।

তাই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহীদের নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত ও সংশ্লিষ্ট আইন-কানুন অনুসরণ করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে সরকারের ওপর দায় চাপানোরও বিরোধিতা করেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে সরকারকে দায়ী করা ঠিক হবে না। সংসদে সংশ্লিষ্ট বিল পাস হওয়ার সময় যারা এখন বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তারাও সংসদে উপস্থিত ছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এর মাধ্যমে প্রতিমন্ত্রী মূলত বোঝাতে চেয়েছেন, প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা বা অযোগ্যতার বিষয়ে যে আইনি কাঠামো তৈরি হয়েছে, সেটিকে রাজনৈতিকভাবে একতরফাভাবে সরকারের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।

এদিকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলির বৈঠকেও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।বৈঠকে স্থানীয় উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলি বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে তাদের আগ্রহ রয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় উন্নয়ন ও জলবায়ু সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়েও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই—প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্যে বিষয়টি নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি অনেকটাই কমতে পারে।

তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থিতার ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তই গুরুত্বপূর্ণ হবে। প্রয়োজন হলে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত নিয়েও বিষয়টি পরিষ্কার করা হতে পারে।

ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে কারা প্রার্থী হতে পারবেন, কারা পারবেন না এবং কোন কোন শর্ত প্রযোজ্য হবে—এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্টদের।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে